Bengali Abridged Explanation of the Quran — আলে ইমরান 3:1 – আন-নিসা 4:176
Contents
- আলে ইমরান 3:1
- আলে ইমরান 3:2
- আলে ইমরান 3:3
- আলে ইমরান 3:4
- আলে ইমরান 3:5
- আলে ইমরান 3:6
- আলে ইমরান 3:7
- আলে ইমরান 3:8
- আলে ইমরান 3:9
- আলে ইমরান 3:10
- আলে ইমরান 3:11
- আলে ইমরান 3:12
- আলে ইমরান 3:13
- আলে ইমরান 3:14
- আলে ইমরান 3:15
- আলে ইমরান 3:16
- আলে ইমরান 3:17
- আলে ইমরান 3:18
- আলে ইমরান 3:19
- আলে ইমরান 3:20
- আলে ইমরান 3:21
- আলে ইমরান 3:22
- আলে ইমরান 3:23
- আলে ইমরান 3:24
- আলে ইমরান 3:25
- আলে ইমরান 3:26
- আলে ইমরান 3:27
- আলে ইমরান 3:28
- আলে ইমরান 3:29
- আলে ইমরান 3:30
- আলে ইমরান 3:31
- আলে ইমরান 3:32
- আলে ইমরান 3:33
- আলে ইমরান 3:34
- আলে ইমরান 3:35
- আলে ইমরান 3:36
- আলে ইমরান 3:37
- আলে ইমরান 3:38
- আলে ইমরান 3:39
- আলে ইমরান 3:40
- আলে ইমরান 3:41
- আলে ইমরান 3:42
- আলে ইমরান 3:43
- আলে ইমরান 3:44
- আলে ইমরান 3:45
- আলে ইমরান 3:46
- আলে ইমরান 3:47
- আলে ইমরান 3:48
- আলে ইমরান 3:49
- আলে ইমরান 3:50
- আলে ইমরান 3:51
- আলে ইমরান 3:52
- আলে ইমরান 3:53
- আলে ইমরান 3:54
- আলে ইমরান 3:55
- আলে ইমরান 3:56
- আলে ইমরান 3:57
- আলে ইমরান 3:58
- আলে ইমরান 3:59
- আলে ইমরান 3:60
- আলে ইমরান 3:61
- আলে ইমরান 3:62
- আলে ইমরান 3:63
- আলে ইমরান 3:64
- আলে ইমরান 3:65
- আলে ইমরান 3:66
- আলে ইমরান 3:67
- আলে ইমরান 3:68
- আলে ইমরান 3:69
- আলে ইমরান 3:70
- আলে ইমরান 3:71
- আলে ইমরান 3:72
- আলে ইমরান 3:73
- আলে ইমরান 3:74
- আলে ইমরান 3:75
- আলে ইমরান 3:76
- আলে ইমরান 3:77
- আলে ইমরান 3:78
- আলে ইমরান 3:79
- আলে ইমরান 3:80
- আলে ইমরান 3:81
- আলে ইমরান 3:82
- আলে ইমরান 3:83
- আলে ইমরান 3:84
- আলে ইমরান 3:85
- আলে ইমরান 3:86
- আলে ইমরান 3:87
- আলে ইমরান 3:88
- আলে ইমরান 3:89
- আলে ইমরান 3:90
- আলে ইমরান 3:91
- আলে ইমরান 3:92
- আলে ইমরান 3:93
- আলে ইমরান 3:94
- আলে ইমরান 3:95
- আলে ইমরান 3:96
- আলে ইমরান 3:97
- আলে ইমরান 3:98
- আলে ইমরান 3:99
- আলে ইমরান 3:100
- আলে ইমরান 3:101
- আলে ইমরান 3:102
- আলে ইমরান 3:103
- আলে ইমরান 3:104
- আলে ইমরান 3:105
- আলে ইমরান 3:106
- আলে ইমরান 3:107
- আলে ইমরান 3:108
- আলে ইমরান 3:109
- আলে ইমরান 3:110
- আলে ইমরান 3:111
- আলে ইমরান 3:112
- আলে ইমরান 3:113
- আলে ইমরান 3:114
- আলে ইমরান 3:115
- আলে ইমরান 3:116
- আলে ইমরান 3:117
- আলে ইমরান 3:118
- আলে ইমরান 3:119
- আলে ইমরান 3:120
- আলে ইমরান 3:121
- আলে ইমরান 3:122
- আলে ইমরান 3:123
- আলে ইমরান 3:124
- আলে ইমরান 3:125
- আলে ইমরান 3:126
- আলে ইমরান 3:127
- আলে ইমরান 3:128
- আলে ইমরান 3:129
- আলে ইমরান 3:130
- আলে ইমরান 3:131
- আলে ইমরান 3:132
- আলে ইমরান 3:133
- আলে ইমরান 3:134
- আলে ইমরান 3:135
- আলে ইমরান 3:136
- আলে ইমরান 3:137
- আলে ইমরান 3:138
- আলে ইমরান 3:139
- আলে ইমরান 3:140
- আলে ইমরান 3:141
- আলে ইমরান 3:142
- আলে ইমরান 3:143
- আলে ইমরান 3:144
- আলে ইমরান 3:145
- আলে ইমরান 3:146
- আলে ইমরান 3:147
- আলে ইমরান 3:148
- আলে ইমরান 3:149
- আলে ইমরান 3:150
- আলে ইমরান 3:151
- আলে ইমরান 3:152
- আলে ইমরান 3:153
- আলে ইমরান 3:154
- আলে ইমরান 3:155
- আলে ইমরান 3:156
- আলে ইমরান 3:157
- আলে ইমরান 3:158
- আলে ইমরান 3:159
- আলে ইমরান 3:160
- আলে ইমরান 3:161
- আলে ইমরান 3:162
- আলে ইমরান 3:163
- আলে ইমরান 3:164
- আলে ইমরান 3:165
- আলে ইমরান 3:166
- আলে ইমরান 3:167
- আলে ইমরান 3:168
- আলে ইমরান 3:169
- আলে ইমরান 3:170
- আলে ইমরান 3:171
- আলে ইমরান 3:172
- আলে ইমরান 3:173
- আলে ইমরান 3:174
- আলে ইমরান 3:175
- আলে ইমরান 3:176
- আলে ইমরান 3:177
- আলে ইমরান 3:178
- আলে ইমরান 3:179
- আলে ইমরান 3:180
- আলে ইমরান 3:181
- আলে ইমরান 3:182
- আলে ইমরান 3:183
- আলে ইমরান 3:184
- আলে ইমরান 3:185
- আলে ইমরান 3:186
- আলে ইমরান 3:187
- আলে ইমরান 3:188
- আলে ইমরান 3:189
- আলে ইমরান 3:190
- আলে ইমরান 3:191
- আলে ইমরান 3:192
- আলে ইমরান 3:193
- আলে ইমরান 3:194
- আলে ইমরান 3:195
- আলে ইমরান 3:196
- আলে ইমরান 3:197
- আলে ইমরান 3:198
- আলে ইমরান 3:199
- আলে ইমরান 3:200
- আন-নিসা 4:1
- আন-নিসা 4:2
- আন-নিসা 4:3
- আন-নিসা 4:4
- আন-নিসা 4:5
- আন-নিসা 4:6
- আন-নিসা 4:7
- আন-নিসা 4:8
- আন-নিসা 4:9
- আন-নিসা 4:10
- আন-নিসা 4:11
- আন-নিসা 4:12
- আন-নিসা 4:13
- আন-নিসা 4:14
- আন-নিসা 4:15
- আন-নিসা 4:16
- আন-নিসা 4:17
- আন-নিসা 4:18
- আন-নিসা 4:19
- আন-নিসা 4:20
- আন-নিসা 4:21
- আন-নিসা 4:22
- আন-নিসা 4:23
- আন-নিসা 4:24
- আন-নিসা 4:25
- আন-নিসা 4:26
- আন-নিসা 4:27
- আন-নিসা 4:28
- আন-নিসা 4:29
- আন-নিসা 4:30
- আন-নিসা 4:31
- আন-নিসা 4:32
- আন-নিসা 4:33
- আন-নিসা 4:34
- আন-নিসা 4:35
- আন-নিসা 4:36
- আন-নিসা 4:37
- আন-নিসা 4:38
- আন-নিসা 4:39
- আন-নিসা 4:40
- আন-নিসা 4:41
- আন-নিসা 4:42
- আন-নিসা 4:43
- আন-নিসা 4:44
- আন-নিসা 4:45
- আন-নিসা 4:46
- আন-নিসা 4:47
- আন-নিসা 4:48
- আন-নিসা 4:49
- আন-নিসা 4:50
- আন-নিসা 4:51
- আন-নিসা 4:52
- আন-নিসা 4:53
- আন-নিসা 4:54
- আন-নিসা 4:55
- আন-নিসা 4:56
- আন-নিসা 4:57
- আন-নিসা 4:58
- আন-নিসা 4:59
- আন-নিসা 4:60
- আন-নিসা 4:61
- আন-নিসা 4:62
- আন-নিসা 4:63
- আন-নিসা 4:64
- আন-নিসা 4:65
- আন-নিসা 4:66
- আন-নিসা 4:67
- আন-নিসা 4:68
- আন-নিসা 4:69
- আন-নিসা 4:70
- আন-নিসা 4:71
- আন-নিসা 4:72
- আন-নিসা 4:73
- আন-নিসা 4:74
- আন-নিসা 4:75
- আন-নিসা 4:76
- আন-নিসা 4:77
- আন-নিসা 4:78
- আন-নিসা 4:79
- আন-নিসা 4:80
- আন-নিসা 4:81
- আন-নিসা 4:82
- আন-নিসা 4:83
- আন-নিসা 4:84
- আন-নিসা 4:85
- আন-নিসা 4:86
- আন-নিসা 4:87
- আন-নিসা 4:88
- আন-নিসা 4:89
- আন-নিসা 4:90
- আন-নিসা 4:91
- আন-নিসা 4:92
- আন-নিসা 4:93
- আন-নিসা 4:94
- আন-নিসা 4:95
- আন-নিসা 4:96
- আন-নিসা 4:97
- আন-নিসা 4:98
- আন-নিসা 4:99
- আন-নিসা 4:100
- আন-নিসা 4:101
- আন-নিসা 4:102
- আন-নিসা 4:103
- আন-নিসা 4:104
- আন-নিসা 4:105
- আন-নিসা 4:106
- আন-নিসা 4:107
- আন-নিসা 4:108
- আন-নিসা 4:109
- আন-নিসা 4:110
- আন-নিসা 4:111
- আন-নিসা 4:112
- আন-নিসা 4:113
- আন-নিসা 4:114
- আন-নিসা 4:115
- আন-নিসা 4:116
- আন-নিসা 4:117
- আন-নিসা 4:118
- আন-নিসা 4:119
- আন-নিসা 4:120
- আন-নিসা 4:121
- আন-নিসা 4:122
- আন-নিসা 4:123
- আন-নিসা 4:124
- আন-নিসা 4:125
- আন-নিসা 4:126
- আন-নিসা 4:127
- আন-নিসা 4:128
- আন-নিসা 4:129
- আন-নিসা 4:130
- আন-নিসা 4:131
- আন-নিসা 4:132
- আন-নিসা 4:133
- আন-নিসা 4:134
- আন-নিসা 4:135
- আন-নিসা 4:136
- আন-নিসা 4:137
- আন-নিসা 4:138
- আন-নিসা 4:139
- আন-নিসা 4:140
- আন-নিসা 4:141
- আন-নিসা 4:142
- আন-নিসা 4:143
- আন-নিসা 4:144
- আন-নিসা 4:145
- আন-নিসা 4:146
- আন-নিসা 4:147
- আন-নিসা 4:148
- আন-নিসা 4:149
- আন-নিসা 4:150
- আন-নিসা 4:151
- আন-নিসা 4:152
- আন-নিসা 4:153
- আন-নিসা 4:154
- আন-নিসা 4:155
- আন-নিসা 4:156
- আন-নিসা 4:157
- আন-নিসা 4:158
- আন-নিসা 4:159
- আন-নিসা 4:160
- আন-নিসা 4:161
- আন-নিসা 4:162
- আন-নিসা 4:163
- আন-নিসা 4:164
- আন-নিসা 4:165
- আন-নিসা 4:166
- আন-নিসা 4:167
- আন-নিসা 4:168
- আন-নিসা 4:169
- আন-নিসা 4:170
- আন-নিসা 4:171
- আন-নিসা 4:172
- আন-নিসা 4:173
- আন-নিসা 4:174
- আন-নিসা 4:175
- আন-নিসা 4:176
আলে ইমরান 3:1
১. الـم এ বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলো সূরা বাকারার শুরুতেও উল্লিখিত হয়েছে। তাতে এ কুর‘আনের ন্যায় আরেকটি কুর‘আন নিয়ে আসার ব্যাপারে আরবদের অক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অথচ সেটি এ জাতীয় অক্ষর দিয়েই গঠিত যা দিয়ে সূরাটি শুরু করা হয়েছে। উপরন্তু তারা নিজেদের সকল কথাবার্তা ও লেখালেখি এ জাতীয় অক্ষর দিয়েই করে থাকে।
আলে ইমরান 3:2
২. তিনি আল্লাহ যিনি ব্যতীত ইবাদাতের সত্যিকার উপযুক্ত আর কেউ নেই। তিনি একটি পরিপূর্ণ জীবনের অধিকারী। যাতে মৃত্যু ও কোন ধরনের ত্রæটি নেই। তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠিত। তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি তিনি অমুখাপেক্ষী। বরং তাঁর মাধ্যমেই তাঁর সকল সৃষ্টি প্রতিষ্ঠিত। সর্ববস্থায় সেগুলো তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী।
আলে ইমরান 3:3
৩-৪. হে নবী! তিনিই তোমার উপর কুর‘আন নাযিল করেছেন। যার সংবাদগুলো সত্য এবং তার বিধানগুলো ইনসাফে পরিপূর্ণ। যা পূর্বের ঐশী কিতাবগুলোর সত্যতা প্রমাণ করছে। তাতে কোন ধরনের দ্ব›দ্ব নেই। তিনি তোমার উপর কুর‘আন নাযিল করার পূর্বে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর উপর তাওরাত এবং ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর উপর ইঞ্জীল নাযিল করেছেন। এ সকল ঐশী কিতাব সবই হিদায়েতে পরিপূর্ণ। যা মানুষদেরকে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সঠিক পথ দেখায়। পরিশেষে তিনি তোমার উপর কুর‘আন নাযিল করেছেন। যার মাধ্যমে মিথ্যা থেকে সত্য এবং ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়েত চেনা যায়। যারা আপনার উপর নাযিলকৃত আল্লাহর আয়াতগুলোর সাথে কুফরি করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা পরাক্রমশালী। তাঁকে কোন কিছুই পরাজিত করতে পারে না। তিনি তাঁর আদেশ অমান্যকারী ও তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকারকারীদের থেকে সত্যিই প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকেন।
আলে ইমরান 3:4
৩-৪. হে নবী! তিনিই তোমার উপর কুর‘আন নাযিল করেছেন। যার সংবাদগুলো সত্য এবং তার বিধানগুলো ইনসাফে পরিপূর্ণ। যা পূর্বের ঐশী কিতাবগুলোর সত্যতা প্রমাণ করছে। তাতে কোন ধরনের দ্ব›দ্ব নেই। তিনি তোমার উপর কুর‘আন নাযিল করার পূর্বে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর উপর তাওরাত এবং ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর উপর ইঞ্জীল নাযিল করেছেন। এ সকল ঐশী কিতাব সবই হিদায়েতে পরিপূর্ণ। যা মানুষদেরকে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সঠিক পথ দেখায়। পরিশেষে তিনি তোমার উপর কুর‘আন নাযিল করেছেন। যার মাধ্যমে মিথ্যা থেকে সত্য এবং ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়েত চেনা যায়। যারা আপনার উপর নাযিলকৃত আল্লাহর আয়াতগুলোর সাথে কুফরি করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা পরাক্রমশালী। তাঁকে কোন কিছুই পরাজিত করতে পারে না। তিনি তাঁর আদেশ অমান্যকারী ও তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকারকারীদের থেকে সত্যিই প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকেন।
আলে ইমরান 3:5
৫. পৃথিবী ও আকাশের কোন কিছুই আল্লাহর নিকট গোপন নয়। তাঁর জ্ঞান প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব কিছুকেই বেষ্টন করে আছে।
আলে ইমরান 3:6
৬. তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের পেটে যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে তথা বিভিন্ন আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। যেমন: পুরুষ-মহিলা, সুন্দর-অসুন্দর ও সাদা-কালো ইত্যাদি। তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। তিনি পরাক্রমশালী ও অপরাজেয়। সৃষ্টি, পরিচালনা ও শরীয়তের বিধান রচনার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আলে ইমরান 3:7
৭. হে নবী! তিনি তোমার উপর কুর‘আন নাযিল করেছেন। তাতে রয়েছে সুস্পষ্ট অর্থ বিশিষ্ট আয়াতসমূহ। যা একেবারেই দ্ব্যর্থহীন। সেগুলো হলো কুর‘আনের মূল এবং সেগুলোই বেশিরভাগ। সমস্যার সমাধানে সেগুলোর দিকেই ফিরে যেতে হবে। আর কিছু আয়াত আছে যা দ্ব্যর্থবোধক এবং একাধিক অর্থের সম্ভাবনাময়। এসবের অর্থ অধিকাংশ মানুষের নিকটই অস্পষ্ট। সুতরাং যার অন্তরে সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঝোঁক আছে সেই দ্ব্যর্থহীন আয়াতগুলোকে ছেড়ে দ্ব্যর্থবোধক আয়াতগুলোকে গ্রহণ করে। বস্তুতঃ তারা এরই মাধ্যমে মানুষের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি করে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে চায়। তারা নিজেদের বাতিল মতাদর্শের পক্ষে আয়াতগুলোর মনগড়া ব্যাখ্যা দিতে চায়। অথচ এ আয়াতগুলোর সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক অভিজ্ঞ আলিম তারা বলে: আমরা পুরো কুর‘আনের উপরই ঈমান এনেছি। কারণ, এসবগুলো সত্যিই আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এসেছে। তারা দ্ব্যর্থহীন আয়াত অনুযায়ী দ্ব্যর্থবোধক আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। মূলতঃ সঠিক মেধা সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই উপদেশ গ্রহণ করতে চায় না।
আলে ইমরান 3:8
৮. জ্ঞানে পরিপক্ক ব্যক্তিরা বলেন: হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের অন্তরগুলোকে হিদায়েত দানের পর তা থেকে সরিয়ে দিবেন না। আপনি আমাদেরকে সত্য পরিপন্থী লোকদের পরিণতি থেকে রক্ষা করুন। আপনি আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে দয়া করুন। আমাদের অন্তরগুলোকে সঠিক পথ দেখান ও ভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করুন। হে প্রভু! নিশ্চয়ই আপনি অসীম দাতা ও পরম দয়ালু।
আলে ইমরান 3:9
৯. হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই আপনি সকল মানুষকে হিসাবের জন্য এমন এক দিন একত্র করবেন যা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সেটি সত্যিই একটি অনিবার্য বিষয়। হে প্রভু! নিশ্চয়ই আপনি কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।
আলে ইমরান 3:10
১০. নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে কুফরি করেছে তাদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ দুনিয়া ও আখিরাতের কোথাও আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। মূলতঃ যারা এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তারা জাহান্নামের ইন্ধন মাত্র। যার মাধ্যমে কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনকে প্রজ্জলিত করা হবে।
আলে ইমরান 3:11
১১. এ কাফিরদের অবস্থা ফিরআউনের বংশ ও ওদের অবস্থার ন্যায় যারা ইতিপূর্বে আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে এবং তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন। সে সময় তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের কোন কাজে আসেনি। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যে তার সাথে কুফরি করেছে ও তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন।
আলে ইমরান 3:12
১২. হে রাসূল! আপনি সকল কাফিরদেরকে বলে দিন: অচিরেই মু’মিনরা তোমাদেরকে পরাজিত করবে এবং তোমরা কুফরির উপর মৃত্যু বরণ করবে। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে একত্রিত করবেন। যা হবে তোমাদের জন্য একটি নিকৃষ্ট আবাসস্থান।
আলে ইমরান 3:13
১৩. সে দু’টি দলের মাঝে যারা বদরের দিন যুদ্ধের জন্য পরস্পর মুখোমুখী হয়েছিলো তোমাদের জন্য বিশেষ শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। সেগুলোর একটি হলো মু’মিনদের দল। তাঁরা আল্লাহর রাসূল ও সাহাবীদের দল। যাঁরা আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী এবং কাফিরদের মতাদর্শকে পরাজিত করার জন্য আল্লাহর দেখানো পথে যুদ্ধ করে। আর দ্বিতীয় দলটি হলো কাফিরদের দল। তারা হলো মক্কার কাফির। যারা নিজ এলাকা থেকে বংশ গৌরব ও অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে বের হয়েছে। যাদেরকে মু’মিনরা নিজ চর্ম চোখে নিজেদের দ্বিগুণ দেখেছে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বন্ধুদেরকে জয়ী করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকেই সাহায্য করেন। এর মাঝে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য বিশেষ উপদেশ ও শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। যাতে তারা বুঝতে পারে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য মু’মিনদের জন্য, তাদের সংখ্যা যতো কমই হোক না কেন। আর পরাজয় বাতিলপন্থীদের জন্য, তাদের সংখ্যা যতো বেশিই হোক না কেন।
আলে ইমরান 3:14
১৪. আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে অবগতি দিচ্ছেন যে, তিনি মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ দুনিয়ার ভোগ-বিলাসকে তাদের পছন্দনীয় করে সৃষ্টি করেছেন। যেমন: মহিলা, সন্তানাদি এবং জমানো অঢেল সম্পদ। চাই তা স্বর্ণ-রুপা হোক কিংবা চিহ্নিত পছন্দনীয় ঘোড়া অথবা চতুষ্পদ জন্তু তথা উট, গরু ও ছাগল এবং জমিনের ফসলই হোক। এগুলো মূলতঃ দুনিয়ার জীবনের ভোগ-বিলাস। কিছু সময় মানুষ তা ভোগ করে অতঃপর তা হারিয়ে যায়। সবকিছু রেখে তাকে পরপারে চলে যেতে হয়। এ জন্য একজন মু’মিনের সেগুলোর সাথে নিজের মনকে আবদ্ধ করা উচিত নয়। বস্তুতঃ একমাত্র আল্লাহর নিকটেই রয়েছে সুন্দর আবাস। আর তা হলো এমন জান্নাত যার প্রশস্ততা হচ্ছে আকাশ ও জমিন সমতুল্য।
আলে ইমরান 3:15
১৫. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আমি কি তোমাদেরকে এ ভোগ-বিলাসের চেয়ে আরো উত্তম কিছুর সংবাদ দেবো না? যারা আল্লাহর আনুগত্য করে ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ ছেড়ে শুধু তাঁকেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাতসমূহ যেগুলোর অট্টালিকা ও বাগ-বাগিচার নি¤œদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় অসংখ্য ঝর্ণাধারা। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। কোন মৃত্যু ও ধ্বংস তাদেরকে স্পর্শ করবে না। এমনকি তাতে রয়েছে তাদের জন্য এমন সব সাথী-সঙ্গীনী যাদের গঠন ও চরিত্র সকল প্রকারের ত্রæটিমুক্ত। উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি। তিনি আর কখনো তাদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন না। বস্তুতঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সর্বাবস্থায়ই দেখেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই লুকায়িত নয়। তাই অচিরেই তিনি তাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:16
১৬. জান্নাতের অধিবাসীগণ তাদের প্রভুর নিকট দু‘আ করতে গিয়ে বলে: হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই আমরা আপনি ও আপনার রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাবের উপর ঈমান এনেছি। আমরা আপনার দেয়া শরীয়তের অনুসরণ করছি। তাই আপনি আমাদের গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দিন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
আলে ইমরান 3:17
১৭. তারা আল্লাহর আনুগত্য ও গুনাহ পরিত্যাগ এবং তাদের উপর নেমে আসা বিপদাপদের ব্যাপারে ধৈর্যশীল। বস্তুতঃ তারা নিজেদের কথা ও কাজে সত্যবাদী, আল্লাহর পরিপূর্ণ আনুগত্যকারী, তাঁর পথে সম্পদ ব্যয়কারী আর রাতের শেষের দিকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনাকারী। কারণ, সে সময়ের দু‘আ কবুল হওয়ার বেশি নিকটবর্তী এবং মানুষের অন্তর সে সময় সকল ধরনের ব্যস্ততামুক্ত।
আলে ইমরান 3:18
১৮. আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি হলেন ইবাদাতের উপযুক্ত সত্যিকারের মা’বূদ; আর কেউ নয়। এটা এ জন্য যে, তিনি তাঁর উপাস্য হওয়ার ব্যাপারে ধর্মীয় ও বৈষয়িক অনেকগুলো প্রমাণ দাঁড় করিয়েছেন। একইভাবে ফিরিশতারা এবং জ্ঞানবান লোকেরাও এ ব্যাপারে সাক্ষী। বস্তুতঃ তারা মহান সাক্ষ্যযোগ্য একটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে। আর তা হলো এই যে, তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর দেয়া শরীয়তের বিধি-বিধান শাশ্বত ও সার্বজনীন এবং সকল সৃষ্টির ব্যাপারে তাঁর ব্যবস্থাগ্রহণ সর্ববিচারে ইনসাফপূর্ণ। তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। তিনি হলেন পরাক্রমশালী; তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তিনি তাঁর শরীয়ত, পরিচালনা ও সৃষ্টির ব্যাপারে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আলে ইমরান 3:19
১৯. আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম। আর তা হলো এক আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর সামনে ইবাদাতের জন্য নিজকে সমর্পণ করা। সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ পর্যন্ত সকল রাসূলের উপর ঈমান আনা। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তাই তাঁর শরীয়ত ছাড়া অন্য কিছু কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। ইহুদি ও খ্রিস্টানরা দুনিয়ার লোভে ও হিংসাবশত তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান এসে যাওয়ার পরও তারা নিজেদের ধর্ম নিয়ে দ্ব›দ্ব করে বিভিন্ন দল ও গ্রæপে ভাগ হয়ে গেছে। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর রাসূলের উপর নাযিলকৃত তাঁর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ও তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকারকারীদের দ্রæত হিসাব নিবেন।
আলে ইমরান 3:20
২০. হে রাসূল! তারা যদি আপনার উপর নাযিলকৃত সত্য নিয়ে আপনার সাথে ঝগড়া করে তাহলে আপনি তাদের উত্তরে বলুন: আমি ও আমার মু’মিন অনুসারীরা আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণকারী। হে রাসূল! আপনি আহলে কিতাব ও মুশরিকদেরকে বলে দিন, তোমরাও কি নিষ্ঠার সাথে আমার আনীত বিধানের অনুসারী হয়ে আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করেছো? বস্তুতঃ তারা যদি আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করে তাঁর শরীয়তের অনুসরণ করে তাহলে তারা হিদায়েতের পথেই রয়েছে। আর যদি তারা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তাদের নিকট আপনার উপর নাযিলকৃত বিধানের প্রচার ছাড়া আপনার আর কোন দায়িত্ব নেই। তাদের বিষয় আল্লাহ তা‘আলার নিকটই সমর্পিত। কারণ, তিনি তাঁর সকল বান্দাদেরকে দেখছেন। অচিরেই তিনি প্রতিটি ব্যক্তিকে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:21
২১. যারা আল্লাহর নাযিলকৃত প্রমাণগুলোকে অস্বীকার করে, তাঁর নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, আর এমন লোকদেরকেও হত্যা করে যারা ন্যায়, ইনসাফ ও সততার নির্দেশ দিয়ে থাকে। আপনি এ হত্যাকারীদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।
আলে ইমরান 3:22
২২. যারা এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তাদের আমলগুলো মূলতঃ নষ্ট হয়ে গেছে। তারা দুনিয়া ও আখিরাতে তা দিয়ে আর লাভবান হতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর উপর তাদের কোন ঈমান নেই। তাই সেদিন তাদের জন্য এমন কোন সাহায্যকারী থাকবে না যারা তাদের শাস্তিকে প্রতিরোধ করবে।
আলে ইমরান 3:23
২৩. হে নবী! আপনি কি দেখেননি সে ইহুদিদের অবস্থা যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাওরাতের জ্ঞান দিয়েছেন। যার মাঝে আপনার নবুওয়াতের প্রমাণও রয়েছে। তাদেরকে যখন আল্লাহর কিতাব-তাওরাতের দিকে ফিরে আসার আহŸান করা হয়, যাতে করে তাদের মধ্যকার দ্ব›দ্বপূর্ণ বিষয়াদির ফায়সালা করা সম্ভবপর হয় তখন তাদের আলিম ও নেতাদের একটি দল তাদের প্রবৃত্তি মাফিক না হওয়ার দরুন আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করে। অথচ তাদের উচিত ছিলো তারাই যেন হয় তাওরাতের আলোকে দ্রæত সত্য গ্রহণকারী। কারণ, তারা এর অনুসরণের দাবি করে।
আলে ইমরান 3:24
২৪. সত্য থেকে তাদের প্রত্যাবর্তনের হেতু এই যে, তারা মনে করে, কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন তাদেরকে অল্প কিছু দিনের জন্যই স্পর্শ করবে। অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের এ মিথ্যা, বাতিল ও বানোয়াট ধারণা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলেছে। তাই তারা আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের সাথে হঠকারিতা দেখিয়েছে।
আলে ইমরান 3:25
২৫. সে দিন তাদের অবস্থা কেমন হবে যে দিন আমি তাদেরকে হিসাবের জন্য একত্রিত করবো। সে কিয়ামতের দিনটি অবধারিত। তখন তাদের অবস্থা খুবই নিকৃষ্টতর হবে। সে সময় আমি তাদের প্রত্যেককে তাদের কর্মের উপযুক্ত প্রতিদান দেবো। সে দিন কারো পাওনা সাওয়াব কমিয়ে কিংবা তার অর্জিত গুনাহ বাড়িয়ে কোন ধরনের যুলুম করা হবে না।
আলে ইমরান 3:26
২৬. হে রাসূল! আপনি নিজ প্রভুর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বলুন: হে আল্লাহ! আপনিই তো দুনিয়া ও আখিরাতের সকল ক্ষমতার মালিক। আপনি আপনার সৃষ্টির যাকে চান ক্ষমতা দেন। আর যাকে চান তার থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন। আপনি যাকে চান সম্মানিত করেন। আর যাকে চান লাঞ্ছিত করেন। তা সবই আপনার সঠিক প্রজ্ঞা ও ইনসাফের ভিত্তিতে। কেবল আপনার হাতেই সকল কল্যাণ। আপনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।
আলে ইমরান 3:27
২৭. আপনার ক্ষমতার এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ হলো আপনি রাতকে দিনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিনকে লম্বা করে দেন। আবার দিনকে রাতের মধ্যে ঢুকিয়ে রাতকে লম্বা করে দেন। আপনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন। যেমন: ফসলকে দানা থেকে এবং মু’মিনকে কাফির থেকে। এমনিভাবে আপনি জীবিত থেকে মৃতকে বের করে থাকেন। যেমন: মুরগী থেকে ডিম এবং মু’মিন থেকে কাফির। আর আপনি যাকে চান বিনা হিসাবে সুপ্রশস্ত রিযিক দিয়ে থাকেন।
আলে ইমরান 3:28
২৮. হে মু’মিনরা! তোমরা কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নিয়ো না। এমন বন্ধু যে, মু’মিনদেরকে বাদ দিয়ে তোমরা তাদেরকেই ভালোবাসবে এবং তাদেরই সহযোগিতা করবে। যে ব্যক্তি এমন করলো সে যেন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলো। আর আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। তবে যদি তোমরা তাদের করায়ত্ত থাকো এবং নিজেদের ব্যাপারে তাদেরকে ভয় পাও তাহলে তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য নিজেদের অন্তরে শত্রæতা লুকিয়ে রেখে তাদের সাথে নরম কথা ও নরম আচরণ করায় কোন অসুবিধে নেই। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে নিজের ভয় দেখাচ্ছেন তাই তোমরা তাঁকেই ভয় করো। আর কখনো তোমরা গুনাহে লিপ্ত হয়ে তাঁর বিরাগভাজন হতে যেয়ো না। কিয়ামতের দিন আমলের প্রতিদান পাওয়ার জন্য আল্লাহর বান্দাদেরকে কেবল তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
আলে ইমরান 3:29
২৯. হে নবী! আপনি বলে দিন: তোমরা যদি আল্লাহর নিষেধকৃত বন্ধুত্ব নিজেদের অন্তরে লুকিয়ে রাখো কিংবা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা‘আলা সবই জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। তিনি আকাশ ও জমিনের সব কিছুই জানেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। কোন কিছু তাঁকে কোন ব্যাপারে অক্ষম করতে পারে না।
আলে ইমরান 3:30
৩০. কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার নেক আমলের সাওয়াব পাবে। তাকে তা পুরোপুরিভাবে দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের ঘাটতি করা হবে না। আর যে খারাপ কাজ করেছে সে এই আকাক্সক্ষা করবে যে, আহ! যদি এ পাপ ও তার মাঝে দীর্ঘ সময়ের দূরত্ব সৃষ্টি হতো। তার এ আশা কখনো পূরণ হবার নয়। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাঁর নিজের ভয় দেখাচ্ছেন। তাই তোমরা পাপে লিপ্ত হয়ে তাঁর বিরাগভাজন হতে যেয়ো না। বস্তুতঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়াশীল। তাই তো তিনি তাদেরকে পূর্ব থেকেই ভবিষ্যত জীবনে আশু বিপদ সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছেন ও সতর্ক করছেন।
আলে ইমরান 3:31
৩১. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: যদি তোমরা সত্যিকারার্থে আল্লাহকে ভয় করে থাকো তাহলে তোমরা প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আমার আনীত বিধানের অনুসরণ করো। তাহলে তোমরা আল্লাহর ভালোবাসা পাবে এবং তিনি তোমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে তাওবাকারীদের প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আলে ইমরান 3:32
৩২. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: তোমরা সকল আদেশ-নিষেধ মেনে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। তারা যদি এ কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তারা যেন অবশ্যই জেনে রাখে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্যকারী কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।
আলে ইমরান 3:33
৩৩. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আদম (আলাইহিস-সালাম) কে সমগ্র বিশ্ববাসীর উপর প্রাধান্য দিয়ে ফিরিশতাদের সাজদাহর জন্য মনোনীত করেছেন। আর নূহ (আলাইহিস-সালাম) কে বিশ্ববাসীর প্রথম রাসূল হিসাবে মনোনীত করেছেন। তেমনিভাবে তিনি ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর বংশধরদেরকেও মনোনীত করেছেন। তথা তাঁর বংশে নবুওয়াতের ধারা চালু রেখেছেন। অনুরূপভাবে তিনি ইমরানের বংশধরদেরকেও মনোনীত করেছেন। বস্তুতঃ তিনি এদের সবাইকেই চয়ন করেছেন তথা সে যুগের লোকদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন।
আলে ইমরান 3:34
৩৪. এ সকল নবীগণ ও তাঁদের আদর্শের অনুসারী নেক সন্তানরা আল্লাহর একত্ববাদ ও নেক আমলের ক্ষেত্রে একে অপরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে। তারা সম্মান ও ফযীলতের ক্ষেত্রে একে অপরের ওয়ারিশ। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল কথাই শুনছেন এবং তাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। তাই তিনি তাদের মধ্যকার যাকে চান মনোনীত করেন এবং যাকে চান বিশেষ কর্মের জন্য বাছাই করেন।
আলে ইমরান 3:35
৩৫. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) এর মা ইমরানের স্ত্রী বললো: হে আমার প্রভু! আমি নিজের উপর এ কাজটি বাধ্যতামূলক করে নিয়েছি যে, আমি আমার পেটের সন্তানটিকে আপনার সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করবো। সকল ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে সে কেবল আপনি ও আপনার ঘরের খিদমাত করবে। তাই আপনি তাকে আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি আমার দু‘আ শ্রবণকারী এবং আমার নিয়ত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত।
আলে ইমরান 3:36
৩৬. গর্ভটি পরিপূর্ণতা লাভের পর যখন সে তা প্রসব করেছে তখন সে কৈফিয়তের সূরে অর্থাৎ তার ধারণা ছিলো বাচ্চাটি ছেলে হবে অথচ তা মেয়ে হয়েছে তাই সে বললো: হে আমার প্রভু! আমি তো মেয়ে সন্তান প্রসব করেছি। অথচ আল্লাহ তো জানেনই সে কি প্রসব করেছে। বস্তুতঃ যে ছেলেটির সে আশা করছিলো তা শক্তি ও গঠনে প্রাপ্ত মেয়েটির মতো নয়। অতঃপর সে এও বললো যে, আমি মেয়েটির নাম রেখেছি মারইয়াম। আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে আপনার হিফাযত কামনা করছি।
আলে ইমরান 3:37
৩৭. বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তার মান্নতটিকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করেন এবং তাকে অতীব সুন্দরভাবে গড়ে তোলেন। ফলে তাঁর নেককার বান্দাদের অন্তর তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরিশেষে যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) তার অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পান। যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) যখনই তার ইবাদাতের জায়গায় যেতেন তখন তার নিকট কিছু না কিছু পানাহার সামগ্রী দেখতে পেতেন। তাই একদা তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: হে মারইয়াম! এ রিযিক তথা পানাহার সামগ্রী তোমার নিকট কোথা থেকে আসে? সে উত্তরে বললো: এ রিযিক আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান বিনা হিসাবে বিস্তর রিযিক দিয়ে থাকেন।
আলে ইমরান 3:38
৩৮. যখন যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) মারইয়াম বিনতে ইমরানের জন্য চিরায়ত নিয়মের বাইরে আল্লাহ তা‘আলাকে রিযিক দিতে দেখলেন তখন তিনি আল্লাহর নিকট সন্তানের আশা করলেন। যদিও তাঁর বয়স বেড়ে গেছে এবং তাঁর স্ত্রী বন্ধ্যা। তিনি বললেন: হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে একটি নেককার সন্তান দিন। নিশ্চয়ই আপনি আহŸানকারীর আহŸান শুনেন ও তার উত্তর দেন।
আলে ইমরান 3:39
৩৯. তিনি যখন তাঁর ইবাদাতের জায়গায় নামাযের জন্য দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন তখন ফিরিশতারা তাঁকে ডাক দিয়ে বললো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে ইয়াহইয়া নামক একটি সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তার বৈশিষ্ট্য হলো সে আল্লাহর বাণীর সত্যায়নকারী। সেই বাণীটি হলো ঈসা বিন মারইয়াম। কারণ, তাঁকে আল্লাহর বাণী তথা একটি নির্দেশ “হও” এর মাধ্যমে বিশেষভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। উপরন্তু এ সন্তানটি হবে জ্ঞান ও ইবাদাতে তার বংশের নেতৃস্থানীয়। সে নিজকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত ও নিয়ন্ত্রণে রাখবে। যার মধ্যে রয়েছে মহিলাদের নিকটবর্তী হওয়া। সে তার প্রভুর ইবাদাতে মশগুল থাকবে। উপরন্তু সে একজন নেককার নবী হবে।
আলে ইমরান 3:40
৪০. ফিরিশতারা যখন ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিলো তখন যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হে আমার প্রভু! আমার কী করে সন্তান হবে। আমি তো বুড়ো হয়ে গেছি। আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; তার কোন সন্তান হয় না। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কথার উত্তরে বললেন: তোমার বয়স বেড়ে যাওয়া এবং তোমার স্ত্রী বন্ধ্যা হওয়া সত্তে¡ও ইয়াহইয়ার জন্ম হবে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা যে সাধারণ নিয়মের বাইরেও যা চান তা সৃষ্টি করতে পারেন, এটি হবে তার বাস্তব দৃষ্টান্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু করতে সক্ষম। তিনি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী যা চান তাই করেন।
আলে ইমরান 3:41
৪১. যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হে আমার প্রভু! আমাদের মতো একজন জরাজীর্ণ বৃদ্ধ ও একজন বন্ধ্যা বৃদ্ধার ঘরে সন্তান জন্ম নেবার মতো অস্বাভাবিক ঘটনার ব্যাপারে আপনি আমার জন্য একটি আলামত ঠিক করে দিন। আল্লাহ তা‘আলা বললেন: তোমার আলামত হবে এই যে, তুমি তিন দিন ও তিন রাত ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া মানুষের সাথে কোন কথাই বলবে না। কিন্তু এটি তোমার শারীরিক কোন ত্রæটির কারণে নয়। অতএব তুমি রাতের শুরু ও শেষে বেশি বেশি করে আল্লাহকে ডাকো ও তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করো।
আলে ইমরান 3:42
৪২. হে রাসূল! আপনি সে সময়ের কথা স্মরণ করুন যখন ফিরিশতারা মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) কে বললো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে প্রশংসনীয় কিছু গুণাবলীর জন্য মনোনীত করে নিয়েছেন। আর আপনাকে সকল ত্রæটি থেকেও পবিত্র করেছেন। এমনকি তিনি আপনাকে বিশ্বের সকল মহিলার উপর অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন।
আলে ইমরান 3:43
৪৩. হে মারইয়াম! তুমি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে নামায পড়ো। আর তোমার প্রভুকে সাজদাহ করো। এমনকি যে সব নেককার বান্দা রুকু’ করে তাদের সাথে তুমিও রুকু’ করো।
আলে ইমরান 3:44
৪৪. হে রাসূল! যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) ও মারইয়াম সংক্রান্ত এ সংবাদটি একটি গাইবী সংবাদ যা আমি আপনাকে দিচ্ছি। আপনি তখন সেই আলিম ও নেককারদের কাছেই ছিলেন না যখন তারা মারইয়ামের প্রতিপালনে কে সর্বাধিক উপযুক্ত সে ব্যাপারে তর্ক করছিলো। পরিশেষে তারা কলম নিক্ষেপের মাধ্যমে এক বিশেষ লটারির ব্যবস্থা করলো। তখন যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) এর কলমই জয়যুক্ত হলো।
আলে ইমরান 3:45
৪৫. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন ফিরিশতারা বললো: হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে একটি সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছেন যে পিতা বিহীন জন্মগ্রহণ করবে। তার জন্ম হবে আল্লাহর একটি বিশেষ কথায় যে তিনি বলবেন: “হয়ে যাও” তখন আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তানটি হয়ে যাবে। সন্তানটির নাম হবে: মসীহ তথা ঈসা বিন মারইয়াম। দুনিয়া ও আখিরাতে তার সুউচ্চ মর্যাদা হবে। সে আল্লাহর নিকটবর্তীদেরও একজন হবে।
আলে ইমরান 3:46
৪৬. সে মানুষের সাথে কথা বলার উপযুক্ত হওয়ার আগেই ছোট্ট বাচ্চা থাকা অবস্থায়ই কথা বলবে। তেমনিভাবে বড় হয়েও কথা বলবে। যখন তার শক্তি ও পুরুষত্ব পরিপূর্ণতা লাভ করবে। তখন সে তাদেরকে এমন কাজের জন্য সম্বোধন করবে যা তাদের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার সমূহকল্যাণ বয়ে আনবে। উপরন্তু সে কথা ও কাজে একজন অন্যতম নেককার হিসেবে পরিগণিত হবে।
আলে ইমরান 3:47
৪৭. মারইয়ামের স্বামী ছাড়া সন্তান হবে - এ ব্যাপারে আশ্চর্য হয়ে সে আরজ করলো: কীভাবে আমার সন্তান হবে। অথচ কোন পুরুষই এখনো আমার নিকটবর্তী হয়নি। তা হালালভাবেই হোক বা হারামভাবে। তখন ফিরিশতা তাকে বললো: পিতা ছাড়াই আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে সন্তান দিবেন। তিনি যা চান স্বাভাবিকতা ও নিয়মের বাইরেও তা করতে পারেন। তিনি কোন কিছুর ইচ্ছা করলে শুধু বলেন: “হয়ে যাও” তখন তা হয়ে যায়। কোন বস্তু সৃষ্টি করতে তিনি কখনোই অক্ষম নন।
আলে ইমরান 3:48
৪৮. তিনি তাঁকে কিতাবী জ্ঞান শিক্ষা দিবেন। এমনকি তিনি তাকে সঠিক কথা ও কাজের তাওফীক দিবেন। উপরন্তু তিনি তাকে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর উপর নাযিলকৃত তাওরাত এবং তাঁর নিজের উপর অচিরেই নাযিল হবে যে ইঞ্জীল তার জ্ঞান দিবেন।
আলে ইমরান 3:49
৪৯. তেমনিভাবে তিনি তাঁকে বনী ইসরাঈলের রাসূল হিসেবে পাঠাবেন। তখন তিনি তাদেরকে বলবেন: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট প্রেরিত আল্লাহর একজন রাসূল। আমি তোমাদের নিকট আমার নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সেটি হলো: আমি তোমাদের জন্য মাটি থেকে একটি পাখির অবয়বের ন্যায় তৈরি করবো। অতঃপর তাতে ফুঁ দিলে তা আল্লাহর আদেশে জীবন্ত পাখিতে রূপান্তরিত হবে। আমি জন্মান্ধকে চিকিৎসা করে চক্ষুষ্মান বানিয়ে দেবো। যার শ্বেত রোগ হয়েছে আমার দ্বারা তার চামড়া সুন্দরভাবে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। তেমনিভাবে মৃতকে জীবিত করবো। আর এ সবই হবে একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়। আর আমি তোমরা যা খাবে এবং যে খাদ্য তোমরা নিজেদের ঘরে লুকিয়ে রেখেছো তা সবই তোমাদেরকে বলে দেবো। এ সকল বড় বড় কাজ যা আমি তোমাদের সামনে উল্লেখ করলাম তা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভবপর নয়। এ সবই আমি যে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল তার জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ। যদি তোমরা আমার উপর ঈমান আনতে চাও এবং প্রমাণাদিকে বিশ্বাস করো তা হলে এগুলোই যথেষ্ট।
আলে ইমরান 3:50
৫০. আমার পূর্বে নাযিলকৃত তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে আমি তোমাদের নিকট এসেছি। এ ছাড়া তোমাদের জন্য পূর্বের কিছু হারামকৃত বস্তুকে হালাল করতেও আমি এসেছি। আর তা হবে কেবল তোমাদের জন্য ব্যাপারটিকে হালকা ও সহজ করার উদ্দেশ্যে। উপরন্তু আমি আমার কথাগুলোর সত্যতা প্রমাণের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি। তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে একমাত্র তাঁকেই ভয় করো। আর আমার আহŸানে সাড়া দিয়ে তোমরা আমার আনুগত্য করো।
আলে ইমরান 3:51
৫১. আর তা এ কারণে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আমার ও তোমাদের প্রভু। একমাত্র তিনিই আনুগত্য ও ভয় পাওয়ার উপযুক্ত। তাই তোমরা এককভাবে তাঁরই ইবাদাত করো। আমি তোমাদেরকে তাকওয়া ও ইবাদাতের যে আদেশ করেছি তাই হিদায়েতের সঠিক ও সরল পথ। এর মধ্যে কোন ধরনের বক্রতা নেই।
আলে ইমরান 3:52
৫২. যখন ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) অনুভব করলেন যে, তারা কুফরি ও অস্বীকার করতে বদ্ধপরিকর তখন তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আল্লাহর দিকে আহŸানের কাজে তোমাদের মধ্য থেকে কে হবে আমার সাহায্যকারী? তখন তাঁর অনুসারীদের মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ বললেন: আমরাই আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর আনুগত্য করেছি। তাই হে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম)! আপনি এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকুন যে, আমরা নিশ্চয়ই আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর উপাসনায় একমাত্র তাঁরই অনুগত এবং তাঁর নিকটই আত্মসমর্পণকারী।
আলে ইমরান 3:53
৫৩. তেমনিভাবে হাওয়ারিগণ আরো বললেন: হে আমাদের প্রভু! আমরা আপনার নাযিলকৃত ইঞ্জীলের উপর ঈমান এনেছি। আর ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর অনুসরণ করেছি। তাই আপনি আমাদেরকে সত্যের সাক্ষ্য দানকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন। যারা আপনি ও আপনার রাসূলদের উপর ঈমান এনেছে।
আলে ইমরান 3:54
৫৪. বনী ইসরাঈলের কাফিররা গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের ষড়যন্ত্রের সঠিক জবাব দিয়েছেন। তাদেরকে ভ্রষ্টতায় ছেড়ে দিয়েছেন। অন্য এক ব্যক্তিকে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাদৃশ্য করে উপস্থাপন করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা ষড়যন্ত্রের সর্বোত্তম জবাবদাতা। কারণ, শত্রæদের ষড়যন্ত্রের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর চেয়ে উপযুক্ত ও কঠোর আর কেউ নেই।
আলে ইমরান 3:55
৫৫. আল্লাহ তা‘আলা তাদের ষড়যন্ত্রের আরেকটি জবাব এভাবে দিলেন যে, তিনি একদা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে সম্বোধন করে বললেন: হে ‘ঈসা! আমি তোমাকে মৃত্যু ছাড়াই কবজ করবো। আমি তোমার শরীরটিকে রূহসহ আমার নিজের দিকে উঠিয়ে নেবো। আর আমি তোমাকে কাফিরদের পূতিগন্ধময় পরিবেশ থেকে পরিচ্ছন্ন করে তাদের থেকে বহু দূরে নিয়ে আসবো। উপরন্তু যারা সত্য দ্বীনের ব্যাপারে তোমার অনুসরণ করেছে - যার মধ্যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর ঈমান আনার ব্যাপারটিও রয়েছে - তাদেরকে আমি কিয়ামত পর্যন্ত দলীল ও সম্মান দানের মাধ্যমে কাফিরদের উপর প্রাধান্য ও মর্যাদা দেবো। অতঃপর কিয়ামতের দিনে কেবল আমার দিকেই তোমাদের সবাইকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি তোমাদের দ্ব›দ্বপূর্ণ বিষয়সমূহের যথাযথ মীমাংসা করে দিবো।
আলে ইমরান 3:56
৫৬. আর যারা তুমি ও তোমার আনীত সত্যের সাথে কুফরি করেছে আমি তাদেরকে দুনিয়াতে হত্যা, বন্দী দশা, লাঞ্ছনা ইত্যাদি এবং পরকালে জাহান্নামের আগুনের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন করবো। সেদিন তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না, যারা তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে।
আলে ইমরান 3:57
৫৭. আর যারা তুমি ও তোমার আনীত সত্যকে বিশ্বাস করে নেক আমল করেছে যেমন: নামায, যাকাত, রোযা ও আত্মীয়তার বন্ধনকে রক্ষা করা ইত্যাদি আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তাদের আমলের পরিপূর্ণ সাওয়াব দিবেন। তাতে কোন ধরনের কমতি করা হবে না। মাসীহ ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর অনুসারীদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা কিন্তু নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নবী হিসেবে পাঠানোর আগের কথা। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে তো মাসীহ নিজেই সুসংবাদ দিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যালিমদেরকে ভালোবাসেন না। আর সর্ববৃহৎ যুলুম হলো আল্লাহর সাথে শিরক ও তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকার করা।
আলে ইমরান 3:58
৫৮. হে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) সম্পর্কিত এই নিদর্শনাবলীর বৃত্তান্ত ও জ্ঞানগর্ব আলোচনা যা আমি তোমাকে শুনাচ্ছি তা তোমার উপর নাযিলকৃত বিধানের সত্যতা প্রমাণ করে এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ। এমনকি তা মুত্তাকীদের জন্য বিশেষ উপদেশও বটে। এ প্রমাণাদি এতোই পাকাপোক্ত যে, তাতে বাতিলের লেশমাত্রও নেই।
আলে ইমরান 3:59
৫৯. নিশ্চয়ই ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর সৃষ্টির দৃষ্টান্ত হলো আল্লাহর নিকট আদম (আলাইহিস-সালাম) এর সৃষ্টির ন্যায়। আল্লাহ তা‘আলা আদমকে কোন পিতা-মাতা ছাড়াই মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর ব্যাপারে আদেশ করলেন: তুমি হয়ে যাও। তখন তাঁর চাহিদা অনুযায়ী তিনি একজন মানুষরূপে সৃষ্টি হয়ে গেলেন। এমনিভাবে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারটি আল্লাহর নিকট তদ্রƒপই। সুতরাং যারা তাঁকে পিতা ছাড়া দুনিয়াতে আসার দরুন মা’বূদ বা উপাস্য বলে মনে করে তাদের ধারণা কোন ক্রমেই ঠিক হতে পারে না।
আলে ইমরান 3:60
৬০. ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারে সন্দেহাতীত সত্য কথা হলো যা আপনার উপর আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। তাই আপনি এ ব্যাপারে সন্দিহান ও দ্বিধাগ্রস্ত হবেন না। বরং আপনি যে সত্যের উপর আছেন তার উপর আপনি অটল থাকুন।
আলে ইমরান 3:61
৬১. হে রাসূল! নাজরানের খ্রিস্টানরা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারে আপনার সাথে ঝগড়া করছে। তাদের ধারণা: তিনি আল্লাহর বান্দা নন। অথচ আপনার নিকট তাঁর ব্যাপারে বিশুদ্ধ ধারণা এসেছে। তাই আপনি তাদেরকে বলুন: চলো। আমরা এবং তোমরা নিজেরাও আসি এবং নিজেদের পরিবারবর্গকেও ডেকে নিয়ে এসে সবাই একত্রিত হই। অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্রন্দনরত অবস্থায় দু‘আ করি যেন তিনি আমাদের ও তোমাদের মধ্যকার মিথ্যাবাদীদের উপর তাঁর অভিসম্পাত নাযিল করেন।
আলে ইমরান 3:62
৬২. ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারে আমি যা উল্লেখ করেছি তাই সত্য কথা। যার মাঝে কোন ধরনের মিথ্যা ও সন্দেহ নেই। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। তিনি একক। বস্তুতঃ আল্লাহ তাঁর ক্ষমতায় পরাক্রমশালী। তিনি তাঁর আদেশ, পরিচালনা ও সৃষ্টিতে অতি প্রজ্ঞাময়।
আলে ইমরান 3:63
৬৩. তারা যদি আপনার আনীত বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তা হচ্ছে মূলতঃ তাদের ফাসাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। আর আল্লাহ তা‘আলা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদেরকে ভালোই চিনেন। অচিরেই তিনি তাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:64
৬৪. হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: হে আহলে কিতাব ইহুদি ও খ্রিস্টানরা! আসো, তোমরা ও আমরা তথা সবাই মিলে একটি ইনসাফপূর্ণ বাক্যের উপর একমত হয়ে যাই। আমরা সবাই এককভাবে আল্লাহরই ইবাদাত করবো। আমরা কখনো তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদাত করবো না। আমাদের নিকট তার অবস্থান ও মর্যাদা যতো বেশিই হোক না কেন। আর আমাদের কেউ যেন আনুগত্য ও ইবাদত করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া অন্যকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ না করে। হে মু’মিনরা! তারা যদি তোমরা যে সত্য ও ইনসাফের দিকে ডাকছো তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা তাদেরকে বলে দাও: তোমরা এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণকারী ও তাঁরই একান্ত আনুগত্যকারী।
আলে ইমরান 3:65
৬৫. হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্ম নিয়ে ঝগড়া করছো? ইহুদিরা মনে করছে, ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) ইহুদি ছিলেন। আর খ্রিস্টানরা ধারণা করছে, তিনি ছিলেন খ্রিস্টান। অথচ তোমরা এ কথা জানো যে, ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম তাঁর মৃত্যুর অনেক পরেই প্রকাশ পেয়েছে। এতেও কি তোমরা বুঝো না যে, তোমাদের কথা বাতিল ও তোমাদের ধারণা মিথ্যা?!
আলে ইমরান 3:66
৬৬. হে আহলে কিতাব! তোমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে এমন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঝগড়া করেছো যা তোমরা আগে থেকেই জানো এবং তা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে। তবে এখন আবার এমন বিষয় নিয়ে কেন ঝগড়া করছো যে সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানো না। তথা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর ধর্ম সম্পর্কীয় ব্যাপার। যা তোমাদের কিতাবে নেই এবং তা তোমাদের নবীগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে আসেননি। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ের মূল ব্যাপারটি জানেন। অথচ তোমরা তা জানো না।
আলে ইমরান 3:67
৬৭. মূলতঃ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) না ইহুদি ধর্মের উপর ছিলেন, না খ্রিস্টান ধর্মের উপর। বরং তিনি সকল বাতিল ধর্ম থেকে দূরে ছিলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর একান্ত অনুগত। তিনি কখনো মুশরিক ছিলেন না, যেমনটা আরবের মুশরিকরা মনে করে। তারা মনে করে, তিনি তাদের ধর্মের উপর ছিলেন।
আলে ইমরান 3:68
৬৮. নিশ্চয়ই ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিরা হলো যারা তাঁর যুগেই তাঁরই আনীত বিধানের অনুসরণ করেছে। আর এর চেয়ে আরো উপযুক্ত ব্যক্তি হলেন এ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আর যারা এ উম্মতের মধ্য থেকে তাঁর উপর ঈমান এনেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের রক্ষক ও সাহায্যকারী।
আলে ইমরান 3:69
৬৯. হে মু’মিনরা! আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মজাযকরা তোমাদেরকে সত্যভ্রষ্ট করার আশা পোষণ করে যে সত্যের দিশা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তারা নিজেরা নিজেদেরকেই পথভ্রষ্ট করছে। কারণ, মু’মিনদেরকে পথভ্রষ্ট করার প্রচেষ্টা মূলতঃ তাদের ভ্রষ্টতাই আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তারা এটি উপলব্ধি করতে পারছে না।
আলে ইমরান 3:70
৭০. হে আহলে কিতাব ইহুদি ও খ্রিস্টানরা! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি করছো? যা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে। যার মধ্যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের প্রমাণও রয়েছে। অথচ তোমরা এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, সত্য তাই যা তোমাদের কিতাবগুলো প্রমাণ করে।
আলে ইমরান 3:71
৭১. হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন নিজেদের কিতাবের নাযিলকৃত সত্যকে তোমাদের বানানো বাতিলের সাথে মিশিয়ে ফেলছো আর কিতাবের সত্য ও হিদায়েতকে লুকিয়ে রাখছো? যার মধ্যে রয়েছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ। অথচ তোমরা নিজেরাই জানো কোনটি সত্য, কোনটি বাতিল, কোনটি হিদায়েত আর কোনটি ভ্রষ্টতা!
আলে ইমরান 3:72
৭২. ইহুদি আলিমদের একদল বললো: তোমরা সকাল বেলায় মু’মিনদের উপর নাযিলকৃত কুর‘আনের উপর প্রকাশ্যে ঈমান আনো। আর বিকাল বেলায় তার সাথে কুফরি করো। তাহলে কুর‘আনের উপর তোমাদের ঈমান আনার পর তার সাথে পুনরায় কুফরি করা দেখে মু’মিনরা নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে। ফলে তারা এ বলে তাদের ধর্ম থেকে ফিরে আসবে যে, আরে এরা তো আমাদের চেয়ে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আরো ভালো জানে। অথচ তারাই তা থেকে ফিরে গেছে!
আলে ইমরান 3:73
৭৩. তারা আরো বললো: তোমরা নিজেদের ধর্মের অনুসারী ছাড়া আর কারো উপর ঈমান এনো না এবং তার অনুসরণ করো না। হে রাসূল! আপনি বলে দিন: সত্যের দিশা আছে একমাত্র আল্লাহর হিদায়েতে। তোমাদের মিথ্যা ও হঠকারিতায় নয়। মূলতঃ তোমরা এ ভয় পাচ্ছো যে, কাউকে তোমাদের ন্যায় অনুগ্রহ করা হবে অথবা তোমরা যদি তোমাদের উপর নাযিলকৃত বিধানটি স্বীকার করে নাও তাহলে অন্যরা তোমাদের প্রভুর নিকট তা দিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করবে। হে রাসূল! আপনি বলে দিন: সকল অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহরই হাতে। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে চান তা তাকেই দিবেন। তাঁর অনুগ্রহ কোন উম্মতের উপর সীমাবদ্ধ নয়। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা অসীম করুণাময়। তিনি জানেন কে তা পাওয়ার উপযুক্ত।
আলে ইমরান 3:74
৭৪. তিনি তাঁর সৃষ্টির যাকে চান তাকে বিশেষ রহমতে ভ‚ষিত করেন। ফলে তিনি তাকে হিদায়েত, নবুওয়াত ও অন্যান্য দানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মহান দয়াশীল। তাঁর দয়ার কোন শেষ নেই।
আলে ইমরান 3:75
৭৫. তবে আহলে কিতাবের মাঝে এমন লোকও আছে যার নিকট আপনি প্রচুর সম্পদ আমানত রাখলে সে ওই আমানত আপনাকে ফিরিয়ে দিবে। আবার তাদের মাঝে এমন লোকও আছে যার নিকট সামান্য সম্পদ আমানত রাখলেও সে আপনার বার বার তাগাদা দেয়া এবং বিচার-সালিশ ব্যতিরেকে ওই আমানত ফিরিয়ে দিবে না। এটি মূলতঃ তাদের একটি ভুল বিশ্বাসের ফল। তারা মনে করে, আরবদের তথা যারা আহলে কিতাব নয় তাদের কোন ক্ষতি করা কিংবা তাদের সম্পদ খাওয়াতে তাদের কোন গুনাহ নেই। আল্লাহ তা‘আলা তা তাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন। এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা। তারাও জানে এটি মূলতঃ আল্লাহর উপর একটি মিথ্যা অপবাদ মাত্র।
আলে ইমরান 3:76
৭৬. বস্তুতঃ ব্যাপারটি তেমন নয় যা তারা মনে করছে। বরং এ ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই গুনাহ হবে। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনার ওয়াদা পূরণ করেছে, মানুষের সাথে ওয়াদাকৃত আমানত রক্ষা করেছে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে তাঁকেই ভয় করেছে তার কথা ভিন্ন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাকীদেরকে ভালোবাসেন এবং তিনি অচিরেই তাদেরকে এ জন্য সম্মানজনক প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:77
৭৭. নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান ও তাঁর রাসূলদের আদর্শ মানার ওসিয়ত এবং আল্লাহর অঙ্গীকার পূরণের শপথ ভঙ্গ করে দুনিয়া ভোগের কিছু বিনিময় গ্রহণ করেছে তাদের জন্য আখিরাতের সাওয়াবের কোন কিছুই নেই। না তাদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা সন্তোষজনক কোন কথা বলবেন। না কিয়ামতের দিন তিনি তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দিবেন। বরং তাদের জন্য রয়েছে অপরিসীম যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আলে ইমরান 3:78
৭৮. ইহুদিদের মধ্যে একদল এমন রয়েছে যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত তাওরাতে যা নেই তা উল্লেখ করতে গিয়ে মুখকে একটু বাঁকিয়ে বলে, যাতে মানুষ এ ধারণা করে যে, তারা তাওরাতই পড়ছে। অথচ তা তাওরাতে নেই। বরং তা তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ মাত্র। তবুও তারা বলে: আমরা যা পড়ছি তা সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত নয়। বস্তুতঃ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর মিথ্যারোপের ভয়াবহতা জেনেশুনেও আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করছে।
আলে ইমরান 3:79
৭৯. যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাব দিয়েছেন উপরন্তু তাঁকে প্রচুর জ্ঞান ও বুঝ দিয়ে নবী হিসেবে চয়ন করেছেন তাঁর জন্য সম্ভব নয় যে তিনি মানুষকে বলবেন: তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেবল আমারই গোলাম হয়ে যাও। বরং তিনি তাদেরকে বলবেন: তোমরা কর্মনিষ্ঠ ও জ্ঞানী, মানুষের অভিভাবক ও তাদের সমূহ ব্যাপারের সংশোধনকারী হয়ে যাও। কারণ, তোমরাই তো মানুষদেরকে নাযিলকৃত কিতাব শিক্ষা দিচ্ছো আর তোমরাই তা মুখস্থ ও বুঝার চেষ্টা করছো।
আলে ইমরান 3:80
৮০. তেমনিভাবে তাঁর জন্য এও সম্ভব নয় যে, তিনি মানুষদেরকে নির্দেশ দিয়ে বলবেন: তোমরা আল্লাহকে ছাড়া ফিরিশতা ও নবীদেরকে প্রভু বানিয়ে তাদের ইবাদত করো। সুতরাং তাঁর পক্ষে কি এটা সম্ভব যে, তিনি তোমাদেরকে আল্লাহর সাথে কুফরি করতে নির্দেশ দিবেন; অথচ তোমরা ইতিপূর্বে সেই আল্লাহরই অনুগত এবং তাঁরই সামনে আত্মসমর্পণ করেছো?!
আলে ইমরান 3:81
৮১. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন আল্লাহ তা‘আলা নবীদের কাছ থেকে এ বলে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, আমি যদি তোমাদেরকে কোন কিতাব দেই এবং আমি তোমাদেরকে প্রজ্ঞা প্রদান করি। আর তোমাদের কেউ যত বড় অবস্থান ও মর্যাদায় পৌঁছাক না কেন যখন আমার কাছ থেকে তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞার সত্যায়নকারী একজন রাসূল তোমাদের নিকট আসবে তোমরা অবশ্যই তাঁর আনীত বিধানকে বিশ্বাস করবে এবং তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে তাঁকে সহযোগিতা করবে। হে নবীরা! তোমরা কি এটা স্বীকার করলে এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার করলে? তারা উত্তরে বললো: নিশ্চয়ই আমরা তা স্বীকার করে নিয়েছি। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন: তোমরা এ ব্যাপারে নিজেরা ও নিজেদের উম্মতের উপর সাক্ষী থাকো। আর আমিও এ ব্যাপারে তোমরা ও তাদের উপর সাক্ষী থাকলাম।
আলে ইমরান 3:82
৮২. যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাক্ষ্য সম্বলিত এ কঠিন অঙ্গীকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো তারা মূলতঃ আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেলো।
আলে ইমরান 3:83
৮৩. যারা আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেলো তারা কি আল্লাহর পছন্দনীয় দ্বীন ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য কিছু চায়?! অথচ আকাশ ও জমিনের সকল সৃষ্টি তাঁরই অনুগত ও তাঁর সামনে আত্মসমর্পণকারী। চাই তা ইচ্ছায় হোক যেমন: মু’মিনরা অথবা অনিচ্ছায় যেমন: কাফিররা। অতঃপর কিয়ামতের দিন হিসাব ও প্রতিদানের জন্য আল্লাহর সকল সৃষ্টিকে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
আলে ইমরান 3:84
৮৪. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আমরা আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করেছি এবং তাঁর আদেশের আনুগত্য করছি তেমনিভাবে আমরা আমাদের উপর এবং ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক ও ইয়াক‚বের উপর নাযিলকৃত ওহীকে বিশ্বাস করছি। আরো যা নাযিল করা হয়েছে ইয়াক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর সন্তানদের মধ্যকার নবীদের উপর। আর যে কিতাব ও নিদর্শনসমূহ মূসা, ‘ঈসা ও সকল নবীকে তাঁদের প্রভুর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের কারো উপর ঈমান এনে এবং কারো সাথে কুফরি করে তাঁদের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করি না। বরং আমরা এক আল্লাহরই অনুগত এবং তাঁর সামনেই একান্তভাবে আত্মসমর্পণকারী।
আলে ইমরান 3:85
৮৫. যে ব্যক্তি আল্লাহর পছন্দনীয় দ্বীন ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন অনুসন্ধান করবে কস্মিনকালেও তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। তথা সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
আলে ইমরান 3:86
৮৬. কীভাবে আল্লাহ তা‘আলা এমন জাতিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার তাওফীক দিতে পারেন যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর আবারো কুফরি করেছে এবং তারা এ ব্যাপারে একদা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা সবই সত্য। উপরন্তু তাদের নিকট এর বিশুদ্ধতার সুস্পষ্ট প্রমাণও এসেছে?! বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা জালিম সম্প্রদায়কে ঈমানের তাওফীক দেন না। যারা হিদায়েতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে বেছে নিয়েছে।
আলে ইমরান 3:87
৮৭. সে সকল জালিম যারা নিজেদের জন্য বাতিলকে চয়ন করেছে, তাদের প্রতিদান হলো তাদের উপর আল্লাহ তা‘আলা, ফিরিশতা ও সকল মানুষের অভিসম্পাত বর্ষিত হবে। উপরন্তু তারা আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত ও বিদূরিত হবে।
আলে ইমরান 3:88
৮৮. তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। সেখান থেকে কখনো বের হবে না। উপরন্তু তাদের শাস্তি এতটুকুও হালকা করা হবে না। না তাদেরকে তাওবা ও কৈফিয়ত দেয়ার জন্য সময় দেয়া হবে।
আলে ইমরান 3:89
৮৯. তবে যারা কুফরি ও যুলুমের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে এবং নিজেদের আমলগুলো ঠিক করে নিবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দার প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আলে ইমরান 3:90
৯০. নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে আর কুফরির উপর অটল থাকা অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুর সময় তাদের পক্ষ থেকে কোন তাওবাই গ্রহণ করা হবে না। কারণ, তাদের তাওবার সময় তখন শেষ হয়ে গেছে। বস্তুতঃ তারা আল্লাহ অভিমুখী সঠিক পথ থেকে ভ্রান্তিতে লিপ্ত।
আলে ইমরান 3:91
৯১. নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে ও কুফরি অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে তাদের কারো পক্ষ থেকে নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার বিনিময়ে পৃথিবী সমপরিমাণ স্বর্ণও গ্রহণ করা হবে না। বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর কিয়ামতের দিন তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবে না। যারা তাদের পক্ষ থেকে শাস্তি প্রতিরোধ করবে।
আলে ইমরান 3:92
৯২. হে মু’মিনরা! তোমরা কস্মিনকালেও নেককারদের সাওয়াব ও মর্যাদা পাবে না যতক্ষণ না তোমরা নিজেদের প্রিয় সম্পদের কিয়দংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। তোমরা কম-বেশি যাই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের আমল ও নিয়্যাত সম্পর্কে জানেন। তাই অচিরেই তিনি প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:93
৯৩. সকল পবিত্র খাদ্য বনী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিলো। তাদের উপর শুধু ততটুকুই হারাম ছিলো যা ইয়া’ক‚ব (আলাইহিস-সালাম) তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে নিজের উপর হারাম করেছেন। মূলতঃ এটি তাওরাতের হারাম করা বিষয় নয় যা ইহুদিরা ধারণা করছে। হে নবী! আপনি তাদেরকে বলে দিন: তোমরা যদি নিজেদের এ দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তাওরাত এনে তা পড়ে দেখাও। এ কথা বলা হলে তখন তারা একেবারেই নির্বাক হয়ে গেলো। আর তাওরাত উপস্থিত করেনি। এটি একটি দৃষ্টান্ত যা তাওরাতের ব্যাপারে ইহুদিদের অপবাদ ও তার বিষয়সমূহের অপব্যাখ্যা প্রমাণ করে।
আলে ইমরান 3:94
৯৪. যে ব্যক্তি সুস্পষ্ট প্রমাণ পওয়ার পরও আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে বলে যে, ইয়া’ক‚ব (আলাইহিস-সালাম) যা নিজের উপর হারাম করেছেন তা মূলতঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে হারাম করা হয়নি। বস্তুতঃ এরা যালিম; তারা সুস্পষ্ট প্রমাণ পওয়ার পরও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের উপর যুলুম করেছে।
আলে ইমরান 3:95
৯৫. হে নবী! আপনি বলে দিন, আল্লাহ তা‘আলা ইয়া’ক‚ব (আলাইহিস-সালাম) সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি যা নাযিল করেছেন ও শরীয়তরূপে চয়ন করেছেন তা সবই সত্য। তাই তোমরা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্মের অনুসরণ করো। কারণ, তিনি অন্যান্য ধর্মকে এড়িয়ে শুধু ইসলাম ধর্মকেই গ্রহণ করেছেন। তিনি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে কখনো শরীক করেননি।
আলে ইমরান 3:96
৯৬. যে ঘরটি আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষের ইবাদাতের জন্য তৈরি করেছেন তা হলো মক্কার বাইতুল্লাহিল-হারাম। সে ঘরটি মূলতঃ বরকতময় ঘর। তা দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য অনেক উপকারী। বিশ্বের সকল মানুষের জন্য তাতে পথনির্দেশ রয়েছে।
আলে ইমরান 3:97
৯৭. এ ঘরটির সম্মান ও ফযীলতের অনেকগুলো সুস্পষ্ট আলামত রয়েছে। যেমন: হজ্জ ও উমরার কার্যাবলী এবং সেখানকার পবিত্র স্থানসমূহ। সে আলামতগুলোর একটি হলো সে পাথরটি যার উপর ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) দাঁড়িয়েছেন যখন তিনি কা’বার দেয়াল উুঁচ করার ইচ্ছা করেছেন। আরেকটি হলো যে ব্যক্তি এ ঘরে প্রবেশ করবে তার কোন ভয় থাকবে না। না তাকে কেউ কষ্ট দেয়ার অধিকার রাখে। যে ব্যক্তি এ ঘরে পৌঁছার শক্তি-সামর্থ্য রাখে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হজ্জের কার্যাদি আদায়ের জন্য সেখানে যাওয়া তার উপর ফরয। আর যে ব্যক্তি হজ্জ ফরয হওয়ার ব্যাপারটিকে অস্বীকার করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা এ জাতীয় কাফির ও সর্ব জগতের প্রতি অমুখাপেক্ষী।
আলে ইমরান 3:98
৯৮. হে নবী! আপনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে ডেকে বলে দিন: তোমরা কেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সত্যতার প্রমাণগুলো অস্বীকার করো। যার মধ্যে রয়েছে সে প্রমাণগুলো যা তাওরাত ও ইঞ্জীলে এসেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তার সাক্ষী। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তার প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:99
৯৯. হে নবী! আপনি বলে দিন: ওহে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা! তোমরা কেন মু’মিন লোকদেরকে আল্লাহর ধর্ম মানতে বাধাগ্রস্ত করো। তোমরা আল্লাহর দ্বীনকে সত্য থেকে মিথ্যার দিকে এবং মুসলমানদেরকে হিদায়েত থেকে ভ্রষ্টতার দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করো। অথচ তোমরা নিজেরাই এ ব্যাপারে সাক্ষী যে, এ ধর্মটিই হলো সত্য ধর্ম যা তোমাদের কিতাবগুলোর সত্যায়নকারীও বটে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কুফরি ও তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করার বিষয় জানা থেকে গাফিল নন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তার প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:100
১০০. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা যদি আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কোন দলের কথা মেনে নাও এবং তাদের ধারণাকৃত মতামত অবলম্বন করো তাহলে তারা তোমাদেরকে হিংসা ও ভ্রষ্টতাবশত ঈমান থেকে কুফরির দিকে ফিরিয়ে নিবে।
আলে ইমরান 3:101
১০১. তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আনার পর তাঁর সাথে আবার কীভাবে কুফরি করো?! অথচ ঈমানের উপর অটল থাকার মহা মাধ্যমই তোমাদের নিকট বিদ্যমান। কারণ, আল্লাহর আয়াতসমূহ তোমাদের সামনেই পড়া হচ্ছে আর তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা তোমাদেরকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর কুর‘আন ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত আঁকড়ে ধরবে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিবেন। যাতে কোন ধরনের বক্রতা নেই।
আলে ইমরান 3:102
১০২. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী এবং তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা নিজেদের প্রভুকে সত্যিকারার্থে ভয় করো। আর তা হবে তাঁর আদেশ-নিষেধ মানা ও তাঁর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের মাধ্যমে। তেমনিভাবে তোমরা মৃত্যু পর্যন্ত নিজেদের ধর্মকে অবিচলভাবে আঁকড়ে ধরো।
আলে ইমরান 3:103
১০৩. হে মু’মিনরা! তোমরা কুর‘আন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। আর এমন কাজ করো না যা তোমাদেরকে দলাদলিতে নিপতিত করবে। উপরন্তু তোমরা আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ করো যখন তোমরা ইসলামের পূর্বে একে অপরের শত্রæ ছিলে আর সামান্য বিষয় নিয়ে তোমরা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ইসলামের মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনেন। তখন তোমরা আল্লাহর রহমতে পরস্পর দয়াশীল ও একে অপরের কল্যাণকামী ধর্মীয় ভাই হয়ে গেলে। অথচ তোমরা ইতিপূর্বে কুফরির দরুন জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলে অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে তা থেকে মুক্তি ও ঈমানের দিশা দিয়েছেন। যেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য এটি বর্ণনা করেছেন তেমনিভাবে তিনি বর্ণনা করেন তোমাদের জন্য এমন সব বিষয় যা তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের অবস্থার উন্নতি ঘটাবে। যাতে তোমরা সঠিক পথের দিশা পাও এবং অটলতার পথ অবলম্বন করতে পারো।
আলে ইমরান 3:104
১০৪. হে মু’মিনরা! তোমাদের মধ্য থেকে এমন এক দল হওয়া চাই যারা আল্লাহর পছন্দনীয় কল্যাণের দিকে ডাকবে। তারা সৎ কাজের আদেশ করবে যা শরীয়ত সমর্থিত এবং মানুষের বিবেকের কাছেও পছন্দনীয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে যা শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ এবং মানুষের বিবেকের কাছেও অপছন্দনীয়। বস্তুতঃ এ সৎ গুণ যাদের মধ্যে রয়েছে তারাই দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ণ সফলতার অধিকারী।
আলে ইমরান 3:105
১০৫. হে মু’মিনরা! তোমরা আহলে কিতাবের ন্যায় হয়ো না যারা নিজেদের মাঝে বিভেদ করে অনেক দল ও গ্রæপে ভাগ হয়ে গেছে। তারা মূলতঃ আল্লাহর কাছ থেকে তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরই নিজেরা নিজেদের ধর্ম নিয়ে বিভেদ করেছে। বস্তুতঃ উল্লেখিত ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তি।
আলে ইমরান 3:106
১০৬. এ কঠিন শাস্তি তাদের উপর কিয়ামতের দিন পতিত হবে। যখন ঈমানদারদের চেহারাগুলো খুশি ও সৌভাগ্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আর কাফিরদের চেহারাগুলো চিন্তা ও বিষণœতায় বিবর্ণ হয়ে যাবে। বস্তুতঃ সে কঠিন দিনে যাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে তাদেরকে তিরস্কার করে বলা হবে: তোমরা কি আল্লাহর তাওহীদ ও তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিকে অস্বীকার করনি? যাতে বলা হয়েছে তোমরা তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। অথচ তোমরা তা ইতিপূর্বে স্বীকার ও বিশ্বাস করেছিলে?! অতএব তোমরা আল্লাহর শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করো যা তিনি তোমাদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন তোমাদের কুফরির কারণে।
আলে ইমরান 3:107
১০৭. আর যাদের চেহারা সেদিন উজ্জ্বল হবে তাদের অবস্থান হবে নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এমন নিয়ামতের মাঝে তারা বিচরণ করবে যা কখনো পরিবর্তিত ও নিঃশেষ হবে না।
আলে ইমরান 3:108
১০৮. হে নবী! এ সকল আয়াত যাতে রয়েছে আল্লাহর ওয়াদা ও হুমকি যা আমি আপনাকে পড়ে শুনাচ্ছি, তা সত্য সংবাদ ও ইনসাফপূর্ণ বিধান। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা কোন জগতের কারো সাথে যুলুমের ইচ্ছা পোষণ করেন না। বরং তিনি যাকেই শাস্তি দেন তাকে তার কৃত অপরাধের জন্যই শাস্তি দিয়ে থাকেন।
আলে ইমরান 3:109
১০৯. এক আল্লাহর জন্যই রয়েছে আকাশ ও জমিনের সর্বময় ক্ষমতা। তিনিই সৃষ্টি করেছেন এবং আদেশ করবেনও তিনি। তাঁর দিকেই তাঁর সকল সৃষ্টির প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তিনি সবাইকেই তার উপযুক্ততা অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:110
১১০. হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মতরা! তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন ঈমান ও আমলে বলীয়ান হয়ে মানব কল্যাণের জন্য। তোমরাই হলে মানুষের জন্য সর্বোপকারী। তোমরা এমন সৎ কাজের আদেশ করবে যা শরীয়ত সমর্থিত এবং মানুষের বিবেকের কাছেও পছন্দনীয়। আর এমন অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে যা শরীয়ত নিষিদ্ধ এবং মানুষের বিবেকের কাছেও অপছন্দনীয়। উপরন্তু তোমরা আল্লাহর প্রতি এমন দৃঢ় ঈমান আনবে যা আমল কর্তৃক সত্যায়িত হবে। যদি আহলে কিতাব ইহুদি ও খ্রিস্টানরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর ঈমান আনতো তাহলে তা তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর হতো। বস্তুতঃ আহলে কিতাবের খুব কম সংখ্যক লোকই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনীত বিধানের উপর ঈমান এনেছে এবং তাদের অধিকাংশরাই আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়ত থেকে বের হয়ে গেছে।
আলে ইমরান 3:111
১১১. হে মু’মিনরা! তাদের শত্রæতা যত বেশিই হোক না কেন তা তোমাদের ও তোমাদের ধর্মের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। কেবল তারা তোমাদের ধর্মের ব্যাপারে কট‚বাক্য বলে এবং তোমাদেরকে নিয়ে তিরস্কার ইত্যাদির মাধ্যমে তোমাদেরকে মৌখিক কষ্টই দিয়ে থাকবে। আর কিছুই নয়। তারা যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় তাহলে তারা দ্রæত পরাজিত হয়ে তোমাদের সামনে থেকেই পলায়ন করবে। তোমাদের উপর কখনোই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
আলে ইমরান 3:112
১১২. হীনতা ও লাঞ্ছনা সর্বদা ইহুদিদেরকেই বেষ্টন করবে ও তাদেরকে ঘিরে রাখবে। যেখানেই তারা থাকুক না কেন। তারা আল্লাহ কিংবা মানুষের পক্ষ থেকে দেয়া নিরাপত্তা বা চুক্তি ছাড়া কখনোই নিরাপদ নয়। তারা আল্লাহর রোষানল নিয়ে ঘরে ফিরেছে। উপরন্তু প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষিতা তাদেরকে সর্বদা ঘিরেই রাখবে। এ সব এ জন্যই যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর নবীদেরকে তারা অত্যাচারবশত হত্যা করেছে। উপরন্তু তা আল্লাহর অবাধ্যতা এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘনের দরুন।
আলে ইমরান 3:113
১১৩. আহলে কিতাবের সবার অবস্থা কিন্তু এক রকম নয়। বরং তাদের কতক রয়েছে আল্লাহর দ্বীনের উপর অবিচল এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের উপর প্রতিষ্ঠিত। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাতের বেলায় নামাযরত অবস্থায় আল্লাহর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে। এ গোষ্ঠীটি মূলতঃ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের পূর্বে ছিলো। তবে তাদের যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতকাল পেয়েছে তারা মুসলমান হয়েছে।
আলে ইমরান 3:114
১১৪. তারা আল্লাহ ও পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎ ও কল্যাণের আদেশ করে, অসৎ ও অকল্যাণ থেকে নিষেধ করে, কল্যাণের কাজে দ্রæত ধাবিত হয় এবং আনুগত্যের সময়গুলোকে গনীমত মনে করে। এ বৈশিষ্ট্যগুলোর অধিকারী আল্লাহর বান্দারা বস্তুতঃ নিয়ত ও আমলে বিশুদ্ধ।
আলে ইমরান 3:115
১১৫. তারা কম-বেশি যে কল্যাণ করে কস্মিনকালেও তার সাওয়াব নষ্ট করা হবে না এবং তাতে কোন ধরনের ঘাটতিও করা হবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাকীদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। যারা তাঁর সমূহ আদেশ-নিষেধ মেনে চলে। তাঁর নিকট তাদের কোন কাজই গোপন নয়। তাই অচিরেই তিনি তাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:116
১১৬. যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে কুফরি করেছে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে এতটুকুও রক্ষা করতে পারবে না। তেমনিভাবে সেগুলো তাদের জন্য কোন রহমতও বয়ে আনবে না। বস্তুতঃ সেদিন তাদের এসব কিছু কোন ফায়েদায়ই আসবে না। বরং এগুলো তাদের শাস্তি ও আফসোস আরো বাড়িয়ে দিবে। মূলতঃ এরা জাহান্নামী। তারা সেখানে সর্বদা থাকবে।
আলে ইমরান 3:117
১১৭. বস্তুতঃ কাফিররা কল্যাণের কাজে যা খরচ করছে এবং তারা তার সাওয়াবের যে অপেক্ষা করছে তার দৃষ্টান্ত হলো সে বাতাসের ন্যায় যাতে রয়েছে প্রচুর ঠাÐা - যা গুনাহগার জালিমদের শস্য ক্ষেতে প্রবাহিত হয়ে শস্যগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। অথচ তারা এগুলো থেকে অনেক কল্যাণেরই আশা করছিলো। বস্তুতঃ যেভাবে এ বাতাস শস্যগুলোকে ধ্বংস করে দিলো যার ফলে তা থেকে কোন উপকারই পাওয়া গেলো না তেমনিভাবে কুফরি তাদের আকাক্সিক্ষত আমলগুলোর সাওয়াব নষ্ট করে দিবে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের উপর কোন যুলুম করেনি। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা এ দোষগুলোর অনেক ঊর্ধ্বে। বরং তারা আল্লাহর সাথে কুফরি ও তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকার করার দরুন নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে।
আলে ইমরান 3:118
১১৮. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা মু’মিন ছাড়া অন্যদেরকে কখনো একান্ত বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ বানাবে না। যাদেরকে তোমরা নিজেদের গুপ্ত কথা এবং বিশেষ বিশেষ অবস্থার কথা জানিয়ে দিবে। কারণ, অন্যরা কখনো তোমাদের ক্ষতি ও তোমাদের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টি করতে এতটুকুও ত্রæটি করবে না। বরং তারা সর্বদা চায় তোমাদের কোন ক্ষতি হোক কিংবা তোমাদের ব্যাপারগুলো কঠিন হয়ে যাক। তাদের মুখ দিয়ে তোমাদের প্রতি শত্রæতা ও ঘৃণা ফুটে উঠেছে। তারা তোমাদের ধর্মকে আঘাত করছে। তোমাদের মাঝে কঠিন ঝামেলা লাগিয়ে দিচ্ছে। উপরন্তু তোমাদের গুপ্ত কথাগুলো প্রচার করছে। বরং তাদের অন্তর যে ঘৃণাটুকু লুকিয়ে রেখেছে তা আরো বেশি। হে মু’মিনরা! আমি তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সকল সুবিধাবলীর ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করেছি। ভালো হতো যদি তোমরা নিজেদের প্রভুর নাযিলকৃত বিধানগুলো বুঝতে পারতে।
আলে ইমরান 3:119
১১৯. হে মু’মিনরা! তোমরা কি ওদেরকে ভালোবাসছো আর তাদের কল্যাণ কামনা করছো; অথচ তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করে না। বরং তারা তোমাদেরকে তাদের শত্রæ মনে করে। তোমরা সকল কিতাবকে বিশ্বাস করো। তাতে তাদের কিতাবও রয়েছে। অথচ তারা তোমাদের নবীর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাবকে বিশ্বাস করে না। তারা তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে মুখে বলে: আমরা তোমাদের কিতাবকে বিশ্বাস করি। তবে তারা একে অপরের সাথে একাকীভাবে মিলিত হলে তোমাদের ঐক্য ও পারস্পরিক মিল আর ইসলামের শক্তি ও বিজয় এবং তাদের লাঞ্ছনা দেখে চিন্তা ও রাগে নিজেদের আঙ্গুলের মাথাগুলো কামড়াতে থাকে। হে নবী! আপনি তাদেরকে বলে দিন: তোমরা নিজেদের অবস্থায় এভাবেই থাকো যতক্ষণ না তোমরা চিন্তা ও রাগে মারা যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অন্তরের ঈমান ও কুফরি এবং কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত।
আলে ইমরান 3:120
১২০. হে মু’মিনরা! যখন তোমরা কোন নিয়ামত পাও যেমন: শত্রæর উপর বিজয় এবং সন্তান ও সম্পদের প্রবৃদ্ধি তখন তারা খুব চিন্তা ও বিষণœতা ভোগ করে। আর যদি তোমাদের কোন বিপদ আসে যেমন: শত্রæর জয় ও সন্তান-সম্পদে ঘাটতি তখন তারা খুশি হয়ে তোমাদেরকে প্রচুর তিরস্কার করে। বস্তুতঃ যদি তোমরা আল্লাহর আদেশ ও তাঁর নির্বাচিত তাকদীরের উপর ধৈর্য ধরো আর তাঁর রোষানলকে ভয় করো তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র ও কষ্টদান তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের ষড়যন্ত্রগুলো ঘিরে রেখেছেন। তিনি অচিরেই তাদেরকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করবেন।
আলে ইমরান 3:121
১২১. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন আপনি উহুদের ময়দানে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য মদীনা থেকে দিনের শুরুতেই বের হয়ে গেলেন। আর আপনি মু’মিনদেরকে যুদ্ধের স্থানগুলোতে নামিয়ে দিচ্ছেন। উপরন্তু প্রত্যেককে তার স্থানটুকু বুঝিয়ে দিলেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কথাগুলো শ্রবণকারী এবং তোমাদের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত।
আলে ইমরান 3:122
১২২. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন মু’মিনদের দু’টি দল তথা বনূ সালিমাহ ও বনূ হারিসাহ গোত্রদ্বয় মুনাফিকদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে যেতে দেখে নিজেদের মাঝে দুর্বলতা অনুভব করতঃ সেখান থেকে ফিরে আসতে চেয়েছিলো। বস্তুতঃ আল্লাহই তাদের সাহায্যকারী। তিনিই তাদেরকে যুদ্ধের ব্যাপারে দৃঢ়পদ করলেন এবং তাদেরকে তাদের ইচ্ছা থেকে ফিরিয়ে আনলেন। মূলতঃ এক আল্লাহর উপরই সর্বাবস্থায় মু’মিনদের নির্ভরশীল হতে হবে।
আলে ইমরান 3:123
১২৩. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে বদরের যুদ্ধে মুশরিকদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন। অথচ তোমাদের সংখ্যা ও অস্ত্র কম হওয়ার দরুন তোমাদেরকে অতি দুর্বলই ভাবা হয়েছিলো। তাই তোমরা আল্লাহকেই ভয় করো। তাহলে তোমরা তাঁর নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারবে।
আলে ইমরান 3:124
১২৪. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন আপনি পেছন থেকে মুশরিকদের সাহায্য আসার খবর শুনে মু’মিনদেরকে বদরের যুদ্ধে দৃঢ়পদ করার জন্য বললেন: তোমাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত তিন হাজার ফিরিশতা দিয়ে সাহায্য করবেন। যাতে তাঁরা তোমাদেরকে যুদ্ধের ক্ষেত্রে শক্তিশালী করতে পারে।
আলে ইমরান 3:125
১২৫. অবশ্যই, এটা তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। এতদসত্তে¡ও তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আরেক সাহায্যের সুসংবাদ রয়েছে। আর তা হলো, তোমরা যদি যুদ্ধের ব্যাপারে ধৈর্যশীল ও আল্লাহকে ভয় করতে পারো আর তোমাদের শত্রæর নিকট তৎক্ষণাৎ সাহায্য চলে আসে এবং তারা তোমাদের উপর দ্রæত ঝাঁপিয়ে পড়ে তাহলে তোমাদের প্রভু অচিরেই তোমাদেরকে পাঁচ হাজার ফিরিশতা দিয়ে সাহায্য করবেন। যাঁরা ও যাঁদের ঘোড়াগুলো প্রকাশ্য চিহ্নে চিহ্নিত থাকবে।
আলে ইমরান 3:126
১২৬. আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতা কর্তৃক এ সাহায্য ও সহযোগিতা কেবল তোমাদেরকে খুশি করার জন্যই করলেন। তা ছিলো তোমাদের জন্য এক বিশেষ খুশির সংবাদ। যাতে তোমাদের অন্তরগুলো স্থির হয়ে যায়। নতুবা সত্যিকার বিজয় এ প্রকাশ্য কিছু উপকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সত্যিকার বিজয় কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। যিনি পরাক্রমশালী। যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তিনি পরিমাপ নির্ধারণে ও তাঁর শরীয়ত প্রণয়নে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আলে ইমরান 3:127
১২৭. বদরের যুদ্ধের এ বিজয় - যা তোমাদের জন্যই সাধিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা চেয়েছেন কাফিরদের একটি দলকে হত্যার মাধ্যমে ধ্বংস করতে আর অন্য দলকে লাঞ্ছিত করতে। যাতে তারা পরাজিত হয়ে দুঃখে-অভিমানে ফেটে পড়ে। অতঃপর লাঞ্ছনা ও ব্যর্থতা নিয়ে ঘরে ফিরে যায়।
আলে ইমরান 3:128
১২৮. যখন তোমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উহুদের যুদ্ধে মুশরিকদের নেতাদের পক্ষ থেকে অনেক কিছু ঘটে যাওয়ার পর তাদের ধ্বংসের জন্য বদদু‘আ করলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বললেন: তাদের কোন ব্যাপারই তোমার হাতে নয়। বরং সব কিছুই একমাত্র আল্লাহর হাতে। সুতরাং আল্লাহর ফায়সালা আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরো অথবা আল্লাহ তাওফীক দিলে তারা তাওবা করে মুসলমান হয়ে যাবে নতুবা তারা নিজেদের কুফরির উপর অটল থাকবে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি দিবেন। কারণ, তারা জালিম ও শাস্তির উপযুক্ত।
আলে ইমরান 3:129
১২৯. সৃষ্টি ও পরিচালনার দিক দিয়ে আকাশ ও জমিনের সব কিছুর মালিকই আল্লাহ তা‘আলা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে চান তাকে নিজ দয়ায় ক্ষমা করে দেন। আর যাকে চান নিজ ইনসাফের ভিত্তিতে তাকে শাস্তি দেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আলে ইমরান 3:130
১৩০. আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ঋণ দেয়া মূল সম্পদের উপর কয়েকগুণ বাড়তি সুদ খাওয়া থেকে বিরত থাকো। যা জাহিলী যুগের লোকেরা করতো। আর তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো। তাহলে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতের কাক্সিক্ষত কল্যাণের নাগাল পাবে।
আলে ইমরান 3:131
১৩১. আর তোমরা নিজেদের ও জাহান্নামের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করো। যা তিনি কাফিরদের জন্য বানিয়েছেন। আর তা হবে নেক আমল ও হারাম পরিত্যাগের মাধ্যমে।
আলে ইমরান 3:132
১৩২. আর তোমরা আদেশ ও নিষেধ মানার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। তাহলে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে রহমত পাবে।
আলে ইমরান 3:133
১৩৩. তোমরা কল্যাণের কাজে এবং রকমারি বিষয়ে আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে দ্রæত ধাবমান হও যাতে তোমরা আল্লাহর মহা ক্ষমা পেতে পারো এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারো যার প্রস্থ আকাশ ও জমিন সমপরিমাণ। যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুত্তাকী বান্দাদের জন্যই তৈরি করেছেন।
আলে ইমরান 3:134
১৩৪. মুত্তাকীন ওরা যারা নিজেদের সম্পদগুলো স্বচ্ছল-অসচ্ছল তথা উভয় অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করে এবং যারা প্রতিশোধ নেয়ার শক্তি থাকা সত্তে¡ও নিজেদের রাগ নিবারণ করে। উপরন্তু যালিমকে ক্ষমা করে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা এমন চরিত্রের অধিকারী সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।
আলে ইমরান 3:135
১৩৫. আর যারা কোন কবীরা গুনাহ করে ফেললে অথবা তার চেয়ে নিচের কোন গুনাহ করে নিজেদের অধিকার ক্ষুণœ করলে সাথে সাথেই আল্লাহকে স্মরণ করে। এর পাশাপাশি পাপীদের জন্য আল্লাহর হুমকি ও মুত্তাকীদের জন্য আল্লাহর ওয়াদার কথা স্মরণ করে লজ্জিত হয়ে তাদের প্রভু থেকে গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দেয়ার এবং সেজন্য তাদেরকে পাকড়াও না করার আবেদন করে। কারণ, এক আল্লাহ ছাড়া আর কেউই গুনাহ মাফ করতে পারে না। উপরন্তু তারা একই গুনাহ বার বার করে না। তারা এ কথা স্বীকার করে যে, তারা পাপী। আর আল্লাহ তা‘আলা সকল গুনাহ ক্ষমাকারী।
আলে ইমরান 3:136
১৩৬. যারা এ প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাপূর্ণ চরিত্রের অধিকারী তাদের প্রতিদান হলো আল্লাহ তা‘আলা তাদের গুনাহগুলো গোপন রাখবেন এবং তা ক্ষমা করে দিবেন। আর তাদের জন্য রয়েছে পরকালে এমন জান্নাত যার অট্টালিকাগুলোর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে অনেকগুলো নদী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহর আনুগত্যকারীদের জন্য এটি হলো এক উত্তম প্রতিদান।
আলে ইমরান 3:137
১৩৭. যখন আল্লাহ তা‘আলা উহুদের দিনে ঈমানদারদেরকে অনেকগুলো বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা করলেন তখন তিনি তাদেরকে সান্ত¦না দিতে গিয়ে বলেন: তোমাদের পূর্ব থেকেই কাফিরদেরকে ধ্বংস করার ব্যাপারে আল্লাহর কিছু ঐশী নিয়ম রয়েছে। তবে মু’মিনদেরকে পরীক্ষা করার পর উত্তম পরিণতি কেবল তাদেরই হয়ে থাকে। তাই তোমরা জমিনে ভ্রমণ করে শিক্ষণীয় দৃষ্টিতে এদিক-ওদিক তাকাও দেখবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদেরকে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের কী পরিণতি হয়েছিলো? তাদের এলাকাগুলো খালি ও তাদের ক্ষমতা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেছে।
আলে ইমরান 3:138
১৩৮. এ কুর‘আন সকল মানুষের জন্য সত্যের বর্ণনা ও বাতিল থেকে সতর্ককারী। সেটি হলো হিদায়েতের প্রতি পথপ্রদর্শক আর মুত্তাকীদের জন্য ভীতি প্রদর্শনকারী। কারণ, এরাই তো এর উপদেশ ও হিদায়েত থেকে সত্যিকারার্থে লাভবান হয়।
আলে ইমরান 3:139
১৩৯. হে মু’মিনরা! তোমরা দুর্বল হয়ো না। আর উহুদের দিন যা তোমাদের ব্যাপারে ঘটেছে তার উপর চিন্তিতও হয়ো না এবং তা করা তোমাদের জন্য উচিতও নয়। কারণ, তোমরা ঈমানে বলীয়ান এবং আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়ের আশায় বলীয়ান। যদি তোমরা আল্লাহ এবং মুত্তাকী বান্দাদের সাথে তাঁর কৃত ওয়াদায় বিশ্বাসী হয়ে থাকো।
আলে ইমরান 3:140
১৪০. হে মু’মিনরা! উহুদের দিন যদি তোমরা আহত ও নিহত হয়ে থাকো তাহলে কাফিররাও তো ইতিপূর্বে তোমাদের ন্যায় আহত ও নিহত হয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিছু বিশেষ হিকমতের দরুন মু’মিন ও কাফিরদের মাঝে জয়-পরাজয়ের ধারা চালু রেখেছেন। তম্মধ্যে মু’মিনরা যেন মুনাফিদের থেকে বাস্তবেই ভিন্নরূপে প্রকাশ পায়। আর তিনি যাকে চান তাকে তাঁর পথে শাহাদাতের সম্মান দেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করে নিজেদের উপর যুলুমকারীদেরকে ভালোবাসেন না।
আলে ইমরান 3:141
১৪১. আরো কিছু হিকমত হলো মু’মিনদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্র করা, তাদের গ্রæপটিকে মুনাফিকমুক্ত করা এবং কাফিরদেরকে ধ্বংস ও মূলোৎপাটন করা।
আলে ইমরান 3:142
১৪২. হে মু’মিনরা! তোমরা কি ধৈর্য ও পরীক্ষা ছাড়া এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে বলে ধারণা করো? যার মাধ্যমে বাস্তবে আল্লাহর পথের মুজাহিদরা এবং তাতে সামনে আসা বিপদে সত্যিকারের ধৈর্যশীলরা প্রকাশ পাবে।
আলে ইমরান 3:143
১৪৩. হে মু’মিনরা! তোমরা মৃত্যুর কারণ ও ভয়াবহতা দেখার আগেই আল্লাহর পথে শাহাদাত পাওয়ার জন্য কাফিরদের সাক্ষাৎ আশা করছিলে যেমনিভাবে তা পেয়েছিলো বদর যুদ্ধে তোমাদের দ্বীনি ভাইয়েরা। উহুদ যুদ্ধে তো তোমরা নিজেদের বাস্তব চোখেই তা নিজেদের আশানুরূপই দেখতে পেলে।
আলে ইমরান 3:144
১৪৪. মুহাম্মাদ তো কেবল তাঁর পূর্বে মৃত্যু বরণকারী বা হত্যাকৃত রাসূলদের ন্যায় একজন রাসূল। তিনি যদি মরে যান অথবা তাঁকে হত্যা করা হয় তাহলে কি তোমরা নিজেদের ধর্মকর্ম ও জিহাদ ছেড়ে দিবে?! বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যকার যে নিজ ধর্ম ছেড়ে দিলো সে কস্মিনকালেও আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, তিনি হলেন শক্তিধর পরাক্রমশালী। বরং এর মাধ্যমে ধর্মত্যাগী ব্যক্তি নিজেই নিজকে দুনিয়া ও পরকালের ক্ষতির সম্মুখীন করলো। অচিরেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে তাঁর দ্বীনের উপর অবিচল থাকা ও তাঁর পথে জিহাদ করার দরুন উত্তম প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:145
১৪৫. আল্লাহর ফায়সালা ছাড়া কোন প্রাণীই মরতে পারে না। সে তখনই মরবে যখন তার জন্য বরাদ্দকৃত সময় ও জীবন সে পার করবে। তার কিছু আগেও নয়, পরেও নয়। যে ব্যক্তি নিজ আমলের মাধ্যমে কেবল দুনিয়ার প্রতিদানেরই ইচ্ছা করবে আমি তাকে তার জন্য বরাদ্দকৃত প্রতিদান অবশ্যই দিয়ে দিবো। আখিরাতে তার কোন অংশই থাকবে না। আর যে ব্যক্তি নিজ আমলের মাধ্যমে পরকালের প্রতিদানের ইচ্ছা করবে আমি অবশ্যই তাকে তার প্রতিদান দিয়ে দিবো। অচিরেই আমি প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে মহা প্রতিদানে ভ‚ষিত করবো।
আলে ইমরান 3:146
১৪৬. আল্লাহর অনেক নবীর অনুগামী হয়ে তাঁর অনুসারীদের অনেক দলই যুদ্ধ করেছে। তারা আল্লাহর পথে আহত-নিহত হয়ে জিহাদের ব্যাপারে কাপুরুষতা দেখায়নি। শত্রæর সাথে যুদ্ধ করতে তারা কোন ধরনের দুর্বলতা প্রদর্শন করেনি। না শত্রæর প্রতি অবনত হয়েছে। বরং তারা ধৈর্য ধারণ পূর্বক স্থির থেকেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পথে বিপদাপদে ধৈর্যশীলদেরকে পছন্দ করেন।
আলে ইমরান 3:147
১৪৭. যখন বিপদ নেমে আসলো তখন এ ধৈর্যশীলদের একটাই কথা ছিলো তারা বললো: হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দিন। আর শত্রæর সাক্ষাতের সময় আমাদেরকে দৃঢ়পদ করুন। উপরন্তু আপনি আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায়ের উপর বিজয় দিন।
আলে ইমরান 3:148
১৪৮. তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বিজয় ও স্থায়িত্বের মাধ্যমে দুনিয়ার প্রতিদানে ভ‚ষিত করলেন। আর পরকালে তিনি তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে এবং তাদেরকে জান্নাতুন-নায়ীমে চিস্থায়ী নিয়ামত দিয়ে সুন্দর প্রতিদানের ব্যবস্থা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা ইবাদাতে ও লেনদেনে নিষ্ঠাবানদেরকে ভালোবাসেন।
আলে ইমরান 3:149
১৪৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! তোমরা যদি ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুশরিক কাফিরদের ভ্রষ্টতার আদেশ মানো তাহলে তারা তোমাদেরকে ঈমানের পর আবারো কুফরির দিকে ফিরিয়ে নিবে। ফলে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হয়ে যাবে।
আলে ইমরান 3:150
১৫০. তোমরা এ কাফিরদের যতোই আনুগত্য করো না কেন তারা কখনোই তোমাদের কোন সাহায্য করবে না। বরং আল্লাহই কেবল তোমাদেরকে তোমাদের শত্রæর উপর বিজয় দিবেন। তাই তোমরা কেবল তাঁরই আনুগত্য করো। তিনি হলেন তোমাদের সর্বোত্তম সাহায্যকারী। তাঁর পর আর কারোরই তোমাদের কোন প্রয়োজন নেই।
আলে ইমরান 3:151
১৫১. অচিরেই আমি কাফিরদের অন্তরে কঠিন ভয় ঢুকিয়ে দেবো। কাফিররা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কোন প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের মনগড়া অন্য মা’বূদের ইবাদাতের মাধ্যমে তাঁর সাথে শিরক করার দরুন যুদ্ধক্ষেত্রে কখনো স্থির থাকতে পারবে না। পরকালে যে ঠিকানায় তারা ফিরে যাবে তা হলো জাহান্নাম। জালিমদের জন্য জাহান্নাম কতোই না নিকৃষ্ট ঠিকানা।
আলে ইমরান 3:152
১৫২. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাথে শত্রæর উপর বিজয় সম্পর্কে কৃত ওয়াদা উহুদের দিন নিশ্চয়ই বাস্তবায়ন করে দেখালেন। যখন তোমরা তাদেরকে তাঁর ইচ্ছায় কঠিনভাবে হত্যা করছিলে। পরিশেষে তোমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশের উপর অবিচল থাকার ব্যাপারে দুর্বলতা ও কাপুরুষতা দেখালে এবং তোমরা নিজেদের অবস্থানে টিকে থাকা ও তা ছেড়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহ করার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে দ্ব›েদ্ব লিপ্ত হলে। উপরন্তু সর্বাবস্থায় নিজেদের জায়গায় টিকে থাকা সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশ অমান্য করলে। আর এটি হয়েছিলো আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে শত্রæর উপর বিজয়ের মতো তোমাদের পছন্দনীয় বিষয়টি দেখিয়ে দেয়ার পর। তোমাদের কেউ কেউ দুনিয়ার যুদ্ধলব্দ সম্পদ কামনা করে। এরা ওরা যারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান পরিত্যাগ করেছে। আবার কেউ কেউ পরকালের সাওয়াব চায়। এরা ওরা যারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশ মান্য করে নিজেদের অবস্থানে টিকে ছিলো। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের থেকে তোমাদেরকে বিমুখ করলেন এবং উল্টো তাদেরকে তোমাদের উপর জয়যুক্ত করলেন। বস্তুতঃ এর মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। যাতে বিপদে ধৈর্যশীল মু’মিন ব্যক্তি পদস্খলিত দুর্বল ব্যক্তি থেকে ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। অতঃপর তোমরা যে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশের বিপরীতে অবস্থান করছিলে তা আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের উপর অত্যন্ত করুণাময়। কারণ, তিনি তাদেরকে প্রথমতঃ ঈমানের পথ দেখিয়েছেন। তাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিয়েছেন। উপরন্তু তিনি তাদেরকে বিপদাপদের পুণ্য দিয়েছেন।
আলে ইমরান 3:153
১৫৩. হে মু’মিনরা! তোমরা স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন তোমরা উহুদের দিন দূরে পালিয়ে যাচ্ছিলে, যখন তোমাদেরকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশ অমান্যের দরুন ব্যর্থতা পেয়ে বসেছিলো। যখন তোমরা একজন অপরজনের দিকে সামান্য ভ্রƒক্ষেপও করছিলে না। অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের ও কাফিরদের মাঝে দাঁড়িয়ে তোমাদেরকে পেছন থেকে এ বলে ডাকছিলেন: হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা আমার দিকে আসো। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা আমার দিকে আসো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বিজয় ও যুদ্ধলব্দ সম্পদ তোমাদের হাতছাড়া করিয়ে তোমাদেরকে সঙ্কীর্ণতা ও দুঃখের প্রতিদান দিলেন। যার পর আরো সঙ্কীর্ণতা ও দুঃখ রয়েছে। উপরন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হত্যার খবরটিও তোমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর এসব নাযিল করেছেন এ জন্য যে, তোমরা যেন বিজয় ও যুদ্ধলব্দ সম্পদ হারানো এবং আহত ও নিহতের ব্যাপারে চিন্তিত না হও। কারণ, তোমরা জেনে ফেলেছো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে হত্যা করা হয়নি। তখন সকল বিপদ ও ব্যথা তোমাদের জন্য সহজ হয়ে গেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট তোমাদের আন্তরিক ও দৈহিক কোন খবরই গোপন নয়।
আলে ইমরান 3:154
১৫৪. অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের দুঃখ ও সঙ্কীর্ণতার পর তোমাদের উপর প্রশান্তি ও প্রশস্ততা নাযিল করেছেন। তাই তোমাদের মধ্যকার যারা আল্লাহর ওয়াদায় আস্থাশীল তাদের অন্তরে নিরাপত্তা ও প্রশান্তি থাকার দরুন তাদেরকে তন্দ্রা পেয়ে বসেছে। আর অন্য দলটি নিরাপত্তা ও তন্দ্রা কোনটিরই নাগাল পায়নি। তারা ছিলো মুনাফিক। তাদের চিন্তা ছিলো শুধু নিজেদের নিরাপত্তা। তাই তারা ভয় ও অস্থিরতায় ভুগছিলো। তারা আল্লাহর ব্যাপারে এ খারাপ ধারণা করেছিলো যে, তিনি তাঁর রাসূল ও তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে সাহায্য করবেন না। যেমন জাহিলী যুগের লোকেরা ধারণা করতো, যারা মূলতঃ আল্লাহকে সত্যিকারভাবে সম্মান করতে শিখেনি। মুনাফিকরা আল্লাহর ব্যাপারে তাদের মূর্খতার দরুন বলতো, যুদ্ধে বের হওয়ার ব্যপারে আমাদের কোন মতামতই গ্রহণ করা হয়নি। যদি আমাদের মতামত গ্রহণ করা হতো তাহলে আমরা এ যুদ্ধে কখনোই বের হতাম না। হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: বস্তুতঃ সকল ব্যাপার আল্লাহরই হাতে। তিনি যা চান নিরূপন করেন এবং যা চান তাই ফায়সালা করেন। তিনিই তোমাদের বের হওয়া তোমাদের তাকদীরে লিখে রেখেছেন। মূলতঃ মুনাফিকরা তাদের অন্তরে অনেক খারাপ ধারণা ও সন্দেহ লুকিয়ে রেখেছে যা তোমার নিকট তারা প্রকাশ করছে না। তারা বলে: বস্তুতঃ যুদ্ধে বের হওয়ার ব্যাপারে আমাদের মতামতের কোন গুরুত্ব থাকলে আজ আমাদেরকে এখানে মরতে হতো না। হে নবী! আপনি তাদের প্রতিউত্তরে বলে দিন: যদি তোমরা হত্যা ও মৃত্যুর জায়গা থেকে বহু দূরে তথা নিজেদের ঘরে অবস্থান করতে তাহলেও যার নিহত হবার কথা আল্লাহ তা‘আলা লিখে রেখেছেন সে হত্যার জায়গার দিকে অবশ্যই বের হতো। আল্লাহ তা‘আলা এটি তোমাদের ভাগ্যে লিখে রেখেছেন, যেন তিনি তোমাদের অন্তরের নিয়ত ও উদ্দেশ্যসমূহ পরীক্ষা এবং ঈমান ও মুনাফিকীর পার্থক্য করতে পারেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের অন্তরের সব কিছুই জানেন। কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়।
আলে ইমরান 3:155
১৫৫. হে মুহাম্মাদের সাথীরা! তোমাদের মধ্যকার যারা উহুদের দিন তথা মুশরিক ও মুসলিম উভয় দলের পরস্পর মুখোমুখী হওয়ার পর পরাজিত হয়েছে তাদেরকে মূলতঃ শয়তান তাদের কিছু গুনাহের দরুন পদস্খলনে উৎসাহিত করেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে নিজ দয়া ও কৃপায় এজন্য পাকড়াও করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাওবাকারীর প্রতি ক্ষমাশীল। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল; কাউতে দ্রæত শাস্তি দেন না।
আলে ইমরান 3:156
১৫৬. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা মুনাফিকদের মধ্যকার কাফিরদের মতো হয়ো না। যারা নিজেদের আত্মীয়দের কেউ রিযিক অনুসন্ধানের জন্য সফর কিংবা যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেলে অথবা তাদেরকে হত্যা করা হলে তারা বলে: এরা যদি সফরে কিংবা যুদ্ধে না গিয়ে আমাদের কাছে থাকতো তাহলে তারা মরতো না কিংবা তাদেরকে হত্যা করা হতো না। আল্লাহ ত‘আলা তাদের অন্তরে এ বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছেন যেন তাদের অন্তরে আফসোস ও অস্থিরতা আরো বেড়ে যায়। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা একাই নিজ ইচ্ছায় মানুষকে জীবন ও মৃত্যু দিয়ে থাকেন। কারো ঘরে বসে থাকার তাকদীরকে যেমন সে প্রতিরোধ করতে পারে না, তেমন ঘর থেকে বের হওয়ার তাকদীরকেও সে দ্রæত এগিয়ে আনতে পারে না। মূলতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐই দেখছেন। তাঁর নিকট তোমাদের কোন কাজই গোপন নয়। অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:157
১৫৭. হে মু’মিনরা! যদি আল্লাহর পথে তোমাদেরকে হত্যা করা হয় কিংবা তোমরা সফরে গিয়ে মারা যাও নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে অফুরন্ত দয়া ও ক্ষমা করবেন। যা এ দুনিয়া ও তার অধিবাসীরা যে নশ্বর নিয়ামত সংগ্রহ করে সে সবের চেয়ে অনেক উত্তম।
আলে ইমরান 3:158
১৫৮. তোমরা যদি মারা যাও - যেভাবেই তোমাদের মৃত্যু হোক না কেন - অথবা তোমাদেরকে যদি হত্যা করা হয় তাহলে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার দিকেই তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে। যাতে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কাজের প্রতিদান দিতে পারেন।
আলে ইমরান 3:159
১৫৯. হে নবী! আল্লাহর অতীব দয়ার কারণেই আপনার সাথীদের সাথে আপনি সহজ আচরণ করতে পারছেন। আপনি যদি নিজ কথা ও কাজে শক্ত ও খুব কঠিন হৃদয়ের হতেন তাহলে তারা আপনার থেকে বহু দূরে সরে যেতো। তাই আপনি নিজ অধিকারে তাদের ত্রæটিসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর প্রয়োজনীয় পরামর্শের ক্ষেত্রে তাদের মতামত তলব করুন। পরামর্শের পর আপনি যদি কোন কাজে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন তাহলে আপনি তা চালিয়ে যান এবং আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর উপর ভরসাকারীদেরকে পছন্দ করেন এবং তাদেরকে ভালো কাজের তাওফীক দেন ও সাহায্য করেন।
আলে ইমরান 3:160
১৬০. যদি আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাহায্য ও সহযোগিতায় তোমাদেরকে শক্তিশালী করেন তাহলে কেউ আর তোমাদেরকে পরাজিত করতে পারবে না। যদি পুরো বিশ্ববাসীও তোমাদের বিরুদ্ধে একমত হয়ে যায়। আর যদি তিনি তোমাদের সহযোগিতা পরিত্যাগ করেন এবং তোমাদেরকে তোমাদের নিজেদের প্রতি সোপর্দ করেন তাহলে তাঁর পর আর কেউ তোমাদেরকে কোন সহযোগিতা করতে পারবে না। কারণ, বিজয় একমাত্র তাঁরই হাতে। আর মু’মিনদেরকে অবশ্যই সর্বদা এক আল্লাহর উপরই ভরসা করতে হবে; অন্য কারো উপর নয়।
আলে ইমরান 3:161
১৬১. গনীমত তথা যুদ্ধলব্ধ কোন কিছু আত্মসাৎ করা কোন নবীর জন্য জায়িয হবে না যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করেননি। তোমাদের কেউ গনীমতের কোন কিছু আত্মসাৎ করলে কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্ছিত করে শাস্তি দেয়া হবে। সে সবার সামনে সেদিন আত্মসাৎকৃত বস্তুটি বহন করে আনবে। অতঃপর সেদিন প্রতিটি মানুষকে তার কৃত কর্মের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের কম-বেশি করা হবে না। সেদিন কারো গুনাহ বেশি করে অথবা কারো সাওয়াব কম করে তার উপর যুলুম করা হবে না।
আলে ইমরান 3:162
১৬২. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার মাধ্যম তথা ঈমান ও নেক আমলের অনুসরণ করে আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কুফরি ও বদ আমল করে তাঁর কঠিন রোষানলে পতিত হয় তারা উভয়ই আল্লাহর নিকট কখনো এক হতে পারে না। বরং শেষোক্ত ব্যক্তির ঠিকানা হবে জাহান্নাম। যা সর্বনিকৃষ্ট গন্তব্য ও ঠিকানা।
আলে ইমরান 3:163
১৬৩. তারা আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে ভিন্ন মর্যাদার। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের সকল কর্মকাÐ দেখছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই লুক্কায়িত নয়। অচিরেই তিনি সবাইকে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:164
১৬৪. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে বিশেষ নিয়ামত দিয়েছেন ও তাদের প্রতি প্রচুর অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মাঝে তাদের জাত থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে কুরআন পড়ে শুনাবেন। তাদেরকে শিরক ও চারিত্রিক পঙ্কিলতা থেকে পরিচ্ছন্ন করবেন উপরন্তু তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দিবেন। বস্তুতঃ তারা এ রাসূলের রিসালাতের পূর্বে হিদায়েত ও সঠিক পথ হারিয়ে সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতায় নিমগ্ন ছিলো।
আলে ইমরান 3:165
১৬৫. হে মু’মিনরা! উহুদের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে এবং তোমাদের কেউ কেউ সেখানে নিহত হয়ে তোমরা যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছো, মনে রাখবে তোমরা ইতিপূর্বে বদর যুদ্ধে এর দ্বিগুণ শত্রæদেরকে হত্যা ও বন্দী করেছিলে। তোমরা বললে: কেন আমাদের এমন হলো; অথচ আমরা সবাই মু’মিন এবং আল্লাহর নবীও আমাদের সাথে আছেন?! হে নবী! আপনি বলে দিন: তোমাদের যা বিপদ হয়েছে তা তোমাদের নিজের কারণেই হয়েছে যখন তোমরা পরস্পর দ্ব›দ্ব ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল। তিনি যাকে চান সাহায্য করেন আর যাকে চান লাঞ্ছিত করেন।
আলে ইমরান 3:166
১৬৬. উহুদ যুদ্ধে উভয় পক্ষ একত্রিত হলে তোমাদের পক্ষে আহত, নিহত এবং বাহ্যিক পরাজিত হওয়ার যে ব্যাপারটি ঘটেছে তা আল্লাহর ইচ্ছায় এবং তিনি তোমাদের তাকদীরে লিখে রেখেছেন বলেই ঘটেছে। এমনকি এর একটি মহৎ উদ্দেশ্যও ছিলো। আর তা হলো যেন সত্যবাদী মু’মিনরা সহজেই প্রকাশ পায়।
আলে ইমরান 3:167
১৬৭. আর মুনাফিকরাও যেন প্রকাশ পায়। তাদেরকে যখন বলা হয়, তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো অথবা মুসলমানদের সংখ্যা বাড়িয়ে কাফিরদেরকে প্রতিহত করো। তখন তারা বলে: আমরা যদি জানতাম সেখানে যুদ্ধ হবে তাহলে আমরা তোমাদেরই অনুসরণ করতাম। তবে আমরা তাদের ও তোমাদের মাঝে কোন যুদ্ধ হবে এমন মনে করি না। এমতাবস্থায় তারা তখন ঈমানের চেয়েও কুফরির বেশি নিকটবর্তী। বস্তুতঃ তারা মুখ দিয়ে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আর আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরের গোপনীয় সব কিছুই জানেন। তাই অচিরেই তিনি তাদেরকে এর জন্য শাস্তি দিবেন।
আলে ইমরান 3:168
১৬৮. যারা যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে রয়েছে এবং যারা নিজেদের যুদ্ধাহত আত্মীয়দেরকে বলে: তারা যদি আমাদের কথা মানতো এবং যুদ্ধের জন্য বের না হতো তাহলে তাদেরকে আজ হত্যা করা হতো না। হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: তাহলে তোমাদের কারো মৃত্যু আসলে তোমরা তা নিজেদের থেকে প্রতিরোধ করো। যদি তোমরা নিজেদের এ দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো যে, তারা তোমাদের আনুগত্য করলে তাদেরকে আর হত্যা করা হতো না। আর তোমাদের মৃত্যু থেকে বাঁচার কারণই হলো আল্লাহর পথে জিহাদ করা থেকে বিরত থাকা।
আলে ইমরান 3:169
১৬৯. হে নবী! আপনি এ ধারণা করবেন না যে, যাদেরকে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে গেলে হত্যা করা হলো তারা সত্যিই মৃত। বরং তারা তাদের প্রভুর নিকট তাঁর সম্মানের জায়গায় বিশেষ জীবনে জীবিত। এমনকি তাদেরকে রকমারি নিয়ামতের রিযিক দেয়া হচ্ছে যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না।
আলে ইমরান 3:170
১৭০. তারা আল্লাহর অনুগ্রহ পেয়ে অত্যন্ত ধন্য ও আনন্দিত। এমনকি তারা এমন আশা ও অপেক্ষা করছে যে, তাদের যে ভাইয়েরা দুনিয়াতে রয়ে গেছে তারাও যেন দ্রæত তাদের সাথে মিলিত হয়। কারণ, যুদ্ধ করতে গেলে যদি তাদেরকেও হত্যা করা হয় তাহলে তারাও এদের ন্যায় অচিরেই আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে। এমনকি তারা পরকালের ব্যাপারে কোন ধরনের ভীত এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস হারানোর জন্য কোন ধরনের চিন্তিতও হবে না।
আলে ইমরান 3:171
১৭১. এমনকি তারা এর পাশাপাশি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অপেক্ষাকৃত বড় প্রতিদান বরং আরো বেশি কিছু পেয়ে আনন্দিত হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের কোন পুণ্যই বাতিল করেন না। বরং তিনি তাদেরকে পুরোপুরি প্রতিদান দেন। এমনকি আরো বাড়িয়েও দেন।
আলে ইমরান 3:172
১৭২. যারা উহুদের যুদ্ধে ভীষণভাবে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরও যখন তাদেরকে “হামরাউল-আসাদ” যুদ্ধে মুশরিকদের মুখোমুখী হওয়া এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার জন্য বের হতে বলা হলো তখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সঠিকভাবে সাড়া দিয়েছে। তাদের শারীরিক ক্ষতগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিতে তাদেরকে বাধা সৃষ্টি করেনি। তাদের মধ্যকার যারা উত্তম আমল করেছে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করেছে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা পুরস্কার তথা জান্নাত রয়েছে।
আলে ইমরান 3:173
১৭৩. তাদেরকে যখন কিছু মুশরিক বললো: কুরাইশরা আবূ সুফয়ানের নেতৃত্বে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা ও তোমাদেরকে সমূলে উৎপাটন করার জন্য প্রচুর মানুষ একত্রিত করেছে তাই তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক হও এবং তাদেরকে ভয় করো তখন মুশরিকদের এ ভীতি প্রদর্শন আল্লাহর প্রতি তাদের বিশ্বাস এবং তাঁর ওয়াদার প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা আরো বাড়িয়ে দেয়। তখন তারা কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য বের হয়ে যায় এবং বলে: আমাদের জন্য এক আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি এক মহান সত্তা যাঁর নিকট আমাদের সকল ব্যাপারই অর্পণ করছি।
আলে ইমরান 3:174
১৭৪. পরিশেষে তারা “হামরাউল-আসাদ” যুদ্ধের দিকে বের হওয়ার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে অসামান্য পুণ্যাদি, প্রচুর মর্যাদা এবং শত্রæ পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা লাভ করে ফেরত এসেছে। এমনকি সেখানে আহত-নিহতের কোন ব্যাপারই ঘটেনি। উপরন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি তথা তাঁর আনুগত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে দূরে থাকার পথকে অনুসরণ করেছে। আসলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মু’মিন বান্দাদের প্রতি বড়ই কৃপাবান।
আলে ইমরান 3:175
১৭৫. মূলতঃ তোমাদের ভীতি প্রদর্শনকারী হলো শয়তান। সে তোমাদেরকে তার সাঙ্গপাঙ্গ ও সহযোগীদের ভয় দেখায়। তোমরা কখনো তাদের সামনে কাপুরুষতা দেখাবে না। কারণ, লাভ-ক্ষতির ব্যাপারে তাদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই। তোমরা যদি সত্যিকার মু’মিন হয়ে থাকো তাহলে তোমরা এক আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁরই আনুগত্য করো।
আলে ইমরান 3:176
১৭৬. হে রাসূল! মুনাফিকদের মধ্যকার যারা স্বধর্মত্যাগ করে কুফরির প্রতি দ্রæত অগ্রসর তারা যেন আপনাকে চিন্তিত করতে না পারে। কারণ, তারা কখনো আল্লাহর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। বরং তারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও তাঁর আনুগত্য থেকে দূরে সরে নিজেরা নিজেদেরই ক্ষতি করছে। তাদেরকে লাঞ্ছিত করে এবং ভালো কাজের তাওফীক না দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা চাচ্ছেন আখিরাতে যেন তাদের কোন অংশই না থাকে। বরং তাদের জন্য জাহান্নামের কঠিন শাস্তি রয়েছে।
আলে ইমরান 3:177
১৭৭. যারা ঈমানের পরিবর্তে কুফরিকে পছন্দ করেছে তারা কখনোই আল্লাহর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছে। পরকালে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
আলে ইমরান 3:178
১৭৮. যারা নিজেদের প্রভুর সাথে কুফরি ও তাঁর শরীয়তকে অগ্রাহ্য করেছে তারা যেন এ কথা মনে না করে যে, কুফরি সত্তে¡ও তাদের জীবন বাড়িয়ে দেয়া এবং তাদেরকে কিছুটা সময়-সুযোগ দেয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর। তারা যেমন মনে করছে ব্যাপারটি কিন্তু তেমন নয়। বরং আমি তাদেরকে সময়-সুযোগ দিচ্ছি যেন তারা আরো অনেক বেশি পাপ করে। তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
আলে ইমরান 3:179
১৭৯. হে মু’মিনগণ! এটি আল্লাহর কৌশল নয় যে, তিনি তোমাদেরকে কোন ধরনের পার্থক্য ছাড়াই মুনাফিকদের সাথে সর্বদা মিলেঝুলে থাকতে দিবেন। যেখানে সত্যিকার মু’মিনদেরকে পরিষ্কারভাবে চিনা যাবে না। বরং তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের বিধান ও পরীক্ষা দিয়ে পার্থক্য করবেন। যেন একজন পবিত্র মু’মিন অপবিত্র মুনাফিক থেকে পৃথক হয়ে যায়। আর এটিও আল্লাহর কৌশল নয় যে, তিনি তোমাদেরকে গাইবের ব্যাপারে অবিহিত করে মুনাফিক ও মু’মিনের মাঝে পার্থক্যের জ্ঞান দিবেন। বরং তিনি তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে চান তাঁকে কিছু গাইবের ব্যাপার জানানোর জন্য বাছাই করেন। যেমনিভাবে তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে মুনাফিকদের অবস্থা জানিয়ে দিলেন। তাই তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর আনীত দৃঢ় বিশ্বাসকে কর্মে বাস্তবায়ন করো। তোমরা যদি সত্যিকারার্থে ঈমানদার হও এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে একমাত্র তাঁকেই ভয় করো তাহলে তোমাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা পুরস্কার।
আলে ইমরান 3:180
১৮০. যারা আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের ব্যাপারে কৃপণতা দেখায় তথা তা থেকে আল্লাহর অধিকার আদায় করে না তারা যেন এমন মনে না করে যে, এ কাজটি তাদের জন্য খুবই উত্তম। বরং এটি তাদের জন্য খুবই নিকৃষ্ট। কারণ, তারা যে সম্পদের ব্যাপারে কৃপণতা দেখিয়েছে তা অচিরেই কিয়ামতের দিন তাদের গলার বেড়ি হবে। যা কর্তৃক তারা শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। বস্তুতঃ এক আল্লাহর দিকেই আকাশ ও জমিনের সব কিছু প্রত্যাবর্তন করবে। তাঁর সকল সৃষ্টি ধ্বংস হওয়ার পর শুধু তিনিই জীবিত থাকবেন। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল সূ²াতিসূ² কর্মকাÐ সম্পর্কে ভালোই জানেন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আলে ইমরান 3:181
১৮১. আল্লাহ তা‘আলা ইহুদিদের কথা শুনেছেন যখন তারা বললো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ফকির। কারণ, তিনি আমাদের নিকট ঋণ চেয়েছেন। আর আমরা ধনী। কারণ, আমাদের নিকট প্রচুর সম্পদ রয়েছে। অবশ্যই আমি তাদের প্রভুর ব্যাপারে এ মিথ্যা অপবাদ এবং অবৈধভাবে তাদের নবীদেরকে হত্যা করার ব্যাপারটি লিখে রাখছি। আর আমি তাদেরকে বলবো: তোমরা জাহান্নামের জ্বলন্ত শাস্তি আস্বাদন করো।
আলে ইমরান 3:182
১৮২. হে ইহুদিরা! এ শাস্তি মূলতঃ তোমরা যে পাপ ও লজ্জাজনক কাজ করেছো সে জন্যই। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের কারো প্রতি কোন ধরনের যুলুম করেন না।
আলে ইমরান 3:183
১৮৩. তারাই একদা মিথ্যা ও অপবাদের সুরে বলেছিলো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবসমূহে এবং তাঁর নবীদের মুখে আমাদেরকে এ আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা কোন রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবো না যতক্ষণ না তিনি আমাদের নিকট তাঁর কথার সত্যতার প্রমাণ আনেন। আর তা হলো তিনি এমন সদকা দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবেন যাকে আকাশ থেকে আগুন এসে জ্বালিয়ে দিবে। প্রকৃতপক্ষে তারা এ অসিয়তের দাবির ক্ষেত্রে এবং রাসূলদের সত্যতা উল্লিখিত প্রমাণে সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে আল্লাহর উপর মিথ্যাচার করেছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে তাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলার আদেশ করলেন যে, তোমাদের নিকট তো আমার পূর্বেও অনেক নবী তাঁদের সত্যতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছেন এবং তাঁরা তোমাদের উল্লিখিত সে সদকাও পেশ করেছেন যাকে আকাশ থেকে আগুন এসে জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারপরও তোমরা কেন তাঁদেরকে মিথ্যুক বলেছিলে এবং তাঁদেরকে কেন হত্যা করেছিলে? তোমরা নিজেদের কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকলে এর উত্তর দাও।
আলে ইমরান 3:184
১৮৪. হে নবী! তারা যদি আপনাকে মিথ্যুকও বলে তাতে আপনি কোন ধরনের চিন্তিত হবেন না। কারণ, এটি হলো কাফিরদের চিরায়ত অভ্যাস। আপনার পূর্বেও অনেক নবীকে মিথ্যুক বলা হয়েছিলো। অথচ তাঁরা সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন। এমনকি তাঁরা নিজেদের উম্মতদের নিকট উপদেশে ভরা কিতাবসমূহ এবং বিধি-বিধানের প্রতি পথপ্রদর্শক গ্রন্থও নিয়ে এসেছিলেন।
আলে ইমরান 3:185
১৮৫. প্রত্যেক প্রাণী সে যেই হোক না কেন তাকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে। তাই আল্লাহর কোন সৃষ্টি যেন এ দুনিয়ার ব্যাপারে কোন ধরনের ধোঁকায় না পড়ে। কিয়ামতের দিবসে তোমাদের প্রত্যেককে অবশ্যই তার আমলের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের ঘাটতি করা হবে না। অতএব, আল্লাহ তা‘আলা যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন সেই মূলতঃ আকাক্সিক্ষত কল্যাণের নাগাল এবং আশঙ্কিত অকল্যাণ থেকে মুক্তি পাবে। বস্তুতঃ দুনিয়ার জীবন হলো একটি নশ্বর ভোগের জীবন। তাই একমাত্র ধোঁকা খাওয়া ব্যক্তিই তার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে।
আলে ইমরান 3:186
১৮৬. হে মু’মিনরা! তোমাদেরকে সম্পদের ব্যাপারে অবশ্যই পরীক্ষা করা হবে। তোমরা তাতে বাধ্যতামূলক অধিকারগুলো আদায় করছো কী না তা দেখা হবে। এমনকি তাতে রকমারি বিপদাপদও নাযিল হবে। তেমনিভাবে তোমাদেরকে ব্যক্তিগতভাবেও পরীক্ষা করা হবে। তোমরা শরীয়তের বিধি-বিধানগুলো মেনে চলছো কী না তা দেখা হবে। এমনকি তোমাদের উপর রকমারি বিপদাপদও নাযিল হবে। আর তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব এবং মুশরিকদের থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথাও শুনতে পাবে। তারা তোমাদের ব্যাপারে এবং তোমাদের ধর্মের ব্যাপারেও অনেক আঘাতমূলক কথা বলবে। যদি তোমরা রকমারি বিপদাপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করতে পারো তাহলে তা এমন একটি কাজ হবে যাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতার প্রয়োজন।
আলে ইমরান 3:187
১৮৭. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টান আলিমদের থেকে এ মর্মে কঠিন অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, যেন তারা মানুষের কাছে আল্লাহর কিতাব পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে এবং তার কোন হিদায়েতের বাণী তথা মুহাম্মাদের নবুওয়াতের প্রমাণ যেন লুকিয়ে না রাখে। কার্যতঃ তারা এ অঙ্গীকারকে প্রত্যাখ্যান করলো এবং তার প্রতি কোন ভ্রƒক্ষেপই করলো না। বরং তারা সত্যকে লুকিয়ে রেখে বাতিলকে প্রকাশ করেছে। এমনকি তারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গের বিনিময়ে সামান্য মূল্য নিয়েছে। যেমন: পদমর্যাদা ও ধন-সম্পদ। যা তারা কদাচিৎ পায়। সে মূল্য কতোই না নিকৃষ্ট যা আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গের বিনিময়ে গ্রহণ করা হয়।
আলে ইমরান 3:188
১৮৮. হে নবী! যারা খারাপ কিছু করে খুশি হয় আর ভালো কিছু না করেও মানুষের প্রশংসা কুড়াতে চায় তাদের ব্যাপারে আপনি এ ধারণা করবেন না যে, তারা আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদে থাকবে। বরং তাদের জায়গা হবে জাহান্নাম। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আলে ইমরান 3:189
১৮৯. একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ, জমিন ও এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সে সব কিছুর কতৃত্ব। তিনিই এসব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলো পরিচালনা করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।
আলে ইমরান 3:190
১৯০. নিশ্চয়ই পূর্ব থেকে নির্ধারিত বিনা নমুনায় আকাশ ও জমিন সৃষ্টি, দিন ও রাতের পরম্পরা এবং লম্বা ও খাটো হওয়ার কারণে এ দু’য়ের মাঝে সৃষ্ট ভিন্নতায় সঠিক বুদ্ধিমানদের জন্য প্রচুর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যা এমন ¯্রষ্টাকে বুঝায় যিনি এককভাবে ইবাদাতের উপযুক্ত।
আলে ইমরান 3:191
১৯১. এরাই দাঁড়িয়ে, বসে ও শোয়া তথা সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করে এবং আকাশ ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে বলে: হে আমাদের প্রভু! আপনি এ মহান সৃষ্টিকে এমনিতেই সৃষ্টি করেননি। আপনি অর্থহীন কর্ম থেকে পবিত্র। তাই আপনি আমাদেরকে নেকের তাওফীক দিয়ে এবং খারাপ থেকে বাঁচিয়ে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
আলে ইমরান 3:192
১৯২. হে আমাদের প্রভু! আপনি আপনার সৃষ্টির যাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন সে নিশ্চিতভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত। বস্তুতঃ জালিমদের জন্য কিয়ামতের দিন এমন কোন সাহায্যকারী থাকবে না যারা তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর আযাব ও তাঁর শাস্তিকে প্রতিহত করবে।
আলে ইমরান 3:193
১৯৩. হে আমাদের প্রভু! আমরা ঈমানের পথে আহŸানকারী আপনার নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ডাক শুনেছি তিনি বলেন: তোমরা নিজেদের প্রভু এক আল্লাহতে বিশ্বাস করো। তখন আমরা তাঁর আহŸানকৃত বস্তুর প্রতি ঈমান এনেছি। আর তাঁর শরীয়তের অনুসরণ করেছি। তাই আপনি আমাদের পাপগুলো ঢেকে দিন। আপনি আমাদেরকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। উপরন্তু আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন। সে জন্য আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। আর আপনি আমাদেরকে কল্যাণকর কাজ করা ও গুনাহ পরিত্যাগের তাওফীক দানের মাধ্যমে নেককারদের সাথে মৃত্যু দিন।
আলে ইমরান 3:194
১৯৪. হে আমাদের প্রভু! আপনি আপনার রাসূলদের মুখে হেদায়েত ও দুনিয়ার বিজয়ের যে ওয়াদা দিয়েছেন তা আমাদেরকে দিন। তা ছাড়া আপনি আমাদেরকে কিয়ামতের দিনে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে লাঞ্ছিত করবেন না। হে আমাদের প্রভু! আপনি নিশ্চয়ই দানশীল; ওয়াদা ভঙ্গকারী নন।
আলে ইমরান 3:195
১৯৫. আল্লাহ তা‘আলা তাদের ডাক শুনে বললেন: আমি তোমাদের কোন আমলের সাওয়াব নষ্ট করবো না, তা কম হোক বা বেশি, আমলকারী পুরুষ হোক বা মহিলা। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে তোমাদের সকলের বিধান একই। পুরুষের জন্য কোন ধরনের বাড়তি এবং মহিলার জন্য কোন ধরনের কমতি করা হবে না। অতএব, যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে এবং তাদেরকে কাফিররা তাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তাদের প্রভুর আনুগত্যের দরুন যারা কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে এবং আল্লাহর বাণী সুউচ্চ করার জন্য যারা তাঁর পথে যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে। আমি কিয়ামতের দিন তাদের সকল গুনাহ অবশ্যই ক্ষমা করে দেবো এবং এর জন্য তাদেরকে পাকড়াও করবো না। তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার অট্টালিকাসমূহের তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হবে। এটি হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতিদান। বস্তুতঃ কেবল আল্লাহর নিকটই রয়েছে উত্তম প্রতিদান যার কোন তুলনা হয় না।
আলে ইমরান 3:196
১৯৬. হে নবী! দুনিয়ার আনাচে-কানাচে কাফিরদের মুক্ত চলাফেরা এবং তাদের দক্ষতা, ব্যাবসা-বাণিজ্য ও রিযিকের প্রশস্ততা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। যার ফলে আপনি তাদের অবস্থা দেখে অস্থির ও চিন্তাগ্রস্ত হবেন।
আলে ইমরান 3:197
১৯৭. বস্তুতঃ এ দুনিয়াটি হলো সামান্য সময়ের সুখ-সম্ভোগ। যার কোন স্থায়িত্ব নেই। এরপর কিয়ামতের দিন তাদের গন্তব্য হবে জাহান্নাম। বস্তুতঃ জাহান্নাম কতোই না নিকৃষ্ট বাসস্থান।
আলে ইমরান 3:198
১৯৮. তবে যারা তাদের প্রভুর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত যার অট্টালিকাসমূহের তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হবে। তাতে তারা সর্বদা অবস্থান করবে। এটি হবে তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত প্রতিদান। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যা তাঁর নেককার বান্দাদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন তা কাফিরদের জন্য দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের চেয়ে অতি উত্তম ও অধিক শ্রেষ্ঠ।
আলে ইমরান 3:199
১৯৯. আহলে কিতাবদের সবাই কিন্তু আবার এক ধরনের নয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা আল্লাহ তা‘আলা এবং তোমাদের উপর যে সত্য ও হিদায়েত নাযিল করা হয়েছে, পাশাপাশি তাদের নিকট তাদের কিতাবে যা নাযিল করা হয়েছে সে সবের উপর বিশ্বাসী। তারা রাসূলদের মাঝে কোন পার্থক্য সৃষ্টি করে না। তারা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত। তারা আল্লাহর নিকট রহমতের আশা করে। তারা আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে দুনিয়ার সামান্য ভোগ-বিলাস গ্রহণ করে না। যারা এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা আমলের দ্রæত হিসাব ও তার দ্রæত প্রতিদান দানকারী।
আলে ইমরান 3:200
২০০. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদাররা! তোমরা শরীয়তের বিধি-বিধান এবং প্রতি নিয়ত দুনিয়ার যে বিপদাপদের সম্মুখীন হচ্ছো তার উপর ধৈর্য ধারণ করো। আর ধৈর্য ধারণের ব্যাপারে কাফিরদেরকে পরাজিত করো। তোমরা যেন তাদের চেয়ে অধিক ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে পারো। আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদে অটল থাকো এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করো তাহলে তোমরা জাহান্নাম থেকে বেঁচে ও জান্নাতে প্রবেশ করে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে।
আন-নিসা 4:1
১. হে মানবজাতি! তোমরা নিজেদের প্রভুকে ভয় করো। কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে এক আত্মা তথা তোমাদের পিতা আদম থেকে সৃষ্টি করেছেন। এমনকি তিনি আদম থেকে তার স্ত্রী তথা তোমাদের মা হাওয়াকেও সৃষ্টি করেছেন। উপরন্তু তিনি তাদের উভয় থেকে দুনিয়ার আনাচে-কানাচে প্রচুর মানুষ তথা পুরুষ ও মহিলাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের নিকট এভাবে চাও যে, আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে তোমার নিকট এ কামনা করছি যে, তুমি এমন এমন করবে। তেমনিভাবে তোমরা নিজেদের মধ্যকার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের একান্ত পর্যবেক্ষক। তাই তোমাদের কোন আমলই তাঁর অলক্ষ্যে নেই। বরং তিনি তা সবই হিসাব করছেন। যার ভিত্তিতেই তিনি তোমাদেরকে প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:2
২. হে ওসিয়তকারীরা! পিতৃহারা এতিমরা বালেগ ও বুদ্ধিমান হলে তোমরা তাদের সম্পদগুলো পুরোপুরিভাবে দিয়ে দাও। আর তোমরা হারামকে হালালের বিপরীতে গ্রহণ করো না। তোমরা এতিমদের উত্তম সম্পদগুলো গ্রহণ করে তাদেরকে এর বিপরীতে নি¤œ মানের খারাপ সম্পদগুলো দিবে না। আর তাদের সম্পদগুলো নিজেদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে তা গ্রাস করবে না। কেননা, এটি আল্লাহর নিকট একটি মহাপাপ।
আন-নিসা 4:3
৩. তোমরা যদি নিজেদের অধীনস্থ এতীম মেয়েদেরকে বিবাহ করলে তাদের উপর যুলুম বা বেইনসাফির ভয় করো চাই তা তাদেরকে তাদের উপযুক্ত মোহরানা না দিয়ে হোক কিংবা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাহলে তোমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করে অন্যান্য পবিত্রা মেয়েদেরকে বিবাহ করো। চাইলে তোমরা এদের থেকে দু’টি, তিনটি কিংবা চারটি বিবাহ করতে পারো। বেইনসাফির ভয় হলে একটি বিবাহ করাই যথেষ্ট অথবা নিজেদের অধীনস্থ বাঁদীদের ব্যবহার করো। কারণ, তাদের সেই অধিকার নেই যা নিজ স্ত্রীদের জন্য রয়েছে। উক্ত আয়াতে এতীমদের সম্পর্কে, শুধু একটি বিবাহ করা অথবা বাঁদীদেরকে ব্যবহার করা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা যুলুম না করা ও সত্যভ্রষ্ট না হওয়ার নিকটবর্তী।
আন-নিসা 4:4
৪. আর তোমরা বাধ্যতামূলকভাবে মহিলাদেরকে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করবে। বিনা চাপে তারা তোমাদেরকে স্বেচ্ছায় মহরের কিয়দংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা বিনা দ্বিধায় আনন্দ চিত্তে খেতে পারো।
আন-নিসা 4:5
৫. হে অভিভাবকরা! সম্পদের সুন্দর ব্যবহার জানেনা এমন লোকদের হাতে সম্পদ উঠিয়ে দিয়ো না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পদগুলোকে জীবন ধারণ ও মানুষের বহুমুখী সুবিধাদির মাধ্যম বানিয়েছেন। আর এরা এ সম্পদগুলো নির্বাহ এবং সংরক্ষণের উপযুক্ত নয়। তবে তোমরা তা থেকে তাদের খাদ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করো। আর তাদের সাথে সুন্দর কথা বলো। উপরন্তু তোমরা তাদের সাথে এ সুন্দর ওয়াদা করো যে, তারা বুঝমান ও সম্পদের সুন্দর ব্যবহার জানলে তাদের সম্পদ তাদেরকেই ফিরিয়ে দিবে।
আন-নিসা 4:6
৬. হে অভিভাবকরা! এতিমরা সাবালক হলে তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করো। তাদেরকে তাদের সামান্যটুকু সম্পদ ব্যয় করার সুযোগ দাও। যদি তারা তা থেকে সুন্দরভাবে তাসারুফ বা ব্যয় করে এবং তাতে তাদের সঠিক বুঝ সুস্পষ্ট হয় তাহলে কোন ধরনের কমতি ছাড়া তাদের পুরো সম্পদটুকুই দিয়ে দাও। প্রয়োজনে তাদের যে সম্পদ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য হালাল করেছেন সে সীমা অতিক্রম করে তোমরা তাদের সম্পদ খেয়ো না। তারা বড় হয়ে তাদের সম্পদ নিয়ে নিবে এ ভয়ে তোমরা তাদের সম্পদ দ্রæত খেয়ে ফেলো না। তোমাদের কারো নিকট চলার মতো যথেষ্ট সম্পদ থাকলে সে যেন এতীমের সম্পদ গ্রহণ না করে। তবে সম্পদহীন ফকির প্রয়োজন মাফিক গ্রহণ করবে। পক্ষান্তরে তারা সাবালক ও সুস্পষ্ট বুঝসম্পন্ন হওয়ার পর তাদের সম্পদগুলো তাদেরকে হস্তান্তর করার সময় কাউকে সাক্ষী রাখো। যাতে তাদের অধিকারসমূহ রক্ষা পায় এবং তাতে কোন ধরনের দ্ব›দ্ব সৃষ্টি না হয়। বস্তুতঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট সাক্ষী। তিনি তাঁর বান্দাদের সকল কর্মকাÐের সঠিক হিসাব রক্ষক।
আন-নিসা 4:7
৭. মাতা-পিতা ও নিকটাত্মীয় যেমন ভাই ও চাচারা তাদের মৃত্যুর পর কম-বেশি যে সম্পদটুকু রেখে যাবে তাতে পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই অধিকার রয়েছে। জাহিলী যুগের মত নয়; যখন মহিলা ও বাচ্চাদেরকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা হতো। বস্তুতঃ এ অধিকারটুকু আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক ও সুস্পষ্ট পরিমিত।
আন-নিসা 4:8
৮. মিরাস বন্টনের সময় ফকির ও এতীম আর যে আত্মীয়রা মিরাস পায় না তারা উপস্থিত থাকলে সম্পদ বন্টনের আগেই তোমাদের ইচ্ছা মাফিক এমনিতেই তাদেরকে কিছু সম্পদ দিয়ে দাও। কারণ, তারা তা পাওয়ার জন্য লালায়িত। আর তোমরাও তা বিনা কষ্টে পেয়েছো। উপরন্তু তোমরা তাদের সাথে সুশ্রী সুন্দর কথা বলো।
আন-নিসা 4:9
৯. যারা নিজেদের মৃত্যুর পর দুনিয়াতে রেখে যাওয়া বুদ্ধিতে অপরিপক্ক ছোট ছোট বাচ্চাদের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তারা যেন নিজেদের অধীনস্থ এতীমদের উপর যুলুম করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে। যাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানের জন্য এমন অভিভাবকের ব্যবস্থা করেন যারা তাদের সন্তানের প্রতি এমনভাবে দয়া করবে যেমনিভাবে তারা অন্যের সন্তানের প্রতি দয়া করেছে। যারা তার ওসিয়তের সময় উপস্থিত থাকে তারাও যেন ওদের সন্তানদের অধিকারের ব্যাপারে ভালো আচরণ করে। তারা যেন ওদের সাথে সত্য ও সঠিক কথা বলে। যাতে সে তার মৃত্যুর পর ওসিয়তের ক্ষেত্রে তার ওয়ারিশের অধিকারের উপর কোন ধরনের যুলুম না করে এবং সেও যেন ওসিয়ত না করে নিজকে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত না করে।
আন-নিসা 4:10
১০. যারা এতীমদের সম্পদ গ্রাস করে তাতে যুলুম ও অত্যাচারমূলক তাসারুফ করে তারা যেন নিজেদের পেটে জ্বলন্ত আগুন ঢুকায় যা কিয়ামতের দিন অচিরেই তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলবে।
আন-নিসা 4:11
১১. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অঙ্গীকার নিচ্ছেন এবং তোমাদের সন্তানের মিরাসের ব্যাপারে তোমাদেরকে আদেশ করছেন। মিরাস তাদের মাঝে এভাবে বন্টন হবে যে, ছেলে পাবে দু’ মেয়ের সমপরিমাণ। যদি মৃত ব্যক্তি শুধু মেয়ে সন্তান রেখে যায় তাহলে দু’ বা ততোধিক মেয়ে মিরাসের দু’ তৃতীয়াংশ পাবে। আর একটি মেয়ে হলে সে পাবে অর্ধেক। উপরন্তু মৃতের মাতা-পিতার প্রত্যেকেই মিরাসের এক ষষ্টাংশ পাবে যদি তার ছেলে বা মেয়ে থাকে। আর যদি তার কোন সন্তানই না থাকে এমনকি তার মাতা-পিতা ছাড়া তার কোন ওয়ারিশই না থাকে তাহলে তার মা পাবে মিরাসের এক তৃতীয়াংশ। আর বাকি মিরাস তার পিতা পাবে। আর যদি মৃতের কোন ভাই-বোন থাকে দু’ বা ততোধিক, আপন বা সৎ তাহলে তার মা তার জন্য নির্ধারিত এক ষষ্টাংশ পাবে। আর বাকিটুকু তার পিতা নির্ধারিত ও অনির্ধারিত মিলে সবটাই পাবে। তার ভাই-বোনরা এর কিছুই পাবে না। মূলতঃ মিরাসের এ বন্টনটুকু মৃতের অসিয়ত বাস্তবায়নের পরই হবে। তবে তার ওসিয়তটুকু মিরাসের এক তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারবে না। এমনকি এ বন্টনটুকু মৃতের জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই হবে। আল্লাহ তা‘আলা মিরাসের বন্টনটুকু এভাবে করেছেন। কারণ, তোমরা জানো না পিতা-মাতা ও সন্তানদের মধ্যকার কে দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য বেশি লাভজনক হবে। কখনো মৃত ব্যক্তি দুনিয়াতে থাকাবস্থায় তার ওয়ারিশদের কাউকে ভালো মনে করে তার পুরো সম্পদটুকু তাকে দিয়ে দেয় অথবা কাউকে খারাপ মনে করে তাকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত করে; অথচ বাস্তবতা তার উল্টো হয়। বস্তুতঃ যিনি এ সবই জানেন তিনি হলেন আল্লাহ। যাঁর নিকট কোন কিছুই লুক্কায়িত নয়। তাই তিনি উল্লেখিত নিয়মে মিরাস বন্টন করেছেন। যা তিনি তাঁর পক্ষ থেকে ফরয ও বান্দাহর জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মহাজ্ঞানী যাঁর নিকট তাঁর বান্দাদের কোন সুবিধার ব্যাপারই লুক্কায়িত নয়। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:12
১২. হে স্বামীরা! তোমরা সন্তানহীন স্ত্রীর অর্ধেক মিরাস পাবে। সন্তান থাকলে তাদের মিরাসের এক চতুর্থাংশ পাবে। এ বন্টনটি মূলতঃ তাদের অসিয়ত বাস্তবায়ন এবং তাদের জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই হবে। হে স্বামীরা! তোমরা নিঃসন্তান হলে তোমাদের মিরাস থেকে তোমাদের স্ত্রীরা এক চতুর্থাংশ পাবে। আর থাকলে মিরাসের এক অষ্টমাংশ পাবে। এ বন্টনটিও মূলতঃ তোমাদের অসিয়ত বাস্তবায়ন এবং তোমাদের জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই হবে। পুরুষ বা মহিলা মাতা-পিতা এবং সন্তানহীন মারা গেলে তাদের বৈপিত্রেয় ভাই অথবা বোন থাকলে তাদের বৈপিত্রেয় ভাই অথবা বোন তাদের জন্য নির্ধারিত এক ষষ্টমাংশই পাবে। আর যদি তাদের বৈপিত্রেয় ভাই অথবা বোন একাধিক থাকে তাহলে তাদের সবার জন্য এক তৃতীয়াংশ মিরাস রয়েছে যাতে তারা নির্ধারিতভাবে সমান অংশীদার হবে। তাতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার। তবে তারাও তাদের অংশ গ্রহণ করবে মৃতের অসিয়ত বাস্তবায়ন এবং তার জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই। এ শর্তে যে, তার ওসিয়তও তার ওয়ারিশদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারবে না। যেমন: তার ওসিয়ত মিরাসের এক তৃতীয়াংশের বেশি হওয়া। আয়াতে উল্লেখিত বিধানটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি চুক্তিস্বরূপ যা তিনি তোমাদের উপর বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা বান্দার দুনিয়া ও আখিরাতের সব লাভজনক বিষয় জানেন। তিনি ধৈর্যশীল। কোন পাপীকে তিনি দ্রæত শাস্তি দেন না।
আন-নিসা 4:13
১৩. এতীম ও অন্যান্যদের সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখিত বিধানাবলী আল্লাহর শরীয়ত যা তিনি তার বান্দাদের আমলের জন্য নির্ধারিত করেছেন। যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার অট্টালিকাগুলোর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদ-নদী। তারা তাতে বিশেষভাবে অবস্থান করবে। কোন ধ্বংস তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না। আর এ ঐশী প্রতিদান হলো এমন মহান সফলতা যার সমকক্ষ আর কোন সফলতা নেই।
আন-নিসা 4:14
১৪. আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানাবলীকে অমান্য করে তথা তার উপর আমল না করে অথবা তাতে কোন ধরনের সন্দেহ পোষণ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে উপরন্তু তাঁর শরীয়তের গÐি অতিক্রম করবে তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন যাতে সে বিশেষভাবে অবস্থান করবে এবং তাতে রয়েছে তার জন্য অতি লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
আন-নিসা 4:15
১৫. তোমাদের মহিলারা ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে চাই তারা বিবাহিতা হোক কিংবা অবিবাহিতা তোমরা তাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণ চার জন মুসলিম পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করো। তারা এদের ব্যাপারে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সাক্ষ্য দিলে তোমরা তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ ঘরে আটকে রাখো যতক্ষণ না তাদের জীবন মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয় অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে বন্দীদশা ছাড়া অন্য কোন পথ বের করে দেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য একটি বিশেষ পথ বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিবাহিতা ব্যভিচারিণী মেয়ের জন্য একশ’টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর এবং বিবাহিতাকে পাথর মেরে হত্যা করার বিধান করেছেন।
আন-নিসা 4:16
১৬. আর যে পুরুষদ্বয় ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় চাই তারা বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত তোমরা তাদেরকে হাত ও মুখ দিয়ে লাঞ্ছনা ও তিরস্কারমূলক শাস্তি দাও। ফলে তারা যদি উক্ত কর্মকাÐ পরিত্যাগ করে এবং তাদের অবস্থা ভালো হয়ে যায় তাহলে তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকো। কারণ, পাপ থেকে তাওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের তাওবা গ্রহণকারী ও তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। মূলতঃ এ জাতীয় শাস্তি ইসলামের প্ররম্ভিক যুগে ছিলো অতঃপর তা অবিবাহিতকে একশ’টি বেত্রাঘাত ও দেশান্তর এবং বিবাহিতকে একেবারে পাথর মেরে হত্যা করার মাধ্যমে রহিত করা হয়েছে।
আন-নিসা 4:17
১৭. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ওদের তাওবা গ্রহণ করেন যারা পাপ ও গুনাহের পরিণতি ও অনিষ্টের কথা না জেনে তাতে লিপ্ত হয় (আর এটিই হলো ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত পাপীদের অবস্থা) অতঃপর মৃত্যু দেখার পূর্বে তাদের প্রভুর প্রতি নত হয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসে। আল্লাহ তা‘আলা এদের তাওবাই গ্রহণ করেন এবং তাদের অপরাধসমূহের প্রতি কোন ধরনের ভ্রƒক্ষেপই করেন না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত উপরন্তু তিনি তাঁর তাক্বদীর ও শরীয়তের ব্যাপারে প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:18
১৮. তবে যারা গুনাহের উপর অটল থেকে তা থেকে দ্রæত তাওবা না করে তাদের তাওবা আল্লাহ তা‘আলা গ্রহণ করেন না। মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করার সময় তাদের কেউ কেউ বলে: আমি এখন আমার সমস্ত পাপ থেকে তাওবা করছি। তেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা কুফরিতে অটল মৃত ব্যক্তির তাওবাও কবুল করেন না। বস্তুতঃ আমি গুনাহের উপর অটল পাপী এবং কুফরির উপর অটল অবস্থায় মৃত্যু বরণকারীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।
আন-নিসা 4:19
১৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমাদের জন্য জায়িয হবে না সম্পদের ন্যায় তোমাদের বাপ-দাদার স্ত্রীদের ওয়ারিশ হওয়া। যার ফলে তোমরা তাদেরকে বিবাহ করবে অথবা যার সাথে চাও তার সাথে বিবাহ দিবে কিংবা তাদেরকে কারো সাথে বিবাহ বসতে বাধা দিবে। তেমনিভাবে তোমাদের জন্য জায়িয হবে না তোমাদের অপছন্দনীয় স্ত্রীদেরকে কষ্ট দেয়ার নিয়্যাতে নিজের অধীনে আটকে রাখা। যেন তারা তোমাদেরকে তাদেরকে দেয়া মোহরানা ইত্যাদির কিছু অংশ ফেরত দেয়। তবে তারা ব্যভিচারের ন্যায় সুস্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে তা ভিন্ন কথা। বস্তুতঃ তারা এমন করলে তাদেরকে নিজের অধীনে আটকে রেখে তাদেরকে কোনঠাসা করা জায়িয। যাতে তারা তোমাদের দেয়া মোহরানাটুকু তোমাদেরকে ফেরত দিয়ে তোমাদের অধীন থেকে নিজেদেরকে ছাড়িয়ে নেয়। আর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করো। তাদেরকে কষ্ট না দিয়ে বরং তাদের প্রতি দয়া করো। দুনিয়ার কোন কারণে তাদেরকে অপছন্দ করলেও তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করো। আশা করা যায়, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অপছন্দের মধ্যেও দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনের বহু কল্যাণ রেখেছেন।
আন-নিসা 4:20
২০. হে স্বামীরা! যদি তোমরা নিজেদের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাও তাহলে তাতে তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। তবে যদি তোমরা যার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাকে ইতোপূর্বে প্রচুর সম্পদ মোহরানা হিসেবে দিয়ে থাকো তারপরও তা থেকে কোন কিছু ফেরত নেয়া তোমাদের জন্য জায়িয হবে না। কারণ, তোমাদের দেয়া কোন কিছু পুনরায় গ্রহণ করা তোমাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপ হিসেবেই পরিগণিত।
আন-নিসা 4:21
২১. কীভাবেই বা তোমরা নিজেদের দেয়া মোহরানাটুকু আবার ফেরত নিবে; অথচ তোমাদের মাঝে ইতিমধ্যে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। যেমন: পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা এবং যৌন সম্ভোগ ও পরস্পরের গোপনীয় ব্যাপারগুলো জানা। কারণ, এরপরও তাদের হাতে থাকা সম্পদের লোভ করা সত্যিই একটি গর্হিত ও বিশ্রী কাজ। অথচ তারা তোমাদের থেকে ইতোপূর্বে একটি শক্ত ও কঠিন অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। আর তা হলো আল্লাহর বাণী ও তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে তাদেরকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করা।
আন-নিসা 4:22
২২. তোমাদের বাপ-দাদার স্ত্রীদেরকে তোমরা বিবাহ করো না। কারণ, এটি একটি হারাম কাজ। তবে ইসলাম পূর্ব বিষয় ধর্তব্য নয়। কারণ, ছেলেরা বাপ-দাদার স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা একটি মহা বিশ্রী কাÐ, এর কর্তা আল্লাহর রোষানলে পতিত হওয়ার বিশেষ কারণ ও এ পথে চলা ব্যক্তির জন্য এটি একটি নিকৃষ্ট পথ।
আন-নিসা 4:23
২৩. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন তোমাদের মা-নানীদেরকে বিবাহ করা; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তথা মায়ের মা ও তার নানী। চাই তা বাপের পক্ষ থেকে হোক কিংবা মায়ের পক্ষ থেকে। তোমাদের মেয়েদেরকে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তথা মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে। তেমনিভাবে ছেলের মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তোমাদের বোনদেরকে; চাই তারা মাতা-পিতা উভয়ের পক্ষ থেকে হোক অথবা কোন একজনের পক্ষ থেকে। তোমাদের ফুফীদেরকে তেমনিভাবে তোমাদের বাপ-দাদা ও মা-নানীদের ফুফীদেরকেও; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তোমাদের খালাদেরকে; তেমনিভাবে তোমাদের মা-নানী ও বাপ-দাদাদের খালাদেরকেও; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তোমাদের ভাই ও বোনের মেয়েদেরকে এবং তাদের সন্তানদেরকে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তোমাদের দুধ মা এবং তোমাদের দুধ বোনদেরকে। তোমাদের স্ত্রীদের মায়েদেরকে; চাই তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো কিংবা নাই করো। তোমাদের স্ত্রীদের অন্যের ঔরসজাত মেয়েদেরকে। যদিও তারা সাধারণত তোমাদের ঘরেই লালিত-পালিত ও বড় হয়েছে। তেমনিভাবে যারা তোমাদের ঘরে লালিত-পালিত হয়নি তারাও। যদি তোমরা তাদের মায়েদের সাথে সহবাস করে থাকো। আর যদি তোমরা তাদের মায়েদের সাথে সহবাস না করে থাকো তাহলে তাদের মেয়েদেরকে বিবাহ করায় তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। আরো হারাম করা হয়েছে তোমাদের ঔরসজাত ছেলেদের স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা। যদিও তারা এখনো তাদের সাথে সহবাস করেনি। এ বিধানের অধীনে আরো রয়েছে দুধ ছেলেদের স্ত্রীরাও। আরো তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে বংশীয় অথবা দুধপান সম্পর্কীয় দু’ বোনকে একই জনের বিবাহ বন্ধনে একত্রিত করা। তবে জাহিলী যুগে গত হওয়া বিষয় আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তেমনিভাবে কোন মহিলা ও তার ফুফী অথবা তার খালাকে একই ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে একত্রিত করা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত।
আন-নিসা 4:24
২৪. তেমনিভাবে তিনি তোমাদের উপর বিবাহিতা মহিলাদেরকে বিবাহ করা হারাম করে দিয়েছেন। তবে আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে বন্দী করার মাধ্যমে তোমরা যাদের মালিক হয়েছো তাদের কথা অবশ্যই ভিন্ন। একটি ঋতু¯্রাবের মাধ্যমে তাদের জরায়ুগুলো খালি প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল। উক্ত বিধানটি পালন করা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর একেবারেই ফরয করে দিয়েছেন। আর এ ছাড়া অন্যান্য মেয়েদেরকে তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন। তোমরা ব্যভিচারের ইচ্ছা ছাড়া হালালভাবে নিজেদের সম্পদের মাধ্যমে তাদেরকে বিবাহ করে নিজেদের সাধুতা ও পবিত্রতা রক্ষা করতে পারো। তোমরা বিবাহের মাধ্যমে তাদের কাউকে সম্ভোগ করলে তাদেরকে তাদের মোহরানা দিয়ে দিবে। যা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর একান্তভাবে ফরয করে দিয়েছেন। তোমরা বাধ্যতামূলক মোহরানাটুকু নির্ধারণের পর পরস্পরের সম্মতিতে তাতে কম-বেশি করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাদের কোন কিছুই তাঁর নিকট লুক্কায়িত নয়। তিনি তাঁর শরীয়ত নির্ধারণ ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:25
২৫. হে পুরুষরা! তোমাদের মধ্যকার কেউ সম্পদের স্বল্পতার দরুন স্বাধীন নারীদেরকে বিবাহ করতে সক্ষম না হলে তার জন্য জায়িয অন্যের মালিকানাধীন বাঁদীদেরকে বিবাহ করা। যদি তারা বাহ্য দৃষ্টিতে মু’মিনা বলে প্রমাণিত হয়ে থাকে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ঈমানের হাকীকত বা সঠিকতা এবং তোমাদের ভিতরগত অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। মূলতঃ তোমরা ও তারা ধর্ম ও মনুষ্যত্বের বিবেচনায় এক সমান। তাই তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে কোন ধরনের অনীহা প্রকাশ করো না। তোমরা তাদের মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে তাদেরকে বিবাহ করো এবং কোন ধরনের তালবাহানা ও কমতি ছাড়া তাদের মোহরানাগুলো তাদেরকে দিয়ে দাও। যদি তারা সতী এবং প্রকাশ্য ব্যভিচারিণী না হয়ে থাকে। উপরন্তু তারা লুকিয়ে ব্যভিচারের জন্য কোন ধরনের অন্তরঙ্গ বন্ধু গ্রহণ না করে থাকে। যদি তারা বিবাহের পর ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় তাহলে তাদের দÐবিধি হবে স্বাধীন মহিলাদের শাস্তির অর্ধেক। তথা পঞ্চাশ বেত্রাঘাত। তবে তাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে না। যা স্বাধীন বিবাহিতা মহিলাদের ব্যভিচারের বিপরীত। উক্ত বিধান তথা সতী মু’মিনা বাঁদীদেরকে বিবাহ করা জায়িয হওয়া ওই ব্যক্তির জন্য ছাড় যে নিজের ব্যাপারে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কাকারী এবং স্বাধীন নারীদেরকে বিবাহে অক্ষম। তবে বান্দি বিবাহ করার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করাই সর্বাধিক শ্রেয়। যাতে সন্তানদেরকে গোলামি থেকে রক্ষা করা যায়। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তাঁর দয়ার কারণেই তিনি স্বাধীন নারীদেরকে বিবাহ করতে অক্ষম হওয়া অবস্থায় ব্যভিচারের আশঙ্কায় বান্দিদেরকে বিবাহ করার বিধান চালু করেন।
আন-নিসা 4:26
২৬. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য এ বিধানগুলো চালু করার মাধ্যমে তাঁর দ্বীন ও শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী এবং তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকর বিষয় তোমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চান। তেমনিভাবে তিনি চান তোমাদেরকে হালাল-হারাম, সম্মানজনক বৈশিষ্ট্যাবলী ও প্রশংসনীয় চরিত্রের ক্ষেত্রে তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের পথ দেখাতে। তিনি আরো চান তোমাদেরকে গুনাহ থেকে তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে আনতে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাতে তাঁর বান্দাদের নিহিত কল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত হন। তাই তিনি তাদের জন্য সেই বিধানগুলোই রচনা করেছেন। তিনি তাঁর শরীয়ত ও তাঁর বান্দাদের কর্মকাÐ পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:27
২৭. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তাওবা কবুল ও তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে চান। আর যারা নিজেদের ভোগ-বিলাসের পেছনে ঘুরে বেড়ায় তারা চায় তোমরা যেন সঠিকতার পথ ছেড়ে অনেক দূরে সরে যাও।
আন-নিসা 4:28
২৮. আল্লাহ তা‘আলা শরীয়তের বিধানাবলীকে তোমাদের উপর হালকা করতে চান। তাই তিনি তোমাদেরকে তোমাদের সাধ্যাতীত কোন কিছু করতে বাধ্য করেন না। কারণ, তিনি মানুষের গঠন ও চরিত্রের দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত।
আন-নিসা 4:29
২৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমাদের কেউ যেন বাতিল পন্থায় অন্যের সম্পদ গ্রাস না করে। যেমন: ঘুষ, চুরি, অপহরণ ইত্যাদি। তবে চুক্তিবদ্ধ উভয় পক্ষের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে অর্জিত ব্যবসার সম্পদ তোমাদের জন্য খাওয়া ও খরচ করা বৈধ। তোমাদের কেউ যেন অন্যকে হত্যা না করে আর না সে আত্মহত্যা ও নিজকে ধ্বংসের সম্মুখীন করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের প্রতি দয়াশীল। তাঁর দয়ার কারণেই তিনি তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত অন্যের উপর হারাম করে দিয়েছেন।
আন-নিসা 4:30
৩০. যে ব্যক্তি উক্ত নিষিদ্ধ কর্মগুলো করে তথা অবৈধভাবে অন্যের সম্পদ খায় অথবা হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে তার উপর অত্যাচার করে জেনেশুনে ও অত্যাচারবশত, মূর্খতা কিংবা ভুলবশত নয়, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামতের দিন অচিরেই ভয়ানক আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে তার উত্তপ্ততা অনুভব ও তার শাস্তির কঠোরতা ভোগ করবে। আল্লাহর জন্য এটি খুবই সহজ। কারণ, তিনি এতোই শক্তিশালী যে, কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।
আন-নিসা 4:31
৩১. হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা ও সুদ খাওয়ার মতো বড় বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকলে আমি তোমাদের সম্পাদিত ছোট ছোট গুনাহগুলো মুছে ও লুকিয়ে ক্ষমা করে দেবো। উপরন্তু তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট সম্মানজনক জায়গায় প্রবেশ করাবো যা হবে জান্নাত।
আন-নিসা 4:32
৩২. হে মু’মিনরা! তোমরা একের উপর অন্যের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারগুলোর আশা ও আকাক্সক্ষা করো না। কারণ, তা রাগ ও হিংসার দিকে নিয়ে যায়। তাই কোন মহিলার জন্য উচিত নয় আল্লাহ তা‘আলা পুরুষকে যে বিশেষত্ব দিয়েছেন তার আশা করা। কারণ, প্রত্যেক শ্রেণীর জন্যই তার উপযুক্ত কিছু আমল রয়েছে। বরং তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর বেশি বেশি দান-খয়রাত কামনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুই জানেন। তাই তিনি প্রত্যেক শ্রেণীকে তার উপযুক্ত কর্ম দিয়েছেন।
আন-নিসা 4:33
৩৩. তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি আসাবাহ বা ওয়ারিশ বানিয়েছি। যারা তাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যে মিরাস রেখে গেছে তার ওয়ারিশ হবে। আর যাদের সাথে তোমরা শক্ত অঙ্গীকার করেছো জোটবদ্ধ থাকা ও সহযোগিতার উপর তাদেরকে তাদের মিরাসের অংশটুকু দিয়ে দিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ে সাক্ষী। তোমাদের কসম ও অঙ্গীকারের উপর সাক্ষী থাকা তারই অন্যতম। কারো সাথে জোটবদ্ধ থাকার ভিত্তিতে মিরাস এটি ইসলামের শুরু যুগে ছিলো যা পরবর্তীতে রহিত হয়ে গেছে।
আন-নিসা 4:34
৩৪. বস্তুতঃ পুরুষরা মহিলাদের নেতৃত্ব দেয় এবং তাদের বিষয়াদির দায়িত্বভার গ্রহণ করে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মহিলাদের উপর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের গুণে গুণান্বিত করেছেন। উপরন্তু তিনি পুরুষদের উপর ভরণপোষণ ও দায়িত্বভার গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। তাই নেককার মহিলারা তাদের রব্ব ও তাদের স্বামীর প্রতি আনুগত্যশীল এবং তাদের প্রতি আল্লাহর তাওফীকের দরুন নিজেদের স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাদের প্রতিও যতœশীল হবে। হে স্বামীরা! তোমরা যে স্ত্রীদের কথা ও কাজে তাদের স্বামীদের আনুগত্যের ব্যাপারে অবজ্ঞার আশঙ্কা করো তখন তোমরা তাদেরকে স্বামীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দাও এবং আল্লাহর ভয় দেখাও। তারা এতে সাড়া না দিলে তাদের বিছানা পরিত্যাগ করো। তথা স্বামী তার স্ত্রীকে পেছনে রেখে শুবে এবং সহবাস হতে বিরত থাকবে। এতেও সাড়া না দিলে তাদেরকে যখম করা ছাড়া মারবে। এতে আনুগত্যের দিকে ফিরে আসলে তাদের প্রতি যুলুম বা তিরস্কার করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক বস্তুর উপরে ক্ষমতাবান। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে মহান। তাই তোমরা তাঁকেই ভয় করো।
আন-নিসা 4:35
৩৫. হে স্বামী-স্ত্রীর অভিভাবকরা! তোমরা যদি তাদের মধ্যকার বিরোধটুকু শত্রæতা এবং একে অপরের পেছনে পড়া পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করো তাহলে স্বামীর পরিবারের পক্ষের একজন এবং স্ত্রীর পরিবারের পক্ষের একজন ন্যায়পরায়ণ লোক পাঠাও। যাতে তারা ওদের মাঝে ছাড়াছাড়ি কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে লাভজনক ফায়সালা করে। তবে সমঝোতাই হলো উত্তম ও পছন্দনীয়। ফায়সালাকারীদ্বয় সমঝোতা চাইলে এবং উপযুক্ত পন্থা অবলম্বন করলে আল্লাহ তা‘আলা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমঝোতারই ব্যবস্থা করবেন এবং তাদের বিরোধ মিটে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তাঁর বান্দাদের কোন কিছুই গোপন নয়। তিনি তাদের অন্তরগুলোর গোপন এবং সূ² ব্যাপারগুলোও ভালোভাবে জানেন।
আন-নিসা 4:36
৩৬. তোমরা পূর্ণ আনুগত্যসহ এক আল্লাহরই ইবাদাত করো। তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদাত করো না। আর মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণ করো। তাদের প্রতি সম্মান ও কল্যাণের আচরণ করো। তেমনিভাবে নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম ও ফকিরদের প্রতি সদাচরণ করো। আরো সদাচরণ করো নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী এবং অনাত্মীয় প্রতিবেশীর সাথে। আরো সদাচরণ করো তোমাদের সার্বক্ষণিক সাথীর প্রতি। তেমনিভাবে সদাচরণ করো অপরিচিত মুসাফিরের প্রতি যার সমূহ চলার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আরো সদাচরণ করো তোমাদের মালিকানাধীন গোলাম-বাঁদির প্রতি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আত্মম্ভরি ও তাঁর বান্দাদের প্রতি অহঙ্কারী কাউকে ভালোবাসেন না। যে মানুষের নিকট অহঙ্কারবশত নিজের প্রশংসা করে।
আন-নিসা 4:37
৩৭. আল্লাহ তা‘আলা ওদেরকে ভালোবাসেন না যারা আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে তাদের উপর আরোপিত বাধ্যতামূলক খরচাদি করতে নিষেধ করে এবং কথায় ও কাজে অন্যদেরকেও এর আদেশ করে। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে রিযিক, জ্ঞান ইত্যাদি যা দান করেছেন তাও লুকিয়ে রাখে। মানুষের কাছে সত্য বর্ণনা করে না বরং তা লুকিয়ে রেখে বাতিলটিই প্রকাশ করে। বস্তুতঃ এ চরিত্রগুলো কুফরি চরিত্র। আর আমি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তির ব্যবস্থা করেছি।
আন-নিসা 4:38
৩৮. তেমনিভাবে আমি আযাব প্রস্তুত রেখেছি ওদের জন্য যারা নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে যেন মানুষ তাদেরকে এমতাবস্থায় দেখে তাদের প্রশংসা করে। অথচ তারা আল্লাহ তা‘আলা ও কিয়ামতের দিবসের উপর ঈমান আনে না। আমি এ জাতীয় মানুষের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তির ব্যবস্থা করেছি। মূলতঃ শয়তানের অনুসরণই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। আর শয়তান যার সর্বক্ষণের সাথী হবে সে অবশ্যই একজন নিকৃষ্ট সাথী।
আন-নিসা 4:39
৩৯. তাদের কী ক্ষতি হতো যদি তারা আল্লাহ তা‘আলা ও কিয়ামতের দিবসের উপর সত্যিকারার্থে ঈমান আনতো এবং নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদগুলো ব্যয় করতো। বরং এতেই সমূহ কল্যাণ। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাদের কোন অবস্থাই তাঁর কাছে গোপন নয়। তিনি অচিরেই প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:40
৪০. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ন্যায়পরায়ণ। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি সামান্যটুকুও যুলুম করেন না। একটি ছোট পিপীলিকা পরিমাণ সাওয়াবও তাদের কম করেন না। এতটুকু পাপ তাদের বাড়িয়ে দেন না। একটি অণু পরিমাণ নেকি হলেও তিনি দয়া করে তার সাওয়াব দিগুণ করেন। এমনকি তা দিগুণ করা সত্তে¡ও তিনি তাঁর পক্ষ থেকে আরো অঢেল সাওয়াব দিয়ে দেন।
আন-নিসা 4:41
৪১. কিয়ামতের দিন তখন কী অবস্থা হবে যখন আমি প্রত্যেক নবীকে তার উম্মতের কর্মকাÐের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য নিয়ে আসবো। আর আপনাকে নিয়ে আসবো হে রাসূল! আপনার উম্মতের ব্যাপারে সাক্ষী হওয়ার জন্য।
আন-নিসা 4:42
৪২. যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছে তারা সেই মহান দিনে চাইবে, তারা যদি মাটি হয়ে যেতো তাহলে তারা ও জমিন সমান হয়ে যেতো। সেদিন তারা আল্লাহর কাছ থেকে নিজেদের কর্মকাÐের কোন কিছুই লুকিয়ে রাখতে পারবে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা সেদিন তাদের জিহŸার উপর মোহর মেরে দিবেন তখন সে জিহŸা আর কোন কথাই বলতে পারবে না। আর তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অনুমতি দিবেন তখন সেগুলো তাদের বিরুদ্ধে তাদের আমলের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে।
আন-নিসা 4:43
৪৩. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাত আদায় করো না। যতক্ষণ না তোমাদের হুঁশ ফিরে আসে এবং নিজেদের কথাগুলো পার্থক্য করতে পারো। এ বিধানটি ছিলো সম্পূর্ণরূপে মদ হারাম হওয়ার পূর্বে। আর অপবিত্র অবস্থায়ও তোমরা সালাত আদায় করো না। এমনকি সে অবস্থায় গোসল না করে মসজিদেও প্রবেশ করো না। তবে মসজিদে অবস্থান না করে পথ অতিক্রম করাতে কোন অসুবিধে নেই। আর যদি তোমাদের এমন কোন রোগ হয় যার দরুন পানি ব্যবহার সম্ভব না নয় অথবা তোমরা মুসাফির হয়ে থাকো কিংবা তোমাদের কারো ওযু নষ্ট হয়ে যায় অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস করে বসো আর তখন তোমরা পানি না পাও তাহলে তোমরা পবিত্র মাটি ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করো। তখন তোমরা তা দিয়ে নিজেদের চেহারা ও হাতগুলো মাসেহ করে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ত্রæটিগুলো ক্ষমাকারী ও তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল।
আন-নিসা 4:44
৪৪. হে রাসূল! আপনি কি ইহুদিদের কর্মকাÐ সম্পর্কে অবহিত নন যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাওরাতের আংশিক জ্ঞান দিয়েছেন; অথচ তারা হিদায়েতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে গ্রহণ করে। আর হে মু’মিনরা! তারা রাসূল আনীত সরল পথ থেকে তোমাদেরকে ভ্রষ্ট করতে উৎসাহী। যাতে তোমরা তাদের বাঁকা পথে চলো।
আন-নিসা 4:45
৪৫. হে মু’মিনরা! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের শত্রæদের সম্পর্কে তোমাদের চাইতে বেশি অবগত। তাই তিনি তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন এবং তাদের শত্রæতার ব্যাপারটিও তোমাদের সামনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন। তাই অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তোমাদেরকে তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন। তেমনিভাবে সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তোমাদেরকে তাদের ষড়যন্ত্র ও কষ্ট দেয়া থেকে রক্ষা করবেন। উপরন্তু তিনি তোমাদেরকে তাদের উপর জয়ী করবেন।
আন-নিসা 4:46
৪৬. ইহুদিদের মাঝে একটি নিকৃষ্ট সম্প্রদায় রয়েছে যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বাণীকে পরিবর্তন করে। তারা আল্লাহর নাযিলকৃত উদ্দেশ্যের বিপরীতে তার ব্যাখ্যা দেয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাদেরকে কোন কিছুর আদেশ করেন তখন তারা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলে: আমরা আপনার কথা শুনেছি ও আপনার আদেশ অমান্য করেছি। তারা ঠাট্টাচ্ছলে আরো বলে: আপনি আমাদের কথা শুনুন। আপনি যেন না শুনেন! তারা رَاعِنَا “রা-য়িনা” বলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ ধারণা দিতে চাচ্ছে যে, তারা বুঝাচ্ছে আপনি আমাদের কথা শুনুন। অথচ তারা এর মাধ্যমে রুক্ষতার অর্থই বুঝাচ্ছে। তারা এ শব্দটি বলতে গিয়ে নিজেদের জিহŸাগুলোকে একটু বাঁকা করে বলে। তারা এর মাধ্যমে মূলতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর বদদু‘আ করে এবং ধর্মকে আঘাত করার ইচ্ছা পোষণ করে। তারা যদি এ কথা তথা “আমরা আপনার কথা শুনেছি ও আপনার বিরুদ্ধাচরণ করেছি” এর পরিবর্তে বলতো: “আমরা আপনার কথা শুনেছি এবং আপনার আদেশ মেনে নিয়েছি”। তেমনিভাবে এ কথা তথা “আপনি শুনুন, আপনি যেন না শুনেন!” এর পরিবর্তে বলতো: “আপনি আমাদের কথা শুনুন”। অনুরূপভাবে এ কথা তথা “আপনি আমাদের সাথে রুক্ষতার আচরণ করুন” এর পরিবর্তে “আপনি একটু অপেক্ষা করুন; আমরা যেন আপনার কথাটুকু বুঝতে পারি” তাহলে তা তাদের পূর্বের কথা থেকে তাদের জন্য অনেক ইনসাফপূর্ণ ও কল্যাণকর হতো। কারণ, তাতে রয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সম্মানের উপযুক্ত উত্তম শিষ্টাচার। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে লা’নত করেছেন এবং তাদের কুফরির দরুন তাদেরকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন। তাই তারা তাদের জন্য লাভজনক এমন কোন ঈমান আনেনি।
আন-নিসা 4:47
৪৭. হে কিতাবধারী ইহুদি ও খ্রিস্টানরা! আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর যা নাযিল করেছি তার উপর তোমরা ঈমান আনো। যা তোমাদের নিকটে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জীলের সত্যায়নকারী হিসেবে এসেছে। সে সময় আসার আগে যখন আমি চেহারায় থাকা ইন্দ্রীয়গুলোকে মুছে সেগুলোকে তাদের পেছন দিকে দিয়ে দেবো অথবা তাদেরকে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত করবো যেমনিভাবে আমি তা থেকে বিতাড়িত করেছি শনিবার ওয়ালাদেরকে যাদেরকে শনিবারে শিকার করতে নিষেধ করার পরও তাতে তারা শিকার করে হঠকারিতা দেখিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বানররূপে বিকৃত করেছেন। বস্তুতঃ তাঁর আদেশ ও তাকদীর অবশ্যম্ভাবী।
আন-নিসা 4:48
৪৮. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টিসমূহের কোন কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করবেন না। তবে তিনি শিরক ও কুফরির নিচের গুনাহসমূহ যার জন্য চান তাঁর অনুগ্রহে ক্ষমা করবেন অথবা তাদের মধ্যকার যাদেরকে চান তাঁর ইনসাফ অনুযায়ী তাদের গুনাহসমূহের সমপরিমাণ শাস্তি দিবেন। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করবে সে যেন এক মহা পাপ রচনা করলো যার উপর মারা গেলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না।
আন-নিসা 4:49
৪৯. হে রাসূল! আপনি কি ওদের ব্যাপারে অবহিত নন যারা নিজেদের ও নিজেদের কর্মের পরিশুদ্ধতার প্রশংসা করে? বরং একমাত্র আল্লাহই তাঁর বান্দাদের যাদেরকে চান তাদের প্রশংসা করেন ও তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন। কারণ, তিনি নিশ্চয়ই অন্তরের লুক্কায়িত ব্যাপারসমূহ জানেন। বস্তুতঃ তাদের আমলসমূহের সাওয়াব কখনো কোন কিছুতেই ঘাটতি করা হবে না। যদিও তা খেজুরের দানার মধ্যকার সুতার সমপরিমাণ হোক না কেন।
আন-নিসা 4:50
৫০. হে রাসূল! আপনি দেখুন, কিভাবে তারা নিজেদের ব্যাপারে প্রশংসার মাধ্যমে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করে! এটিই তাদের ভ্রষ্টতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট পাপ হিসেবে যথেষ্ট।
আন-নিসা 4:51
৫১. হে রাসূল! আপনি কি অবগত নন এবং ইহুদিদের অবস্থা দেখে আশ্চর্য হন না যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কিছুটা জ্ঞান দিয়েছেন। অথচ তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের বানানো মা’বূদগুলোর উপর ঈমান আনে ও মুশরিকদের সাথে তাল মিলিয়ে বলে: নিশ্চয়ই তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথীদের চাইতেও বেশি সঠিক পথপ্রাপ্ত?!
আন-নিসা 4:52
৫২. যারা এ নিকৃষ্ট বিশ্বাসে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেন। আর আল্লাহ যাকে বিতাড়িত করেন আপনি তার কোন সাহায্যকারী অভিভাবক কখনোই খুঁজে পাবেন না।
আন-নিসা 4:53
৫৩. মালিকানায় তাদের কোন অংশীদারিত্ব নেই। যদি তারা এমন কিছুর মালিক হতো তাহলে তারা কাউকেই কোন কিছু দিতো না। যদিও তা খেজুরের দানার পিঠের বিন্দু সমপরিমাণ হোক না কেন।
আন-নিসা 4:54
৫৪. বরং তারা আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাথীদেরকে যে নবুওয়াত, ঈমান ও জমিনের মাঝে কর্তৃত্ব দিয়েছেন তার উপর হিংসা করে। তারা কেন ওদের সাথে হিংসা করে; অথচ আমি ইতোপূর্বে ইব্রাহীমের সন্তানদেরকে নাযিলকৃত কিতাব ও কিতাব ছাড়া যা তাদেরকে ওহী করেছি তা দিয়েছি। আর তাদেরকে দিয়েছি মানুষের উপর এক বিস্তৃত ক্ষমতা?!
আন-নিসা 4:55
৫৫. আহলে কিতাবের কেউ কেউ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সন্তনদের মধ্যকার অন্যান্য নবীদের উপর আল্লাহ তা‘আলা যা নাযিল করেছেন তার উপর ঈমান এনেছে। আবার তাদের কেউ কেউ এগুলোর উপর ঈমান আনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর এটিই নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি তাদের অবস্থান। বস্তুতঃ আগুনই তাদের মধ্যকার কাফিরের উপযুক্ত শাস্তি।
আন-নিসা 4:56
৫৬. যারা আমার আয়াতগুলোর সাথে কুফরি করেছে অচিরেই আমি তাদেরকে কিয়ামতের দিন এমন আগুনে প্রবেশ করাবো যা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। যখনই তা তাদের চামড়াগুলোকে জ্বালিয়ে দিবে তখনই আমি তাদেরকে এ চামড়াগুলো ছাড়া অন্য চামড়া দিয়ে বদলিয়ে দেবো। যাতে তাদের শাস্তি লাগাতার চলতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পরাক্রমশালী। কোন কিছুই তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। তিনি তাঁর পরিচালনা ও ফায়সালায় প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:57
৫৭. যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেছে এবং তাঁদের আনুগত্য বা নেক আমল করেছে আমি অচিরেই তাদেরকে কিয়ামতের দিন এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার অট্টালিকাসমূহের তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। এ জান্নাতগুলোতে তাদের জন্য রয়েছে এমন স্ত্রীসমূহ যারা সকল প্রকারের আবর্জনা থেকে পবিত্র। আমি অচিরেই তাদেরকে এমন ছায়ায় প্রবেশ করাবো যা ঘন ও দীর্ঘায়িত যাতে কোন ধরনের উত্তাপ ও শীত নেই।
আন-নিসা 4:58
৫৮. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে আদেশ করছেন আমানতগুলো তাদের মালিকদের নিকট পৌঁছিয়ে দিতে। তেমনিভাবে তিনি তোমাদেরকে আদেশ করছেন মানুষের মাঝে ফায়সালা করার সময় তাদের প্রতি ইনসাফ করতে। আর বিচারের ক্ষেত্রে কারো প্রতি দুর্বলতা না দেখাতে ও যুলুম না করতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সর্বাবস্থায় তোমাদেরকে যা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ও যার প্রতি পথ প্রদর্শন করছেন তা খুবই চমৎকার। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কথা শুনছেন ও তোমাদের সকল কর্মকাÐ দেখছেন।
আন-নিসা 4:59
৫৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা আদেশ-নিষেধ মান্য করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের উপরস্থ বা দায়িত্বশীলদেরও আনুগত্য করো। যতক্ষণ না তারা কোন পাপের আদেশ করে। অতঃপর কোন ব্যাপারে তোমরা পরস্পর মতভেদ করলে সে ক্ষেত্রে তোমরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাতের দিকে ফিরে যাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান এনে থাকো। কিতাব ও সুন্নাতের দিকে এ প্রত্যাবর্তন অনেক উত্তম মতপার্থক্য ও নিজেদের মতের ভিত্তিতে কথা বলায় অটল থাকার চাইতে। যা তোমাদের পরিণতির দিক থেকেও সুন্দর ও চমৎকার।
আন-নিসা 4:60
৬০. হে রাসূল! আপনি কি ইহুদিদের মধ্যকার মুনাফিকদের বৈপরীত্য দেখতে পাননি যারা মিথ্যাভাবে দাবি করে যে, তারা আপনার উপর নাযিলকৃত এবং আপনার পূর্বের রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছে। তারা নিজেদের দ্ব›দ্বপূর্ণ বিষয়াদিতে আল্লাহর শরীয়ত বাদ দিয়ে মানব রচিত বিধানের ফায়সালা নিতে চায়। অথচ তাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তা অস্বীকার করতে। বস্তুতঃ শয়তান চায় সত্য থেকে অনেক অনেক দূরে সরিয়ে দিতে। যাতে তারা হিদায়েত না পায়।
আন-নিসা 4:61
৬১. যখন এ মুনাফিকদেরকে বলা হয়, তোমরা আল্লাহ তাঁর কিতাবে যে বিধান নাযিল করেছেন তার দিকে ও রাসূলের দিকে চলে এসো। যাতে তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের বিবাদের ফায়সালা করে দিতে পারেন। তখন হে রাসূল! আপনি তাদেরকে দেখবেন, তারা আপনার থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্যের নিকট ফায়সালার জন্য যায়।
আন-নিসা 4:62
৬২. মুনাফিকদের অবস্থা কী হবে যখন পাপসমূহে লিপ্ত হওয়ার দরুন তাদের উপর বিপদসমূহ নেমে আসবে অতঃপর হে রাসূল! তারা আপনার নিকট এসে ওজর পেশ করে আল্লাহর উপর এ কসম খায় যে, আমরা আপনি ছাড়া অন্যের নিকট বিচার-ফায়সালা চাওয়ার মাধ্যমে কেবল দ্ব›দ্বকারী দু’ পক্ষের মাঝে সমঝোতা ও দয়া ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছিলাম?! অথচ তারা এ ব্যাপারে মিথ্যুক। কারণ, দয়া শুধু আল্লাহর বান্দাদের উপর তাঁর শরীয়ত বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত।
আন-নিসা 4:63
৬৩. এদের অন্তরগুলোতে যে মুনাফিকী ও নিকৃষ্ট ইচ্ছা লুক্কায়িত আছে আল্লাহ তা‘আলা তা ভালোই জানেন। তাই আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন হে রাসূল! আর আশা ও ভয় দেখিয়ে তাদেরকে আল্লাহর বিধানটুকু সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। আর তাদের অন্তরে প্রবেশ করে মতো তাদের সাথে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী বাক্য বলুন।
আন-নিসা 4:64
৬৪. আমি যে রাসূলই পাঠিয়ে থাকি না কেন তাকে এ জন্যই পাঠিয়েছি যেন আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরের ভিত্তিতে তাঁর আদেশ মান্য করা হয়। তারা যখন গুনাহে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের উপর অত্যাচার করে বসেছে তখন যদি তারা হে রাসূল! আপনার নিকট এসে আপনার জীবদ্দশায় গুনাহের কথা স্বীকার করে লজ্জিত ও তাওবারত অবস্থায় আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং আপনিও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তাহলে তারা অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলাকে তাওবা গ্রহণকারী ও দয়ালু হিসাবে পেতো।
আন-নিসা 4:65
৬৫. ব্যাপারটি তেমন নয় যা এ মুনাফিকরা ধারণা করেছে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্তার কসম খেয়ে বলেন, নিশ্চয়ই তারা সত্যিকার বিশ্বাসী হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের সকল মতপার্থক্যের বিষয়ে রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁর নিকট এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শরীয়তের নিকট ফায়সালা কামনা করে। এরপর তারা রাসূলের ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকে। উপরন্তু তাদের অন্তরে এ ব্যাপারে কোন সংশয় ও সঙ্কীর্ণতা না থাকে এবং তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আনুগত্যের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে তার সামনে আত্মসমর্পণ করে।
আন-নিসা 4:66
৬৬-৬৮. যদি আমি তাদের উপর একে অপরকে হত্যা করা অথবা তাদের ঘরসমূহ থেকে বের হওয়া ফরয করে দিতাম তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউই আমার আদেশ মানতো না। তাই তারা যেন এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের উপর কঠিন কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। যদি তারা আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ মাফিক কাজ করতো তাহলে তা বিরুদ্ধাচরণের চেয়ে অনেক উত্তম ও তাদের ঈমান আরো পরিপক্ক হতো। আর আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দিতাম এবং তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এমন পথে চলার তাওফীক দিতাম।
আন-নিসা 4:67
৬৬-৬৮. যদি আমি তাদের উপর একে অপরকে হত্যা করা অথবা তাদের ঘরসমূহ থেকে বের হওয়া ফরয করে দিতাম তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউই আমার আদেশ মানতো না। তাই তারা যেন এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের উপর কঠিন কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। যদি তারা আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ মাফিক কাজ করতো তাহলে তা বিরুদ্ধাচরণের চেয়ে অনেক উত্তম ও তাদের ঈমান আরো পরিপক্ক হতো। আর আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দিতাম এবং তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এমন পথে চলার তাওফীক দিতাম।
আন-নিসা 4:68
৬৬-৬৮. যদি আমি তাদের উপর একে অপরকে হত্যা করা অথবা তাদের ঘরসমূহ থেকে বের হওয়া ফরয করে দিতাম তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউই আমার আদেশ মানতো না। তাই তারা যেন এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের উপর কঠিন কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। যদি তারা আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ মাফিক কাজ করতো তাহলে তা বিরুদ্ধাচরণের চেয়ে অনেক উত্তম ও তাদের ঈমান আরো পরিপক্ক হতো। আর আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দিতাম এবং তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এমন পথে চলার তাওফীক দিতাম।
আন-নিসা 4:69
৬৯. যে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে সে ওদের সাথে থাকবে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে প্রবেশের নিয়ামত দিয়েছেন। তাঁরা হলেন আম্বিয়ায়ে কিরাম, সিদ্দীকীন যাদের বিশ্বাস রাসূলদের আনীত বিধি-বিধানের উপর পরিপূর্ণতা লাভ করেছে এবং তারা তার উপর আমল করেছে, শহীদগণ যাদেরকে আল্লাহর পথে হত্যা করা হয়েছে এবং নেককারগণ যাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য পরিশুদ্ধ তাই তাদের আমলগুলোও পরিশুদ্ধ। কতো চমৎকারই না জান্নাতের এ সাথীরা।
আন-নিসা 4:70
৭০. উক্ত সাওয়াবটুকু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর এক ধরনের বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ তা‘আলা তাদের অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞানী এবং অচিরেই তিনি প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:71
৭১. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা নিজেদের শত্রæর ব্যাপারে যুদ্ধের সহযোগী উপরকরণসমূহ গ্রহণের মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করো। তোমরা তাদের দিকে দলে দলে বের হও অথবা একত্রে বের হও তা তোমাদের সুবিধা অনুযায়ী এবং তোমাদের শত্রæদেরকে ঘায়েল করার লক্ষেই হতে হবে।
আন-নিসা 4:72
৭২. হে মুসলমানরা! তোমাদের মধ্যকার কিছু কিছু সম্প্রদায় কাপুরুষতার দরুন তোমাদের শত্রæদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য বের হতে গড়িমসি করে এবং অন্যদেরকেও গড়িমসি করায় উৎসাহিত করে। তারা মূলতঃ মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানদার। যদি তোমরা হত্যা কিংবা পরাজয়ের শিকার হও তখন তাদের কেউ কেউ নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে খুশি হয়ে বলে: আল্লাহ আমার উপর অনুগ্রহ করেছেন বলে আমি তাদের সাথে যুদ্ধে উপস্থিত হইনি। তা না হলে তাদের ব্যাপারে যা ঘটেছে তা আমার ব্যাপারেও ঘটতো।
আন-নিসা 4:73
৭৩. হে মুসলমানরা! যদি আল্লাহর সাহায্য ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মাধ্যমে তোমাদের নিকট তাঁর কোন অনুগ্রহ পৌঁছায় তখন জিহাদে পিছে থাকা লোকটি - যেন সে তোমাদের কেউ নয় এবং তোমাদের ও তার মাঝে কোন ভালোবাসা ও সাহচর্যই ছিলো না - অবশ্যই বলবে: হায় আপসোস! আমি যদি তাদের সাথে এ যুদ্ধে থাকতাম তাহলে তারা যা পেয়ে সার্থক হয়েছে আমিও তার বিরাট একটি অংশ পেয়ে সার্থক হতে পারতাম।
আন-নিসা 4:74
৭৪. তাই আল্লাহর পথে তাঁর বাণীকে সুউচ্চ করার জন্য সত্যবাদী মু’মিনরা যেন যুদ্ধ করে। যারা দুনিয়ার জীবনকে অনীহা ভরে বিক্রি করে দেয় আখিরাতের আশা নিয়ে। যে আল্লাহর পথে তাঁর বাণীকে সুউচ্চ করার জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যায় অথবা শত্রæর উপর জয়ী হয়ে তাকে গোলাম হিসেবে পেয়ে সার্থক হয় আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তাকে মহা সাওয়াব তথা জান্নাত ও তাঁর সন্তুষ্টি দিবেন।
আন-নিসা 4:75
৭৫. হে মু’মিনরা! আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করতে এবং নিরুপায় পুরুষ, মহিলা ও বাচ্চাদেরকে রক্ষা করার জন্য তাঁর পথে যুদ্ধ করায় তোমাদের বাধা কোথায়। যারা আল্লাহকে ডেকে বলে: হে আমাদের রব্ব! আপনি আমাদেরকে মক্কা থেকে বের করে নিন। কারণ, এর অধিবাসীরা আল্লাহর সাথে শিরক করে এবং তাঁর বান্দাদের উপর অত্যাচার করে। আর আপনি নিজ পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এমন ব্যক্তি নিযুক্ত করুন যে আমাদের ব্যাপারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। এমন সাহায্যকারী নিযুক্ত করুন যে আমাদের উপর থেকে ক্ষতির প্রতিরোধ করবে।
আন-নিসা 4:76
৭৬. সত্যবাদী মু’মিনরা আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করতে তাঁর পথে। আর কাফিররা তাদের মূর্তিগুলোর পথে যুদ্ধ করে। তাই তোমরা শয়তানের সহযোগীদের সাথে যুদ্ধ করো। কারণ, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করলে নিশ্চিত জয়ী হবে। যেহেতু শয়তানের অতি দুর্বল পরিকল্পনা আল্লাহর উপর ভরসাকারীদের কোন ক্ষতিই করবে না।
আন-নিসা 4:77
৭৭. হে রাসূল! আপনি কি আপনার কিছু সাহাবীর ব্যাপার জানেন যারা নিজেদের উপর জিহাদ ফরয হওয়া কামনা করেছে। তখন তাদেরকে বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের হাতগুলো যুদ্ধ হতে বিরত রাখো আর সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় করো। এ বিধানটি ছিলো যুদ্ধ ফরয হওয়ার আগে। তারা মদীনায় হিজরত করার পর ইসলামের রক্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পেলে সময় মতো যুদ্ধ ফরয করা হলে ব্যাপারটি কারো কারো উপর কঠিন হয়ে পড়ে। তারা মানুষকে আল্লাহর মতো অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করতে শুরু করে। তারা বলে: হে আমাদের রব! কেন আমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হলো? আপনি কেন তা ফরয করতে আরেকটু সময় দেরী করলেন না। তাহলে আমরা আরো কিছু সময় দুনিয়া ভোগ-আস্বাদন করতে পারতাম। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস তা যতোই করা হোক না কেন তা খুবই সামান্য ও নশ্বর। আখিরাতই মুত্তাকীদের জন্য সর্বোত্তম। কারণ, সেখানকার নিয়ামত চিরস্থায়ী। তোমাদের নেক আমলগুলোর কোন কমতি করা হবে না। যদিও তা খেজুর দানার মাঝের সুতার সমপরিমাণ হোক না কেন।
আন-নিসা 4:78
৭৮. তোমরা যেখানেই থাকো না কেন সময় হলে মৃত্যু তোমাদেরকে পাবেই। যদিও তোমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহু দূরে সংরক্ষিত অট্টালিকায় থাকো না কেন। এ মুনাফিকদের যদি কোন খুশির খবর তথা সন্তান ও প্রচুর রিযিক মিলে তখন তারা বলে: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের সন্তান বা রিযিকের ব্যাপারে কোন সঙ্কট লেগে যায় তখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে অমঙ্গলের কারণ মনে করে বলে: এটি তোমারই কারণে। হে রাসূল! আপনি এদের উত্তরে বলে দিন, প্রত্যেক সুখ ও দুঃখ আল্লাহর তাকদীর ও তাঁর ফায়সালা অনুযায়ী হয়ে থাকে। যাদের থেকে এ কথাটি বের হলো তাদের কী হলো; তারা কি আপনার কথা বুঝতে সক্ষম নয়?
আন-নিসা 4:79
৭৯. হে আদম সন্তান! তোমার খুশির খবর তথা রিযিক ও সন্তান যা পাও তার সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি এরই মাধ্যমে তোমার উপর অনুগ্রহ করেছেন। আর তোমার দুঃখের সংবাদ তথা তোমার রিযিক ও সন্তানের ব্যাপারে যাই ঘটুক না কেন তা সবই তোমারই পক্ষ থেকে অর্থাৎ তোমার নিজেরই পাপের কারণ। হে নবী! আমি তোমাকে সকল মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি। তুমি তাদের নিকট তাদের রবের বাণী পৌঁছে দিবে। তিনি তোমাকে যে দলীল ও প্রমাণ দিয়েছেন তারই মাধ্যমে তুমি তাঁর পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দিচ্ছো সে ক্ষেত্রে তোমার সত্যতার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা সাক্ষী হিসেবে একাই যথেষ্ট।
আন-নিসা 4:80
৮০. যে ব্যক্তি রাসূলের আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর আনুগত্য করলো সে বস্তুতঃ আল্লাহর আদেশে সাড়া দিলো। আর যে ব্যক্তি আপনার আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো হে রাসূল! আপনি তার ব্যাপারে চিন্তিত হবেন না। আমি তার পর্যবেক্ষক হিসেবে আপনাকে পাঠাইনি যে আপনি তার আমলগুলোকে সংরক্ষণ করবেন। আমিই কেবল তার আমল গুণে হিসাব নিবো।
আন-নিসা 4:81
৮১. মুনাফিকরা কেবল আপনাকে মুখে বলে: আমরা আপনার আদেশ মানছি ও আনুগত্য করছি। অতঃপর তারা আপনার আড়াল হলে তাদেরই একদল লোক গোপনে আপনার নিকট যা প্রকাশ করেছে তার বিপরীত পরিকল্পনা করে। আল্লাহ জানেন তারা কী পরিকল্পনা করে। তাই অচিরেই তিনি তাদের এ ষড়যন্ত্রের প্রতিদান দিবেন। আপনি তাদের দিকে তাকাবেনও না। কারণ, তারা কখনোই আপনার এতটুকু ক্ষতি করতে পারবে না। বরং আপনি নিজের সবকিছুই আল্লাহর নিকট সোপর্দ করুন এবং তাঁরই উপর নির্ভরশীল হোন। আল্লাহ তা‘আলা আপনার অভিভাবক হিসেবে যথেষ্ট। যাঁর উপর আপনি ভরসা করতে পারেন।
আন-নিসা 4:82
৮২. এরা কেন কুর‘আন নিয়ে গবেষণা করে না। তাহলেই তাদের নিকট এটা প্রমাণিত হতো যে, তাতে কোন ধরনের অস্থিরতা ও বৈপরীত্য নেই। তাহলে তারা আপনার আনীত বিধানের সত্যতা জানতে পারতো। কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হলে তারা তার বিধানাবলীতে অস্থিরতা ও তার অর্থসমূহে বিপুল মতভেদ দেখতে পেতো।
আন-নিসা 4:83
৮৩. এ মুনাফিকদের নিকট মুসলমানদের নিরাপত্তা ও তাদের খুশি অথবা তাদের ভয় ও চিন্তার বিষয় আসলে তারা সেটিকে প্রচার ও প্রসার করে বেড়ায়। তারা একটু স্থিরতা অবলম্বন করে ব্যাপারটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং চিন্তাশীল, জ্ঞানী ও হিতাকাক্সক্ষীদের দিকে ফিরিয়ে দিলে চিন্তাশীল গবেষকরা বুঝতে পারতো কোন্টি প্রচার করা আর কোন্টি লুকিয়ে রাখা উচিত। তোমাদের উপর ইসলাম ও কুর‘আনের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকলে আর মুনাফিকদের লিপ্ত থাকা বিষয় হতে তোমাদেরকে নিরাপত্তা না দিলে তোমাদের কম সংখ্যক ছাড়া অধিকাংশই শয়তানের কুমন্ত্রণার অনুসরণ করতো।
আন-নিসা 4:84
৮৪. হে রাসূল! আপনি আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করতে তাঁর পথে যুদ্ধ করুন আপনাকে অন্য কারো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ও তার দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হবে না। কারণ, আপনি শুধু নিজেকেই যুদ্ধের ব্যাপারে বাধ্য করতে আজ্ঞাবহ। আর আপনি মু’মিনদেরকে যুদ্ধের ব্যাপারে উৎসাহী ও আগ্রহী করে তুলুন। আশা করা যায় আল্লাহ তা‘আলা আপনাদের যুদ্ধের মাধ্যমে কাফিরদের শক্তি প্রতিহত করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও কঠোর শাস্তিদাতা।
আন-নিসা 4:85
৮৫. অন্যের কল্যাণে সচেষ্ট ব্যক্তির কিছু সাওয়াব। আর অকল্যাণে সচেষ্ট ব্যক্তিরও কিছু গুনাহ হবে। আর আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সবকর্মেরই সাক্ষী। তাই তিনি অচিরেই তাকে এর প্রতিদান দিবেন। তাই তোমাদের কেউ কোন কল্যাণ হাসিলের কারণ হলে সে তার এক ভাগ পাবে। আর যে কোন অকল্যাণ হাসিলের কারণ হবে সে তারই একটি অংশ পাবে।
আন-নিসা 4:86
৮৬. কেউ তোমাদেরকে সালাম দিলে তোমরা তার চেয়ে আরো উৎকৃষ্ট পন্থায় অথবা তার সমপর্যায়ের উত্তর দাও। তবে উত্তম পন্থায় উত্তর দেয়াই উত্তম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাÐের সংরক্ষক। তাই তিনি অচিরেই প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:87
৮৭. তিনি আল্লাহ। তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। তিনি তোমাদের আমলগুলোর প্রতিদান দেয়ার জন্য তোমাদের আদি-অন্তের সকলকে কিয়ামতের দিন অবশ্যই একত্রিত করবেন। যাতে কোন ধরনের সন্দেহ নেই। আল্লাহর চেয়ে সত্যবাদী আর কেউ নেই।
আন-নিসা 4:88
৮৮. হে মু’মিনরা! তোমাদের কী হলো, তোমরা নিজেরা মুনাফিকদের সাথে আচরণের ব্যাপারে দু’ দলে বিভক্ত হলে কেন? একদল বলছে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে। কারণ, তারা আসলেই কাফির। আরেক দল বলছে তাদের সাথে যুদ্ধ না করতে। কারণ, তারা মু’মিন?! তাদের ব্যাপারে মতভেদ করা তোমাদের জন্য উচিত নয়। আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মের কারণে তাদেরকে কুফরি ও ভ্রষ্টতার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তোমরা কি চাও ওদেরকে হিদায়েত করতে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা সত্য গ্রহণের তাওফীক দেননি?! আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তুমি তার জন্য কোন হিদায়েতের রাস্তা খুঁজে পাবে না।
আন-নিসা 4:89
৮৯. মুনাফিকরা আশা করে তোমরা যদি তাদের মতো তোমাদের উপর অবতীর্ণ বিধানের প্রতি কুফরি করতে। তাহলে এ ক্ষেত্রে তোমরা তাদের সমান হয়ে যেতে। তাই তোমরা তাদের শত্রæতার দরুন তাদের কাউকে বন্ধু বানাবে না যতক্ষণ না তারা আল্লাহর পথে শিরকের এলাকা থেকে ইসলামের এলাকার দিকে হিজরত করে। যা তাদের ঈমানের প্রমাণ বহন করবে। তারা হিজরত করা থেকে বিরত থেকে নিজেদের অবস্থার উপর অটল থাকলে তোমরা তাদেরকে যেখানে পাও ধরে হত্যা করো। আর তাদের কাউকে বন্ধু বানাবে না যে তোমাদের কর্মকাÐে তোমাদেরই সাথী হবে। আর কাউকে সাহায্যকারী বানাবে না যে তোমাদের শত্রæর বিরুদ্ধে তোমাদেরকে সাহায্য করবে।
আন-নিসা 4:90
৯০. তবে তাদের কেউ তোমাদের চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে গেলে অথবা যারা এমন অবস্থায় তোমাদের নিকট এসেছে, তাদের অন্তরগুলো এমন সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে যে, না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করে না তাদের সম্প্রদায়ের সাথে। আল্লাহ তা‘আলা চাইলে তাদেরকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার সুযোগ করে দিতে পারতেন। তাই তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা গ্রহণ করো। তাদেরকে হত্যা বা বন্দী করো না। তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে দূরে সরে গেলে উপরন্তু যুদ্ধ না করে তোমাদের সাথে সমঝোতার মানসিকতা নিয়ে নত হলে তাদের বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার বিধান হলো তাদেরকে হত্যা বা বন্দী করা যাবে না।
আন-নিসা 4:91
৯১. হে মু’মিনরা! তোমরা অচিরেই মুনাফিকদের আরেকটি দল পাবে যারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তোমাদের সামনে ঈমান প্রকাশ করবে। আর কাফির সম্প্রদায়ের সামনে এসে তাদের আস্থাশীল হতে কুফরি প্রকাশ করে। তাদেরকে আল্লাহর সাথে কুফরি ও শিরক করতে ডাকা হলে তারা কঠিনভাবে তাতে পতিত হয়। এরা তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে সমঝোতার ভাব নিয়ে তোমাদের সামনে নত না হলে উপরন্তু তোমাদের থেকে তাদের হাত গুটিয়ে না রাখলে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও ধরে হত্যা করো। যাদের বৈশিষ্ট্য এমন তাদের গাদ্দারি ও ষড়যন্ত্রের দরুন তাদেরকে ধরা ও হত্যা করার ব্যাপারে আমি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ রেখেছি।
আন-নিসা 4:92
৯২. কোন মু’মিনের জন্য উচিত নয় যে, অন্য মু’মিনকে হত্যা করা। তবে ভুলবশত হলে তা ভিন্ন কথা। কোন মু’মিনকে ভুলবশত হত্যা করলে তার কাফফারা হলো একজন মু’মিন গোলাম স্বাধীন করা। উপরন্তু হত্যাকারীর ওয়ারিশ আত্মীয়-স্বজনকে নিহতের ওয়ারিশদের হাতে তার মুক্তিপণ হস্তান্তর করতে হবে। তবে তারা তা ক্ষমা করলে তা আর দিতে হবে না। নিহত ব্যক্তি তোমাদের সাথে যুদ্ধরত সম্প্রদায়ের কোন মু’মিন সদস্য হলে হত্যাকারীকে অবশ্যই একজন মু’মিন গোলাম স্বাধীন করতে হবে এবং তার কোন মুক্তিপণ দিতে হবে না। আর নিহত ব্যক্তি মু’মিন না হলে এবং তোমাদের চুক্তিকৃত সম্প্রদায়ের হলে যেমন: আহলুয-যিম্মাহ তখন হত্যাকারীর ওয়ারিশ আত্মীয়-স্বজনকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশদের হাতে তার মুক্তিপণ হস্তান্তর করতে হবে। আর হত্যাকারীকে তার কাফফারা হিসেবে একজন মু’মিন গোলাম স্বাধীন করতে হবে। স্বাধীন করার গোলাম পাওয়া না গেলে অথবা তার মূল্য পরিশোধে অক্ষম হলে সে অবিচ্ছিন্নভাবে দু’ মাস রোযা রাখবে। এ দু’ মাসের মাঝে সে কোন রোযা বাদ দিতে পারবে না। যাতে আল্লাহ তা‘আলা তার কৃতকর্মের তাওবা গ্রহণ করতে পারেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের আমল ও নিয়্যাত সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:93
৯৩. অবৈধভাবে স্বেচ্ছায় মু’মিন হত্যাকারীর প্রতিদান হবে জাহান্নাম। তাতে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তার উপর রাগান্বিত হবেন এবং তাকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করবেন। উপরন্তু তিনি এ জাতীয় মহা পাপে লিপ্ত হওয়ার দরুন তার জন্য মহা শাস্তির ব্যবস্থাও রেখেছেন।
আন-নিসা 4:94
৯৪. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হলে বিপক্ষদের ব্যাপারে সর্বপ্রথম নিশ্চিত হবে। ইসলামকে বুঝায় এমন কিছু ব্যক্ত করলে বলো না, তুমি মু’মিন নও। তুমি তো ইসলামকে প্রকাশ করছো তোমার জবিন ও সম্পদহারা হওয়ার ভয়ে। এরপর গনীমতস্বরূপ সামান্যটুকু দুনিয়ার সম্পদ গ্রহণের জন্য তোমরা তাকে হত্যা করলে। অথচ আল্লাহর নিকট এরচেয়ে উত্তম অনেক গনীমতের সম্পদ রয়েছে। তোমরা তো ইতোপূর্বে এর মতোই ছিলে যে তার ঈমানকে তার সম্প্রদায় থেকে লুকিয়ে রাখে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দয়া করে মুসলিম বানিয়ে তোমাদের জীবনগুলো হিফাযত করেছেন। তাই তোমরা তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত হও। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের আমলের কোন কিছুই গোপন নয়। তা যতোই সূ² হোক না কেন। তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:95
৯৫. সমস্যাগ্রস্ত তথা রোগী ও অন্ধ ব্যতীত আল্লাহর পথে জিহাদ না করে বসে থাকা মু’মিন এবং আল্লাহর পথে নিজ সম্পদ ও জীবন বিলিয়ে জিহাদকারীগণ কখনো সমান নয়। আল্লাহ তা‘আলা এ ধরনের জিহাদকারীদেরকে জিহাদ না করে বসে থাকা ব্যক্তিদের উপর মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তবুও মুজাহিদ এবং কোন ওজরের কারণে জিহাদ না করে বসে থাকা ব্যক্তি তথা তাদের উভয়ের জন্য যথোপযুক্ত প্রতিদান রয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মুজাহিদদেরকে বসে থাকা ব্যক্তিদের উপর তাঁর পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দেয়ার মাধ্যমে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
আন-নিসা 4:96
৯৬. এ প্রতিদান হলো একের উপর অন্যটি থাকা অনেকগুলো মর্যাদার স্তর। এর পাশাপাশি তাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করা ও তাদেরকে দয়া করা। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।
আন-নিসা 4:97
৯৭. কুফরির এলাকা থেকে ইসলামের এলাকার দিকে হিজরত না করে নিজেদের উপর যুলুম কারীদেরকে ফিরিশতারা মৃত্যু দিয়েছে। ফিরিশতারা তাদের জান কবজের সময় তিরস্কার করে বলবে: তোমরা কোন্ অবস্থায় ছিলে? মুশরিকদের মাঝে তোমাদেরকে ভিন্ন করে চিনার ব্যাপার কী ছিলো? তখন তারা কৈফিয়তের সুরে বলবে: মূলতঃ আমরা দুর্বল ছিলাম। আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করার কোন শক্তি ও সামর্থ্য আমাদের ছিলো না। তখন ফিরিশতারা তাদেরকে তিরস্কার করে বলবে: আল্লাহর শহরগুলো কি প্রশস্ত ছিলো না যেগুলোর দিকে তোমরা বের হয়ে যেতে পারতে নিজেদের ধর্ম ও জীবনকে লাঞ্ছনা ও পরাধীনতা থেকে রক্ষা করতে? বস্তুতঃ হিজরত না করাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম যেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। যা তাদের জন্য একটি নিকৃষ্ট গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তনস্থল।
আন-নিসা 4:98
৯৮-৯৯. তবে এ ধমকি থেকে ওরাই নিস্তার পাবে যারা সমস্যাগ্রস্ত দুর্বল শ্রেণী। চাই তারা পুরুষ হোক অথবা মহিলা কিংবা বাচ্চা। যাদের কোন শক্তি ছিলো না নিজেদের উপর থেকে যুলুম ও পরাধীনতা প্রতিহত করার। তারা কোন পথের সন্ধান পায়নি পরাধীনতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। আশা করা যায়, এদেরকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ দয়া ও করুণায় ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা নিজ বান্দাদের মার্জনাকারী এবং তাদের মধ্যকার তাওবাকারীর প্রতি ক্ষমাশীল।
আন-নিসা 4:99
৯৮-৯৯. তবে এ ধমকি থেকে ওরাই নিস্তার পাবে যারা সমস্যাগ্রস্ত দুর্বল শ্রেণী। চাই তারা পুরুষ হোক অথবা মহিলা কিংবা বাচ্চা। যাদের কোন শক্তি ছিলো না নিজেদের উপর থেকে যুলুম ও পরাধীনতা প্রতিহত করার। তারা কোন পথের সন্ধান পায়নি পরাধীনতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। আশা করা যায়, এদেরকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ দয়া ও করুণায় ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা নিজ বান্দাদের মার্জনাকারী এবং তাদের মধ্যকার তাওবাকারীর প্রতি ক্ষমাশীল।
আন-নিসা 4:100
১০০. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুফরির এলাকা থেকে ইসলামের এলাকার দিকে হিজরত করলো সে অবশ্যই হিজরতকৃত জমিনে নড়াচড়ার স্থান ও নিজ পরিত্যাগকৃত জমিনের বিপরীত জমিন পাবে। যাতে সে ইজ্জত ও প্রশস্ত রিযিক অর্জন করবে। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরতের মানসে বের হয় অতঃপর হিজরতের জায়গায় পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু এসে যায় তখন তার সাওয়াব আল্লাহর উপর অবধারিত হয়ে যায়। উপরন্তু হিজরতের জায়গায় যে সে পৌছাঁনোটা তার কোন ক্ষতির কারণ হবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দার প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।
আন-নিসা 4:101
১০১. তোমরা জমিনে সফর করলে চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতকে কমিয়ে দু’ রাকাত পড়াতে কোন পাপ নেই। যদি তোমরা কাফিরদের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কোন কিছু তোমাদের ব্যাপারে ঘটে যাওয়ার ভয় পাও। বস্তুতঃ তোমাদের সাথে কাফিরদের শত্রæতা প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট।
আন-নিসা 4:102
১০২. হে রাসূল! আপনি শত্রæর সাথে যুদ্ধের সময় সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে সেনাবাহিনীকে দু’ ভাগে ভাগ করুন। তাদের একদল অস্ত্র নিয়েই আপনার সাথে নামায পড়বে। আর অন্য দলটি আপনাদের পাহারায় থাকবে। এবার প্রথম দলটি ইমামের সাথে এক রাকাত পড়ার পর তারা যেন নিজেরাই নিজেদের সালাতটুকু পুরো করে নেয়। আর তাদের সালাত শেষে তারা যেন আপনাদের পেছনে শত্রæমুখী হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে সালাত আদায় না করা পাহারাদার দলটি যেন ইমামের সাথে এক রাকাত আদায় করে। যখন ইমাম সালাম ফিরাবে তখন তারা নিজেদের বাকি সালাতটুকু পুরো করে নিবে। তারা যেন শত্রæদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং নিজেদের অস্ত্রগুলো ধারণ করে। কারণ, কাফিররা আশা করে, তোমরা সালাতরত অবস্থায় নিজেদের অস্ত্র ও সামান থেকে গাফিল হলে তারা এক যোগে আক্রমণ করে তোমাদেরকে গাফিল অবস্থায় পাকড়াও করবে। বস্তুতঃ বৃষ্টি, কষ্ট অথবা অসুস্থতার কারণে অস্ত্র বহন না করে তা জমিনে রেখে দিলে তোমাদের কোন গুনাহ হবে না। উপরন্তু তোমরা শত্রæর ব্যাপারে সাধ্যমত সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।
আন-নিসা 4:103
১০৩. হে মু’মিনগণ! তোমরা সালাত শেষে দাঁড়ানো, বসা ও কাত হয়ে শোয়া তথা সর্বাবস্থায় তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) ও তাহলীল তথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করবে। তোমাদের ভয় কেটে গেলে আর তোমরা নিরাপদ হলে তোমরা পুরোপুরিভাবে নির্দেশিত রুকন, ওয়াজিব ও মুস্তাহাবসহ সালাত আদায় করবে। নিশ্চয়ই সালাত মু’মিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরয করা হয়েছে। ওযর ছাড়া সালাতে দেরি করা জায়িয নয়। এটি হলো নিজ এলাকায় থাকাবস্থায়। তবে সফরের সময় দু’টি সালাত একত্রে ও অর্ধেক করে পড়া যাবে।
আন-নিসা 4:104
১০৪. হে মু’মিনগণ! তোমরা নিজেদের শত্রæ কাফিরদের অনুসন্ধানে দুর্বল ও অলস হয়ো না। আহত-নিহত হওয়ার দরুন ব্যথিত হলে তারাও তো তোমাদের মতো ব্যথিত হয়েছে। তাদের ব্যাপারেও তা ঘটেছে যা তোমাদের ব্যাপারে ঘটেছে। তাই তাদের ধৈর্য যেন তোমাদের চেয়ে বেশি না হয়। কারণ, তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সাওয়াব, সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছো তারা তো তা কামনা করে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল অবস্থাই জানেন। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:105
১০৫. হে রাসূল! আমি আপনার উপর সত্য সহ কুর‘আন নাযিল করেছি। যেন আপনি আল্লাহর দেয়া জ্ঞান ও ইলহাম অনুযায়ী মানুষকে সকল বিষয় বিস্তারিত বুঝিয়ে দিতে পারেন। তবে সেখানে ব্যক্তি ইচ্ছার প্রতিফলন যেন না ঘটে। আর আপনি নিজের ও আমানত খিয়ানতকারীদের পক্ষে তাদের কাছ থেকে অধিকার তলবকারীকে প্রতিহত করবেন না।
আন-নিসা 4:106
১০৬. আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মার্জনা কামনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাওবাকারী বান্দার প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আন-নিসা 4:107
১০৭. আপনি খিয়ানতকারীর সাথে ঝগড়া করবেন না যে খিয়ানত লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা এ জাতীয় মিথ্যুক আত্মসাৎকারীদেরকে ভালোবাসেন না।
আন-নিসা 4:108
১০৮. তারা ভয়ে ও লজ্জায় কোন পাপে লিপ্ত হওয়ার সময় মানুষের দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে থাকে। তবে তারা আল্লাহ থেকে কখনোই লুকোতে পারবে না। তিনি তাদের সাথেই রয়েছেন তাদেরকে বেষ্টন করে। তারা যখন আল্লাহর অপছন্দনীয় কথা যেমন: নির্দোষকে দোষীর অপবাদ দিয়ে দোষীর পক্ষপাতিত্ব করার গোপন পরিকল্পনা করে তখন তাদের কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যা কিছু করে তা সবই বেষ্টন করে আছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে তাদের সকল আমলের প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:109
১০৯. হে অপরাধীদের কর্মকাÐকে গুরুত্বদাতারা! তোমরা তো দুনিয়ার জীবনে তাদের পবিত্রতা প্রমাণ ও তাদের থেকে শাস্তি প্রতিহত করার জন্য তাদের পক্ষ হয়ে ঝগড়া করেছো। তোমাদের কে আছে এমন যে তাদের পক্ষাবলম্বন করে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে ঝগড়া করবে। অথচ সে তাদের মূল অবস্থাটি নিশ্চিতভাবে জানে?! কে সে দিন তাদের দায়িত্বশীল হবে? নিশ্চয়ই কেউ তা পারবে না।
আন-নিসা 4:110
১১০. কোন পাপী নিজের উপর যুলুম করে অতঃপর পাপ বর্জন করতঃ নিজের দোষ নিজেই স্বীকার করে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে সে সর্বদা আল্লাহকে তার গুনাহের ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসেবেই পাবে।
আন-নিসা 4:111
১১১. পাপী ছোট-বড় যে পাপই করুক না কেন সে তার শাস্তি একাই পাবে। যা অন্যের প্রতি অতিক্রম করবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:112
১১২. যে অনিচ্ছাকৃত ভুল অথবা ইচ্ছাকৃত পাপ করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে তার অপবাদ দেয় সে তা করে মূলতঃ কঠিন মিথ্যা এবং সুস্পষ্ট গুনাহই বহন করছে।
আন-নিসা 4:113
১১৩. হে রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে রক্ষা করার মাধ্যমে আপনার উপর দয়া না করলে নিজেদের খিয়ানতকারী একদল মানুষ আপনাকে সত্যভ্রষ্ট করার প্রতিজ্ঞা করতো। তখন আপনি ইনসাফবিহীন বিচার করতেন। বস্তুতঃ তারা নিজেদেরকেই পথভ্রষ্ট করছে। কারণ, পথভ্রষ্ট করার চেষ্টার পরিণাম তাদের উপরই বর্তাবে। আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপর কুর‘আন ও সুন্নাহ নাযিল করেছেন। আর তিনি আপনাকে হিদায়েত ও না জানা নূর শিক্ষা দিয়েছেন। বস্তুতঃ নবুওয়াত ও আপনাকে রক্ষা করার আল্লাহর দয়া আপনার উপর অনেক বড় ছিলো।
আন-নিসা 4:114
১১৪. মানুষের অধিকাংশ অধিকাংশ গোপন কথায় কোন লাভ ও ফায়েদা নেই। তবে ফায়েদা আছে কথাটি যদি হয় সদকা অথবা মানুষের বিবেকের সমর্থনকারী শরীয়ত আনিত কোন কল্যাণকর কাজ কিংবা দ্ব›দ্বপূর্ণ দু’ পক্ষের মাঝে কোন সমঝোতার আদেশ। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এমন করবে আমি অচিরেই তাকে মহা প্রতিদান দেবো।
আন-নিসা 4:115
১১৫. যে ব্যক্তি সত্য সুস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রাসূল আনিত বিধানের বিরোধিতা করে ও তার সাথে হঠকারিতা দেখায়। উপরন্তু সে মু’মিনদের পথ ভিন্ন অন্য কোন পথ অবলম্বন করে আমি তাকে ও তার চয়িত ব্যাপারটিকে প্রত্যাখ্যান করি এবং তাকে সত্য গ্রহণের তাওফীক দেই না। কারণ, সে ইচ্ছাকৃত সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাবো। যার উত্তপ্ততা সে ভোগ করবে। যা তার অধিবাসীদের জন্য একটি নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল।
আন-নিসা 4:116
১১৬. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে শিরক করা কখনোই ক্ষমা করবেন না। বরং মুশরিক ব্যক্তিকে জাহান্নামে চিরকাল রাখা হবে। তবে তিনি শিরক ছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে চান নিজ দয়া ও করুণায় তাকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীককারী অবশ্যই সত্যভ্রষ্ট এবং সত্য থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। কারণ, সে বস্তুতঃ ¯্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টিকে সমান করে দিয়েছে।
আন-নিসা 4:117
১১৭. এ মুশরিকরা যাদের ইবাদাত করে ও আল্লাহর সাথে যাদেরকে আহŸান করে তারা হলো বস্তুতঃ মহিলাদের নামধারী কিছু মূর্তি যেমন: লাত ও উযযা। যারা কোন ধরনের লাভ ও ক্ষতি করতে পারে না। তারা মূলতঃ এরই মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসা শয়তানেরই ইবাদাত করছে। যাতে কোন ধরনের কল্যাণ নেই। কারণ, সেই তো মানুষদেরকে মূর্তি পূজার আদেশ করেছে।
আন-নিসা 4:118
১১৮. এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাকে নিজ রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন। আর এ শয়তান তার রবকে কসম করে বলেছে: আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে আমার জন্য গ্রহণ এবং অবশ্যই সত্যভ্রষ্ট করবো।
আন-নিসা 4:119
১১৯. আমি অবশ্যই তাদেরকে আপনার সরল পথ থেকে সরিয়ে দেবো। আমি তাদের মাঝে মিথ্যা ওয়াদার আকাক্সক্ষা জন্ম দিবো যা তাদের সামনে ভ্রষ্টতাকেই সুসজ্জিত করে তুলবে। আর আমি তাদেরকে আল্লাহর হালালকৃত বস্তুকে হারাম করার জন্য পশুগুলোর কান কাটার আদেশ করবো। উপরন্তু আমি তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্টি ও ফিতরতকে পরিবর্তনের আদেশ করবো। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি শয়তানকে অনুসরণীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানাবে সে অবশ্যই এ বন্ধুত্বের কারণে সুস্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আন-নিসা 4:120
১২০. শয়তান তাদের সাথে মিথ্যা ওয়াদা করে এবং তাদেরকে বাতিল আশার বাণী শুনায়। বস্তুতঃ শয়তান তাদের সাথে বাতিল ওয়াদাই করছে। যার কোন মূল ভিত্তি নেই।
আন-নিসা 4:121
১২১. শয়তানের পদাঙ্ক ও তার শিখানো কথার অনুসারীদের ঠিকানাই হলো জাহান্নামের আগুন। এ ছাড়া তারা আর কোন পালানোর আশ্রয় বা জায়গা খুঁজে পাবে না।
আন-নিসা 4:122
১২২. যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে যা আল্লাহর নিকটবর্তী করে আমি অচিরেই তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার অট্টালিকাগুলোর তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় অনেকগুলো নদী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এটি মূলতঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে করা ওয়াদা। যাঁর ওয়াদা সবই সত্য। তিনি কখনো ওয়াদা-খিলাফ করেন না। আল্লাহর চেয়ে সত্যবাদী আর কেউ নেই।
আন-নিসা 4:123
১২৩. হে মুসলিমরা! মূলতঃ নাজাত ও সফলতার ব্যাপারটি না তোমাদের আশার অধীন, না আহলে কিতাবের। বরং তা আমলেরই অধীন। তোমাদের কেউ বদ আমল করলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার প্রতিদান দিবেন। সে তখন আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া এমন কোন অভিভাবক পাবে না যে তার কল্যাণ করতে পারে অথবা এমন কোন সাহায্যকারী পাবে না যে তার ক্ষতি প্রতিরোধ করবে।
আন-নিসা 4:124
১২৪. যে পুরুষ বা মহিলা আল্লাহর উপর সত্যিকার ঈমান রেখে নেক আমল করবে এরা ঈমান ও আমলের মাঝে সমন্বয় সাধন করেছে বলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের আমলগুলোর সামান্য সাওয়াবও কমানো হবে না। যদিও তা খেজুরের দানার পিঠে থাকা গর্ত বা ছিদ্র সমপরিমাণ সামান্যটুকুই হোক না কেন।
আন-নিসা 4:125
১২৫. ওর চেয়ে সুন্দর ধার্মিক আর কেউ হতে পারে না যে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যে আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করে এবং নিজের নিয়তকে পরিশুদ্ধ ও আমলকে শরীয়তের অনুসরণে সুন্দর করে নেয়। উপরন্তু সে কুফর ও শিরক থেকে বের হয়ে ঈমান ও তাওহীদ অভিমুখী হয় এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ধর্মেরই মূল ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্মের অনুসরণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সমূহ সৃষ্টির মধ্য থেকে পরিপূর্ণ ভালোবাসার জন্য তাঁর নবী ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে চয়ন করে নিয়েছেন।
আন-নিসা 4:126
১২৬. আকাশ ও জমিনে থাকা সবগুলোর একক মালিকানা আল্লাহর জন্য। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির সকল কিছুকে জ্ঞান, শক্তি ও পরিচালনার মাধ্যমে বেষ্টন করে আছেন।
আন-নিসা 4:127
১২৭. হে রাসূল! তারা আপনাকে মহিলা ও তাদের স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর অধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। আপনি বলুন: আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের প্রশ্নোত্তর ভালোভাবে বর্ণনা করবেন। আরো বর্ণনা করবেন তোমাদের উপর যা কুর‘আন থেকে তিলাওয়াত করা হয় তোমাদের অধীনে থাকা এতীম মেয়েদের সম্পর্কে। অথচ তোমরা আল্লাহর ফরযকৃত মোহরানা বা মিরাস তাদেরকে দিচ্ছো না এবং তাদেরকে বিবাহ করার ইচ্ছাও তোমাদের নেই। উপরন্তু সম্পদের লোভে তাদেরকে অন্যত্র বিবাহও দিচ্ছো না। তেমনিভাবে তিনি বর্ণনা করবেন নিরুপায় ছোট বাচ্চাদের জন্য যা ওয়াজিব তাও। আর তা হলো তাদেরকে মিরাসের অধিকার দেয়া এবং তাদের সম্পদ অধিগ্রহণ করে তাদের উপর যুলুম না করা। অনুরূপভাবে তিনি বর্ণনা করবেন এতীমদের ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারটি। যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের ব্যাপারগুলো সুসংহত করবে। এতীম ও অন্যান্যদের জন্য করা তোমাদের সকল কল্যাণকর কাজই আল্লাহ তা‘আলা জানেন। তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:128
১২৮. যদি কোন মহিলা তার স্বামীর পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে কোন ধরনের অনীহা ও নিরুৎসাহিতার আশঙ্কা করে তাহলে পরস্পর সমঝোতা করায় তাদের কোন গুনাহ হবে না। তথা সে তার কিছু ওয়াজিব অধিকার ছেড়ে দিবে। যেমন: খোরপোষ ও রাত্রি যাপনের অধিকার। এ ক্ষেত্রে সমঝোতা করাই তাদের জন্য অনেক উত্তম তালাকের চেয়ে। বস্তুতঃ লোভ ও কৃপণতা দিয়েই মানুষের মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। তাই সে কখনো নিজের অধিকার ছাড়তে চায় না। এ জন্য স্বামী-স্ত্রীকে অবশ্যই নিজেদেরকে দয়া ও ছাড়ের প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে এ চরিত্রের চিকিৎসা করতে হবে। যদি তোমরা সকল ক্ষেত্রে দয়ার পরিচয় দাও এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:129
১২৯. হে স্বামীরা! তোমরা কখনো বিপুল ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও হৃদয়ের আকর্ষণের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মাঝে পরিপূর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এমন কিছু কারণে যা সাধারণত তোমাদের ইচ্ছার বাইরে। তাই তোমরা যাকে ভালোবাসো না তার থেকে পরিপূর্ণভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাকে ঝুলিয়ে রাখা বস্তুর ন্যায় পরিত্যাগ করো না। না তার কোন স্বামী আছে যে তার অধিকার আদায় করবে। না তার কোন স্বামী নেই তাই সে বিবাহের জন্য উৎসুকা থাকবে। আর যদি তোমরা নিজেদের ব্যাপারগুলো সংশোধন করে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে নিজেদেরকে বাধ্য এবং সে ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করতে পারো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আন-নিসা 4:130
১৩০. যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তালাক অথবা খোলার মাধ্যমে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রত্যেককে তাঁর প্রশস্ত করুণায় অন্যের প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। পুরুষকে তার আগের স্ত্রী থেকে আরো উত্তম স্ত্রী দিয়ে তার আগের স্ত্রীর প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। তেমনিভাবে মহিলাকে তার আগের স্বামী থেকে আরো উত্তম স্বামী দিয়ে তার আগের স্বামীর প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা প্রশস্ত করুণা ও দয়ার মালিক। তাঁর তাকদীর ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:131
১৩১. একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ, জমিন ও এতুদভয়ের সবকিছুই তার মালিকানা। আমি আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টান এবং তোমাদের থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে চলবে। উক্ত অঙ্গীকার অস্বীকার করলে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করবে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের আনুগত্যের অমুখাপেক্ষী। কারণ, আকাশ ও জমিনের সবই তাঁর মালিকানাধীন। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি অমুখাপেক্ষী। তাঁর সকল কর্ম ও গুণাবলীতে তিনি সত্যিই প্রশংসিত।
আন-নিসা 4:132
১৩২. একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনে যা কিছু আছে তার মালিকানা। তিনিই আনুগত্যের উপযুক্ত। তাঁর সৃষ্টির সকল বিষয়াদির পরিচালনায় অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আন-নিসা 4:133
১৩৩. হে মানুষ! তিনি চাইলেই তোমাদেরকে ধ্বংস করে অন্যদেরকে নিয়ে আসবেন। যারা আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং তাঁর অবাধ্য হবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তা করতে সক্ষম।
আন-নিসা 4:134
১৩৪. হে মানুষ! তোমাদের কেউ নিজ আমলের মাধ্যমে শুধু দুনিয়ার প্রতিদান চাইলে সে যেন জেনে রাখে, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিদান। তাই তাঁর কাছ থেকেই সেগুলোর প্রতিদান কামনা করতে হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সব কথাই শুনছেন এবং তোমাদের সকল কাজই দেখছেন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এগুলোর প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:135
১৩৫. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা সর্বাবস্থায় ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। সবার ব্যাপারে সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করো। যদিও তা নিজেদের ও নিজেদের পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে সত্যকে স্বীকার করাটাই চায়। কারো দরিদ্রতা অথবা স্বচ্ছলতা যেন সাক্ষ্য আদায় বা তা পরিত্যাগে উৎসাহিত না করে। বস্তুতঃ আল্লাহই তোমাদের চেয়ে ধনী ও গরিবের বেশি নিকটবর্তী এবং তাদের সুবিধাদি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাই তোমরা নিজেদের সাক্ষ্যর ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। যাতে তোমরা সেখানে সত্যকে এড়িয়ে না যাও। যদি তোমরা যথোপযুক্তভাবে সাক্ষ্যটিকে আদায় না করে তাকে বিকৃত করো অথবা তা আদায় করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যক অবগত।
আন-নিসা 4:136
১৩৬. হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং যে কুর‘আনকে আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন উপরন্তু যে কিতাবগুলোকে তিনি তাঁর পূর্বেকার রাসূলদের উপর নাযিল করেছেন সেগুলোর উপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে সর্বদা অটল থাকো। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ এবং তাঁর কিতাবসমূহ ও পরকালকে অস্বীকার করে সে মূলতঃ সঠিক রাস্তা থেকে বহু দূরে সরে গিয়েছে।
আন-নিসা 4:137
১৩৭. নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর বারবার কুফরি করেছে তথা ঈমানের ছায়াতলে প্রবেশ করে তা থেকে আবার ফিরে এসেছে অতঃপর তাতে প্রবেশ করে আবারো তা থেকে ফিরে এসেছে এবং কুফরির উপর অটল থেকে তার উপর মৃত্যু বরণ করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করবেন না, না তাদেরকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিবেন যা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবে।
আন-নিসা 4:138
১৩৮. হে রাসূল! আপনি যারা কুফরিকে লুকিয়ে ঈমানকে প্রকাশ করে এমন মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য কিয়ামতের দিন রয়েছে আল্লাহর নিকট যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আন-নিসা 4:139
১৩৯. উক্ত আযাবটি এ জন্য যে, তারা মু’মিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফিরদেরকে সাহায্যকারী ও সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছে। খুবই আশ্চর্যজনক সে ব্যাপারটি যা তাদেরকে ওদের বন্ধু বানিয়েছে। তারা কি ওদের নিকট শক্তি ও প্রতিরক্ষা চায়, যার মাধ্যমে তারা উচ্চ সম্মানিত হবে?! অথচ শক্তি ও প্রতিরক্ষা সবই আল্লাহর জন্য।
আন-নিসা 4:140
১৪০. হে মু’মিনরা! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর কুরআনুল-কারীমে এ ব্যাপারটি নাযিল করেছেন যে, তোমরা কোন মজলিসে বসে এমন লোকের কথা শুনতে পেলে যে আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি ও সেগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা করে তখন তাদের মজলিসে না বসে সেখান থেকে সরে যাওয়া বাধ্যতামূলক। যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি ও সেগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা করা ছাড়া অন্য কথা বলে। তোমরা এটা শুনার পরও তাদের সাথে বসলে তোমরা তাদের মতোই আল্লাহর আদেশ অমান্য করলে। কারণ, তোমরাও তাদের সাথে বসে তাদের মতো আল্লাহর অবাধ্য হলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই কুফরিকে লুকিয়ে ইসলাম প্রকাশকারী মুনাফিকদেরকে কিয়ামতের দিন কাফিরদের সাথে জাহান্নামের আগুনে একত্রিত করবেন।
আন-নিসা 4:141
১৪১. যারা তোমাদের কল্যাণ অথবা অকল্যাণ যাই হোক না কেন তার অপেক্ষা করে অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি তোমাদের জন্য বিজয় নেমে আসে এবং তোমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আহরণ করো তখন তারা তোমাদেরকে বলে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না। আমরা সে জিনিসের সাক্ষী হয়েছি তোমরা যার সাক্ষী হয়েছো?! তথা আমরা সেখানে উপস্থিত হয়েছি যেখানে তোমরা উপস্থিত হয়েছো। যাতে তারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পেতে পারে। আর যদি কাফিরদের কোন লাভ হয়ে যায় তখন তারা তাদেরকে বলে: আমরা কি তোমাদের দায়িত্ব নেইনি। গুরুত্ব ও সহযোগিতা দিয়ে আমরা কি তোমাদেরকে বেষ্টন করে রাখিনি। আমরা কি তোমাদের সহযোগিতা ও মু’মিনদের অসহযোগিতা করে তাদের হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করিনি?! আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তোমাদের সকলের মাঝে ফায়সালা করে দিবেন। তখন তিনি মু’মিনদেরকে জান্নাতে প্রবেশের প্রতিদান দিবেন। আর মুনাফিকদেরকে জাহান্নামের তলদেশে প্রবেশের প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তা‘আলা কখনো তাঁর দয়ায় মু’মিনদের উপর কাফিরদেরকে কর্তৃত্ব করতে দিবেন না। বরং তিনি অচিরেই মু’মিনদেরকে সুপরিণতি দিবেন।
আন-নিসা 4:142
১৪২. নিশ্চয়ই মুনাফিকরা কুফরিকে লুকিয়ে ইসলাম প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চাচ্ছে; অথচ তিনি তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন। তিনি তাদের কুফরি জেনেও তাদের জীবনকে হিফাযত করেছেন। আর তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। তারা সালাতে অলসভাবে ও অস্থির মনে দাঁড়ায়। তারা শুধু মু’মিনদেরকে দেখলেই সামান্য আল্লাহর স্মরণ করে। নতুবা নয়।
আন-নিসা 4:143
১৪৩. উক্ত মুনাফিকরা অস্থিরতা ও দ্বিধা-দ্ব›েদ্ব ভুগছে। তারা না প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যভাবে মু’মিনদের সাথে, না কাফিরদের সাথে। বরং তাদের বাহ্যিক দিকটা মু’মিনদের আর ভেতরের দিকটা কাফিরদের সাথে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে পথভ্রষ্ট করবেন হে রাসূল! আপনি তার জন্য ভ্রষ্টতা থেকে বাঁচার হিদায়েতের কোন পথ খুুঁজে পাবেন না।
আন-নিসা 4:144
১৪৪. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা মু’মিনদের ব্যতিরেকে কাফিরদেরকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়ো না। তোমরা কি চাচ্ছো এ কর্মের মাধ্যমে তোমাদের বিপক্ষে আল্লাহর জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে যা তোমাদের শাস্তির উপযুক্ততা বুঝাবে।
আন-নিসা 4:145
১৪৫. আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদেরকে কিয়ামতের দিন জাহান্নামের একেবারে নিচু স্তরে রাখবেন। আপনি তাদের জন্য শাস্তি থেকে রক্ষাকারী কোন সাহায্যকারী পাবেন না।
আন-নিসা 4:146
১৪৬. তবে যারা মুনাফিকী থেকে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজেদের ভেতরকে ঠিক করে নেয় উপরন্তু আল্লাহর অঙ্গীকারকে আঁকড়ে ধরে নিজেদের আমলকে রিয়া বিহীন আল্লাহর জন্য খাঁটি করে নেয় এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা দুনিয়া ও আখিরাতে মু’মিনদের সাথেই থাকবে। আর আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই মু’মিনদেরকে বড় প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:147
১৪৭. তোমাদেরকে শাস্তি দেয়ার আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। যদি তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তাঁর উপর ঈমান আনো। কারণ, তিনি দয়াশীল করুণাময়। তবে তিনি তোমাদের গুনাহের দরুন শাস্তি দিবেন। নিজের আমলগুলোকে যথাযথ করে তাঁর নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করলে আর তাঁর উপর প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ঈমান আনলে তিনি কখনোই তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিয়ামত স্বীকারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাই তিনি তাদেরকে এর সাওয়াব দিবেন। আর তিনি তাঁর সৃষ্টির ঈমান সম্পর্কে অবগত। তাই অচিরেই তিনি প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:148
১৪৮. আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্যে খারাপ কথা বলা পছন্দ করেন না। বরং অপছন্দ করেন ও সে ব্যাপারে শাস্তির হুমকি দেন। যালিমের ব্যাপারে বিচার চাইতে গিয়ে ও তার ব্যাপারে বদদু‘আ করতে গিয়ে এবং তার সমপর্যায়ের কথার প্রতিদান দিতে গিয়ে অত্যাচারিত হলে তার জন্য জায়িয খারাপ কথাটি প্রকাশ্যে বলা। তবে এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণই উত্তম। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কথাগুলো শুনেন এবং তোমাদের নিয়্যাতসমূহ জানেন। তাই তোমরা খারাপ কথা বলা ও তার ইচ্ছা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
আন-নিসা 4:149
১৪৯. তোমরা যে কোন ভালো কথা বা কাজ প্রকাশ্যে করো অথবা গোপনে কিংবা তোমাদের প্রতি দুর্ব্যবহারকারীদেরকে ক্ষমা করে দাও নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল শক্তিধর। তাই ক্ষমা করাই তোমাদের চরিত্র হওয়া উচিত। আশা করা যায় আল্লাহও তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।
আন-নিসা 4:150
১৫০. যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে কুফরি করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায়, যে আল্লাহর উপর ঈমান আনবে আর তাঁর রাসূলদের সাথে কুফরি করবে। উপরন্তু তারা বলে: আমরা কিছু রাসূলের উপর ঈমান আনবো আর কিছুর সাথে কুফরি করবো। মূলতঃ তারা চায় ঈমান ও কুফরির মাঝে ভিন্ন একটি পথ সৃষ্টি করতে যা তাদের ধারণামতে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে।
আন-নিসা 4:151
১৫১. যারা এ পথ অবলম্বন করে তারা সত্যিকারার্থেই কাফির। তা এ জন্য যে, যারা সকল রাসূলের সাথে কুফরি করে অথবা তাঁদের কারো সাথে সে যেন আল্লাহ ও তাঁর সকল রাসূলের সাথে কুফরি করলো। আর আমি কাফিরদের জন্য কিয়ামতের দিন লাঞ্ছনাকর আযাবের ব্যবস্থা রেখেছি। উপরন্তু অহঙ্কারবশত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের উপর ঈমান না আনার দরুন তাদের জন্য শাস্তির বিশেষ আয়োজনও রয়েছে।
আন-নিসা 4:152
১৫২. যারা একমাত্র আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে না উপরন্তু তাঁর সকল রাসূলকে বিশ্বাস করে ও কাফিরদের মতো তাঁদের কারো মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি না করে সকলের উপরই ঈমান আনে তাদেরকে ঈমান ও নেক আমলের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তা‘আলা মহা পুরস্কার দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আন-নিসা 4:153
১৫৩. হে রাসূল! ইহুদিরা আপনার নিকট চাইবে যেন পুরো কিতাবটি তাদের উপর এক বারে আকাশ থেকে নাযিল করা হয় যেমন তা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারে ঘটেছে। যা আপনার সত্যতার আলামত হবে। আপনি তাদের এ চাওয়াকে বেশি বড় মনে করবেন না। কারণ, তাদের পূর্ববর্তীরা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট এর চেয়ে আরো বড় কিছু তথা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে চায়। তখন তাদের অপকর্মের শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে বজ্রপাতে মৃত্যু দেয়া হয়। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আবারো জীবিত করেছেন। এরপর তাদের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী আসার পরও - যা আল্লাহর একত্ববাদ এবং রুবূবিয়্যাত ও উলূহিয়্যাতে তাঁর একক মালিকানা বুঝায় - তারা আল্লাহ ব্যতিরেকে গো বাছুরের পূজা করে। এরপরও আমি তাদেরকে ক্ষমা করি আর মূসাকে তাঁর বংশের উপর সুস্পষ্ট প্রমাণ দেই।
আন-নিসা 4:154
১৫৪. আমি তাদের কাছ থেকে শক্ত অঙ্গীকার গ্রহণের জন্য তাদের মাথার উপর পাহাড় উঁচিয়ে ধরি। যাতে তারা ভয়ে তার উপর আমল করে। আর আমি তা উঁচিয়ে ধরার পর তাদেরকে বললাম: তোমরা বাইতুল-মাক্বদিসের দরজা দিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে সাজদারত অবস্থায় তাতে প্রবেশ করো। তখন তারা পিঠ বাঁকিয়ে তাতে প্রবেশ করে। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা শনিবার মাছ শিকারের হঠকারিতা দেখিও না। তখন তারা হঠকারিতা দেখিয়ে মাছ শিকার করে। অথচ আমি ইতোপূর্বে এ ব্যাপারে তাদের থেকে শক্ত ও কঠিন অঙ্গীকার নেই। কিন্তু তারা সে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে।
আন-নিসা 4:155
১৫৫. ফলে আমি তাদেরকে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করেছি। কারণ, তারা নিজেদের শক্ত অঙ্গীকারটি ভঙ্গ করেছে, আল্লাহর আয়াতগুলোর সাথে কুফরি করেছে, নবীদেরকে হত্যা করার সাহসিকতা দেখিয়েছে এবং তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলেছে: আমাদের অন্তরগুলো আচ্ছাদিত। আপনি যা বলেন তা বুঝতে সক্ষম নয়। অথচ ব্যাপারটি তেমন যা তারা বলেছে। বরং আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন ফলে তাতে কোন কল্যাণই পেঁছাবে না। তাই তারা সামান্যটুকুই ঈমান আনবে যা তাদের কোন উপকার করতে পারবে না।
আন-নিসা 4:156
১৫৬. আমি তাদেরকে কুফরির কারণে এবং মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) কে ব্যভিচারের মিথ্যা ও অমূলক অপবাদ দেয়ার কারণে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করি।
আন-নিসা 4:157
১৫৭. আর আমি তাদেরকে লা’নত করি। কারণ, তারা মিথ্যাভাবে অহঙ্কার করে বলে: আমরা আল্লাহর রাসূল মাসীহ ‘ঈসা বিন মারইয়ামকে হত্যা করেছি। অথচ তারা না হত্যা করেছে, না তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে। যা তাদের ধারণা। বরং তারা এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে যার উপর আল্লাহ তা‘আলা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাদৃশ্য ঢেলে দিয়েছেন। তারা মূলতঃ তাকেই ক্রুশবিদ্ধ করেছে। অথচ তাদের ধারণা তারা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কেই হত্যা করেছে। যারা তাঁর হত্যার দাবি করছে তারা হলো ইহুদি। আর যারা তাঁকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে তারা হলো খ্রিস্টান। তারা উভয়ই তাঁর ব্যাপারে সন্দেহ ও অস্থিরতায় ভুগছে। তাদের কারোরই তাঁর সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তারা কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করছে। আর অনুমান কখনো সত্য উদঘাটনে কোন উপকারে আসে না। বস্তুতঃ তারা না ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে হত্যা করেছে। না তারা তাঁকে নিশ্চিত ক্রুশবিদ্ধ করেছে।
আন-নিসা 4:158
১৫৮. বরং আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে উদ্ধার করে শরীর ও রূহ সমেত তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতায় পরাক্রমশালী। কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। তেমনিভাবে তিনি তাঁর শরীয়ত, ফায়সালা ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।
আন-নিসা 4:159
১৫৯. শেষ যুগে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর অবতরণের পর তাঁর মৃত্যুর আগেই আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই তাঁর উপর ঈমান আনবে। আর কিয়ামতের দিন ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) তাদের কর্মকাÐের সাক্ষী হবেন। তা শরীয়তের পক্ষে হোক অথবা বিপক্ষে।
আন-নিসা 4:160
১৬০. ইহুদিদের যুলুমের কারণেই আমি তাদের পূর্বের কিছু পবিত্র ও হালাল খাদ্য তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি। আমি প্রত্যেক নখ বিশিষ্ট প্রাণী এবং গরু ও ছাগলের চর্বি তাদের উপর হারাম করে দিয়েছি। তবে সেগুলোর পিঠের চর্বি তাদের জন্য হালাল। যেহেতু তারা নিজেদের ও অন্যদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা প্রদান করেছে। এমনকি কল্যাণের পথে বাধা প্রদান তাদের চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
আন-নিসা 4:161
১৬১. যেহেতু তারা সুদের লেন-দেন করে; অথচ সুদ গ্রহণ করতে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নিষেধ করেছেন। আর যেহেতু তারা শরীয়তের কোন অধিকার ছাড়া মানুষের সম্পদ গ্রাস করে নিচ্ছে। বস্তুতঃ আমি তাদের মধ্যকার কাফিরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছি।
আন-নিসা 4:162
১৬২. তবে জ্ঞানে দৃঢ় ও পরিপক্ক ইহুদিরা আর হে রাসূল! মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত কুর‘আনকে বিশ্বাস করে। তারা আপনার পূর্বেকার রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাব তাওরাত এবং ইঞ্জীলেও বিশ্বাস করে। উপরন্তু তারা সালাত কায়িম করে, নিজেদের সম্পদের যাকাত দেয়, আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করে। যাঁর কোন শরীক নেই। তেমনিভাবে তারা কিয়ামতের দিনকে বিশ্বাস করে। বস্তুতঃ এ বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারীদেরকে আমি অচিরেই মহা প্রতিদান দেবো।
আন-নিসা 4:163
১৬৩. হে রাসূল! আমি আগের নবীদের মতো আপনার নিকটও ওহী পাঠিয়েছি। তাই আপনি নতুন কোন রাসূল নন। ইতোপূর্বে আমি নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট ওহী পাঠিয়েছি। আরো পাঠিয়েছি তাঁর পরবর্তী নবীদের নিকট। তেমনিভাবে ওহী পাঠিয়েছি ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট এবং তাঁর দু’ সন্তান ইসমাঈল ও ইসহাকের নিকট। অনুরূপভাবে ইয়া’কূব ইবনু ইসহাক ও তাঁর বংশধরের নিকট। তাঁরা হলেন ইয়া’ক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর সন্তানদের বারোটি ইসরাঈল গোত্রে প্রেরিত নবী। আর আমি দাঊদ (আলাইহিস-সালাম) কে যাবূর নামক কিতাব দিয়েছি।
আন-নিসা 4:164
১৬৪. আমার প্রেরিত অনেক রাসূলের বর্ণনা আমি আপনার নিকট প্রেরিত কুর‘আনে দিয়েছি। আবার অনেক প্রেরিত রাসূলের বর্ণনা আমি আপনার কুর‘আনে দেইনি। কৌশলগত কারণে আমি তাঁদেরকে কুর‘আনে উল্লেখ করিনি। আর আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে সম্মানিত করার জন্য তাঁর সাথে কোন মাধ্যম ছাড়া নবুওয়াতের বাস্তব ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলেছেন। তা ছিলো বাস্তব কথা যা তাঁর সাথে মানায় এবং তা ছিলো মূসা (আলাইহিস-সালাম)।
আন-নিসা 4:165
১৬৫. মু’মিনদেরকে সম্মানজনক প্রতিদানের সুসংবাদ এবং কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ভয় দেখানোর জন্য আমি তাদেরকে পাঠিয়েছি। যাতে রাসূলদেরকে পাঠানোর পর আল্লাহর নিকট মানুষের জন্য এমন কোন কৈফিয়ত না থাকে যা তারা ওজর হিসেবে পেশ করবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মালিকানায় মহাপরাক্রমশালী ও তাঁর ফায়সালায় মহাবিজ্ঞানী।
আন-নিসা 4:166
১৬৬. হে রাসূল! ইহুদিরা আপনার সাথে কুফরি করলে আল্লাহ তা‘আলা আপনার প্রতি প্রেরিত কুর‘আনের বিশুদ্ধতার সত্যায়ন করছেন। তিনিই তাতে তাঁর এমন জ্ঞান নাযিল করেছেন যা তাঁর বান্দাদেরকে জানানোর তিনি ইচ্ছা পোষণ করেছেন। যা তিনি পছন্দ করেন ও যার উপর তিনি সন্তুষ্ট অথবা যা তিনি অপছন্দ করেন ও অস্বীকার করেন। তেমনিভাবে আল্লাহর পাশাপাশি ফিরিশতারাও আপনার আনীত কুর‘আনের সত্যতার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ নিজেই যথেষ্ট। তাতে অন্য কারো সাক্ষ্যর প্রয়োজন নেই।
আন-নিসা 4:167
১৬৭. যারা আপনার নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে আর ইসলাম গ্রহণে মানুষকে বাধা দিয়েছে নিশ্চয়ই তারা সত্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
আন-নিসা 4:168
১৬৮. নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করেছে এবং কুফরির উপর অটল থেকে নিজেদের উপর যুলুম করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ কুফরিতে অবিচল থাকা ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাদেরকে না এমন পথ দেখাবেন যা শাস্তি থেকে রক্ষা করবে।
আন-নিসা 4:169
১৬৯. তবে সে পথই দেখাবেন যা তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দিবে। যাতে তারা সর্বদা থাকবে। আর এটি আল্লাহর জন্য খুবই সহজ। কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।
আন-নিসা 4:170
১৭০. হে মানুষ! তোমাদের নিকট রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়েত ও সত্য ধর্ম নিয়ে এসেছেন। তাই তোমাদের কাছে আনা বিষয়ে ঈমান আনো তাহলেই দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের কল্যাণ হবে। আর আল্লাহর সাথে কুফরি করলে আল্লাহ তা‘আলা নিশ্চয়ই তোমাদের ঈমানের মুখাপেক্ষী নন। তোমাদের কুফরি তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আসমান, জমিন ও এতদুভয়ের মাঝে থাকা সবকিছুর মালিক শুধু আল্লাহ। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা জানেন কে হিদায়েতের উপযুক্ত। তখন আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য হিদায়েতের পথ সহজ করে দেন। আর অনুপযুক্তকে আল্লাহ তা‘আলা তা থেকে দূরে রাখেন। তিনি তাঁর কথা, কাজ, শরীয়ত ও তাক্বদীরে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসা 4:171
১৭১. হে রাসূল! আপনি ইঞ্জীলে বিশ্বাসী খ্রিস্টানদেরকে বলুন: তোমরা নিজেদের ধর্মীয় ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না। আর আল্লাহর উপর ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলো না। নিশ্চয়ই মাসীহ ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম আল্লাহর রাসূল। যাঁকে আল্লাহ তা‘আলা সত্যসহ প্রেরণ করেন। তিনি তাঁকে সেই কালিমা দিয়ে সৃষ্টি করেন যাসহ তিনি জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) কে মারইয়ামের নিকট পাঠান। তা হলো তাঁরই বাণী “কুন” তুমি হয়ে যাও তখন তিনি হয়ে গেলেন। সেটি ছিলো মূলতঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ফুঁ যেটি জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহর আদেশে দিয়েছেন। তাই তোমরা বিনা পার্থক্যে আল্লাহ ও তাঁর সকল রাসূলের উপর ঈমান আনো। আর তোমরা বলো না যে, ইলাহ হলো তিনজন। তোমরা এ জাতীয় মিথ্যা ও অসার কথা থেকে ফিরে আসো। তাহলে তোমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে মঙ্গল হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা এক ইলাহ। তিনি শরীক ও সন্তান থেকে পবিত্র। তিনি অমুখাপেক্ষী। আসমান, জমিন ও এতদুভয়ের মাঝের সব কিছুর মালিক তিনি। আর এ সব কিছুর তত্ত¡াবধায়ক ও পরিচালক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আন-নিসা 4:172
১৭২. ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম কখনো আল্লাহর গোলাম হওয়াকে না অস্বীকার করেন; না ঘৃণা করেন এবং ফিরিশতারাও না। কারণ, এরা আল্লাহ তা‘আলার নিকটবর্তী করেছেন এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী আল্লাহর খাঁটি বান্দা। তাই তোমরা কীভাবে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে ইলাহ বা মা’বূদ সাব্যস্ত করছো?! আর মুশরিকরাই বা কীভাবে ফিরিশতাগণকে ইলাহ সাব্যস্ত করে?! যারা মূলতঃ আল্লাহর ইবাদাত করা ঘৃণা করে এবং তা করা থেকে নিজকে আরো উঁচু মনে করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা শিগগীরই সকলকে কিয়ামতের দিন তাঁর নিকট একত্রিত করে প্রত্যেককে তার যথোপযুক্ত প্রতিদান দিবেন।
আন-নিসা 4:173
১৭৩. আল্লাহতে ঈমান এনে ও তাঁর রাসূলদেরকে সত্য জ্ঞান করে আল্লাহর শরীয়ত যথাযথ মেনে নিষ্ঠার সাথে নেক আমলকারীদেরকে তিনি কোন ঘাটতি ছাড়া তাদের আমলের অবারিত প্রতিদান দিবেন। তিনি তাঁর দয়া ও করুণায় তাদের সাওয়াব আরো বাড়িয়ে দিবেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদাত ও তাঁর আনুগত্যে অবহেলাকারী অহঙ্কারী এবং দাম্ভিকদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন। আল্লাহ ছাড়া সেদিন তারা অভিভাবক হিসেবে এমন কাউকে পাবে না যে সাহায্যকারী হয়ে তাদের ক্ষতি প্রতিহত করবে।
আন-নিসা 4:174
১৭৪. হে মানুষ! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে যা সকল ওজর বন্ধ করে ও সন্দেহ দূর করে। তিনি হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আর আমি তোমাদের উপর নাযিল করেছি পরিষ্কার আলো। তা হলো এ কুর‘আনুল-কারীম।
আন-নিসা 4:175
১৭৫. সুতরাং যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে আর তাদের নবীর উপর অবতীর্ণ কুর‘আন মাজীদকে আঁকড়ে ধরেছে যা করা হয়েছে আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে তাদের উপর দয়া করে তাদের সাওয়াব আরো বাড়িয়ে তাদের মর্যাদা আরো উন্নত করবেন। উপরন্তু তাদেরকে তিনি বক্রতাহীন সরল পথে চলার তাওফীক দিবেন। যে রাস্তা জান্নাতে আদন পর্যন্ত পৌঁছে দিবে।
আন-নিসা 4:176
১৭৬. হে রাসূল! তারা আপনাকে কালালার মিরাসের বিষয়ে তাদেরকে ফতোয়া চাইবে। মৃত্যুর সময় সে তার কোন পিতা ও সন্তানহীন হলো কালালা। আপনি বলুন, আল্লাহ তার ব্যাপারে বিধান বর্ণনা করছেন। যদি এমন কোন ব্যক্তি মারা যায়। যার কোন পিতা ও সন্তান নেই। তবে তার একটি আপন বা বৈমাত্রেয় বোন রয়েছে। তখন সে তার নির্ধারিত পাওনা হিসেবে মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক পাবে। আর তার আপন বা বৈমাত্রেয় ভাই আসাবা হিসেবে মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তির পুরোটাই পাবে যদি তার সাথে নির্ধারিত কোন পাওনাদার না থাকে। যদি তার সাথে নির্ধারিত পাওনাদার কেউ থাকে তখন তার পাওনাটুকু বাদ দিয়ে বাকিটুকু মিরাস হিসেবে পাবে। আর যদি আপন বা বৈমাত্রেয় বোন দু’ বা ততোধিক থাকে তখন তারা তাদের নির্ধারিত পাওনা হিসেবে সম্পদের দু’ তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তার আপন বা বৈমাত্রেয় ভাই-বোন উভয়ই থাকে তখন তারা আসাবা হিসেবে “ছেলে দু’ মেয়ের সমান অংশ পাবে” সূত্রের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারী হবে। তথা ছেলেকে মেয়ের অংশের দ্বিগুণ দেয়া হবে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য কালালা ইত্যাদির মিরাসের বিধান বর্ণনা করেছেন যেন তোমরা তার ব্যাপারে পথভ্রষ্ট না হও। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছু লুক্কায়িত নয়।